জনতা ব্যাংকের এক হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা লোপাট, ক্রিসেন্টের পুকুরচুরি!

প্রকাশিত

ডেস্ক নিউজঃ ভুয়া রপ্তানি দেখিয়ে ১ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা লোপাট করেছে ক্রিসেন্ট গ্রুপ। অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার ভাই জাজ মাল্টিমিডিয়ার মালিকসহ জনতা ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে অনুসন্ধান শেষে দুদকের প্রতিবেদনে ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করা হয়েছে। শিগগিরই কমিশন মামলা করবে বলে জানা গেছে। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে সন্দেহভাজনদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দুদকের অনুসন্ধান সূত্র বলছে, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বিদেশে পণ্য রপ্তানি দেখিয়ে জনতা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ করপোরেট শাখা থেকে ১ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় ক্রিসেন্ট গ্রুপ। পরে ওই অর্থ দুবাই, থাইল্যান্ড, ইতালি ও সিঙ্গাপুর পাচার করা হয়। এ জালিয়াতিতে জড়িত ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ কাদের, রিমেক্স ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আব্দুল আজিজ, জনতা ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম এবং বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের ডিএমডি রেজাউল করিমসহ মোট ২০ জনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ মামলার সুপারিশ করা হয়েছে দুদকের প্রতিবেদনে। এদিকে ৯১৯ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ কাদের ও জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে গত ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর চকবাজার থানায় পৃথক তিনটি মামলা করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। একই ঘটনায় টাকা উদ্ধারে অর্থঋণ আদালতে মামলা করেছে জনতা ব্যাংক। গত ৩০ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয় গ্রুপটির চেয়ারম্যানকে। এ ছাড়া ঋণ জালিয়াতির অন্যতম সহযোগী ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার মালিক আব্দুল আজিজসহ অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হবে। তিন মামলায় অপর আসামিরা হলেন ক্রিসেন্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা বেগম মনি, রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ ও এমডি লিটুল জাহান (মিরা), জনতা ব্যাংক লিমিটেডের ডিএমডি (সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন জিএম) জাকারিয়া হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ডিএমডি (তৎকালীন জিএম, জনতা ব্যাংক লিমিটেড) ফখরুল আলম, জনতা ব্যাংকের জিএম মো. রেজাউল করিম, ডিজিএম কাজী রইস উদ্দিন আহমেদ ও এ কে এম আসাদুজ্জামান, এজিএম মো. ইকবাল, (সাময়িক বরখাস্ত) মো. আতাউর রহমান সরকার, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (সাময়িক বারখাস্ত) মো. খায়রুল আমিন, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (সাময়িক বরখাস্ত) মো. মগরেব আলী, প্রিন্সিপাল অফিসার (সাময়িক বরখাস্ত) মুহাম্মদ রুহুল আমিন, সিনিয়র অফিসার (সাময়িক বরখাস্ত) মো. সাইদুজ্জাহান, মো. মনিরুজ্জামান ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্র জানায়, আসামিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করা হয়েছে। গত ৩০ জানুয়ারি গ্রেপ্তারের পর প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এম এ কাদেরকে শুল্ক গোয়েন্দার প্রধান কার্যালয়ে নেয়া হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। রিমান্ড আবেদন শুনানির অপেক্ষায় আছে। এদিকে ক্রিসেন্ট গ্রুপের কাছে পাওনা সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা উদ্ধারে সম্প্রতি অর্থঋণ আদালতে মামলা করেছে জনতা ব্যাংক। ঋণ জালিয়াতির ব্যাপারে জনতা ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ক্রিসেন্ট গ্রুপের কাছে সুদে আসলে তাদের পাওনা (গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) তিন হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। এসব ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকটির ইমামগঞ্জ শাখা থেকে নেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ নিলামে বিক্রিরও প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এরই মধ্যে নিলাম ডাকা হয়েছে। জনতা ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মোবারক হোসেন জানান, টাকা আদায়ের জন্য আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমাদের সব পদক্ষেপ হবে আইনকানুন অনুযায়ী। তবে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের বিষয়ে ক্রিসেন্ট গ্রুপের বক্তব্য জানতে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও কেউই এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জালিয়াতির যে সর্বোচ্চ প্রমাণ, যেটি অনুসন্ধানে এরই মধ্যে বেরিয়ে এসেছে, আমরা মনে করি, এ বিষয়টিকে অন্তত একটি টেস্ট কেস হিসেবে কর্তৃপক্ষের দেখা উচিত। এ বিষয়ে দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক খান (অনুসন্ধান) বলেন, অর্থ পাচারে জড়িত কেউ-ই রেহাই পাবে না। প্রাথমিক অনুসন্ধানে আমরা অনেক খাতে জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছি। কমিশন এখন মামলা করবে। যদি পরবর্তী সময়ে আরো গভীর তদন্তের মাধ্যমে একই ধরনের বা অধিকতর তথ্য পাওয়া যায় তাহলে সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব। আইনেই বলা আছে, তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আরো পড়ুন :  অামার বিশ্বাস দল আমাকে মনোনয়ন দিবেন : বিএনপির নেতা আলহাজ্ব মো. মোশারফ হোসেন
তথ্য সুত্রঃ ভোরের কাগজ।
Shares