নওগাঁয় জমিজমা বিরোধে আহত-৩

প্রকাশিত

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষে তিন জন আহত হয়েছে। এঘটনায় থানায় একটি লিখিত আভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগিরা।
বুধবার দুপুরের দিকে সদরের চক এনায়েত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, চকমুক্তার এলাকার আরিফুল হক রানার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৩২), সুরাইয়ার বাবা রফিকুল আলম (৫২) এবং মৃত আজিজুল হকের ছেলে আরিফুল হক রানা।
মামলা সূত্রে জানাগেছে, সদরের চক এনায়েত এলাকায় রফিকুল আলম এর ছেলে নুরুল আলম তার ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে বাড়ি করে দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করে আসছে। তার বাড়ির পার্শে একই এলাকার মৃত ফয়েজ উদ্দীনের ছেলে আলতাফ হোসেন তার বাড়ির মেঝের কার্নিস ও টয়লেটের পাইপ নুরুল আলম এর জায়গাতে বসান এ নিয়ে নুরুল আলম এর বাবা রফিকুল আলম ও তার মেয়ে সুরাইয়া বেগম তাতে বাঁধা প্রদান করে এবং গত ১৫ই জানুয়ারী রফিকুল আলম পৌরসভায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পৌরসভা হতে বিষয়টি তদন্ত করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য গত ২০ জানুয়ারী আলতাফ হোসেনকে নির্দেশ দেন। কিন্তু আলতাফ হোসেন সেই নির্দেশ অমান্য করে (৬জানুয়ারী) বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এসে পুনরায় ঐ জায়গায় কাজ শুরু করেন এসময় রফিকুল আলমের মেয়ে সুরাইয়া বেগম তাতে বাঁধা প্রদান করলে আলতাফ হোসেন ও তার স্ত্রী সাজেদা বেগম, তার মেয়ে আমেনা, ফাতেমা ও আ: জলিল এ ছেলে সুমন হেসেন দেশীয় অস্ত্র লোহার রড দিয়ে সুরাইয়াকে এলোপাতাড়ি ভাবে মারধোর শুরু করে এসময় তার বাবা রফিকুল আলম এগিয়ে আসলে তাকেও মারধোর শুরু করেন। খবর পেয়ে রফিকুলের জামাই সুরাইয়ার স্বামী আরিফুল হক (রানা) ছুটে আসলে তাকেও মারধোর করে আসামীরা। এসময় তাদের আত্ম চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গুরুত্বর আহত অবস্থায় রফিকুল ইসলাম ও তার মেয়ে সুরাইয়া বেগম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এঘটনায় সুরাইয়া বেগমের স্বামী মো: আরিফুল হক রানা বাদী হয়ে ৫জনকে আসামী করে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
মামলার বাদী সুরাইয়া বেগম বলেন, আমাদের জায়গাতে আলতাফ হোসেন জোর পূর্বক তাদের মেঝের কার্নিস ও টয়লেটের পাইপ স্থাপন করে আমরা বাদী হয়ে পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দেই পৌরসভা থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু তারা নির্দেশ অমান্য করে বুধবার সকালে প্রায় ১০-১২জন লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এসে পুনরায় টয়লেটের পাইপ স্থাপনের কাজ শুরু করে এসময় আমি বাঁধা দিতে গেলে তারা আমাকে এলো পাতাড়ি ভাবে মারতে শুরু করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে।
মামলার বাদী রফিকুল আলম বলেন, আমার মেয়ের আত্মচিৎকার শুনে আমি ছুটে যাই সে সময় তারা আমাকেও মারধোর করে এবং লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে আমি মাথা সরিয়ে নিলে আমার ডান চোখের নিচে লাগে। আমি এর সুষ্ট বিচার দাবী করছি।
মামলার বিবাদী আলতাফ হোসেন ও তার মেয়ে আমেনা অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, পৌরসভা এবং থানা থেকে নির্দেশের পর আমরা সেই জায়গার পাইপ খুলে নেই। এবং সেই জায়গার কাজ বন্ধ রাখি কিন্তু (৬জানুয়ারী) বুধবার সকালে তারা ঐ জায়গাতে বেড়া দিচ্ছিল ঐ জায়গাটা হচ্ছে একটা গলি সেদিক দিয়ে অনেক মানুষ চলাচল করে। বেড়া দেওয়াতে আমাদের চলা ফেরা বা কাজ কর্মের অসুবিধা হবে এটিই বলতে গেছিলাম আমরা কোন কাজ করতে নয়। বেড়া দেওয়া নিষেধ করলে তারা আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয় এবং রফিকুল আলমের জামাই আমাদের উদ্দেশ্য করে ইট ছুড়তে থাকে। এবং আমাদের মারধোর করে আমরা তাদের কোন রকম মারপিট করিনি। আমরা বর্মমানে আহত হয়ে হাসপালে ভর্তি হয়ে আছি।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) আব্দুল হাই বলেন, চক এনায়েতের মারপিটের ঘটনায় থানায় একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।

3Shares
আরো পড়ুন :  নওগাঁয় ট্রাক্টর উল্টে নিহত ১