ছেলের পিতৃত্বের দাবিতে মায়ের মামলা,আদালতের নির্দেশে ডিএনএ টেষ্ট

প্রকাশিত

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের নিকলীতে এক বিধবার সন্তানের পিতৃত্বের দাবিতে আদালতে মামালা করায় সন্তান শাকিব(৩) ও প্রেমিক লাট মিয়ার ডিএনএ টেষ্ট করতে নির্দেশ দিয়েছে কিশোরগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল ।
বিধবা জরিনা খাতুন (৩৫) উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের সাজনপুর গ্রামের মৃতঃ মান্না মিয়ার স্ত্রী বলে জানা যায়।
মামলা সূত্রে জানা যায়,জরিনা খাতুনের স্বামী মান্না মিয়া একজন রিক্সা চালক ছিলেন। ২০১২ সালে দুই মেয়ে এবং দুই ছেলে সন্তান রেখে আকস্মিকভাবে মারা যায়। দুই মেয়ে ঢাকায় বুয়ার কাজে,এক ছেলে চায়ের দোকানে দিয়ে,ছোট ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করে অভাব-অনটনের মধ্য দিয়েই নির্জন বাড়িতে জরিনার দিনাতিপাত চলছিলো।
হঠাৎ জরিনার মোবাইলে একই ইউনিয়নের আঠারো বাড়িয়া গ্রামের প্রভাবশালী আব্দুল কাদিরের পুত্র লাট মিয়া (২৬) এর রং নাম্বারের পরিচয় হয়। সে থেকেই বিধবা জরিনা ও লাট মিয়ার নিয়মিত ফোনে আপলাপনে দুজনের সর্ম্পক গভীর হয়ে ওঠে।এক সময়ে লাট মিয়া বিধবা জরিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। সে থেকেই রাতের আধারে বিধবা জরিনার ঘরে রাতকাটাতে শুরু করে লাট মিয়া।কিছুদিন পর বিধবা জরিনার গর্ভে সন্তান আসে,এ বিষয়টি জানার পর লাট মিয়া জরিনা ঘরে আসা-যাওয়া ও তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। সন্তান ধারণের বিষয়টি পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে,স্থানীয় চেয়ারম্যান,মেম্বারসহ গন্যমান্য ব্যাক্তিদের নিকট বিচার প্রার্থী হয় জরিনা। তাদের কাছে বিচারে ব্যর্থ হয়ে নিকলী থানায় মামলা করতে আসে , প্রভাবশালীদের ছত্র-ছায়ায় থানাতেও মামলা করতে পারেনি জরিনা। অবশেষে ২০১৬ সালের ৯ই জুন কিশোরগঞ্জ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মামলা রুজু করেন বিধবা জরিনা। এ মামলায় লাট মিয়া ৩মাস হাজত বরণ করেন। এরই ফাঁকে বিধবা জরিনার কোলে আসে ফুটফুটে এক ছেলে সন্তান,যার নাম রাখা হয়েছে শাকিব। লাট মিয়ার পিতা আব্দুল কাদির (৫৫) ছেলেকে মামালা মুক্ত করতে কৌশলে জরিনাকে নিজেই বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। তাতে জরিনা রাজি হননি। উপায়ন্তর না পেয়ে কিছুদিন পর লাট মিয়া ও জরিনাকে মুন্সি বিয়ে করান পিতা আব্দুল কাদির । বিয়ের পর জরিনাকে লাট মিয়া নিজ বাড়িতে না নিয়ে, প্রয়াত স্বামীর বাড়িতেই থাকতে ও মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করছিলো।
জরিনা,তাদের কৌশল বুঝে আদালত থেকে মামলা প্রত্যাহার করেনি। বিয়ের পরও লাট মিয়া ও তার পরিবার-পরিজন জরিনাকে চরিত্রহীনা বলে অপবাদ দিতে থাকে। লাট মিয়ার ঔরশ জাত সন্তান শাকিবকে বরাবরই অস্বীকার করে আসছে বলে জানায় জরিনা ও তার প্রতিবেশীরা।এমন দাবিতে,বাদী জরিনা,সন্তান শাকিব ও লাট মিয়ার ডিএনএ টেষ্ট এর নির্দেশ দেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক কিরণ শংকর হালদার। আদালতের নির্দেশমতে নিকলী থানা পুলিশের হেফাজতে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় তাদের ডিএনএ টেষ্ট এর জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ প্রতিনিধির নিকট,মামলা তদন্ত কর্মকর্তা ও নিকলী থানার এস.আই.মোঃ মনজুরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

Shares
আরো পড়ুন :  চেলসি চাকরি হারাচ্ছেন কোচ কন্তে!