গাজীপুরে র‌্যাবের অভিযানে ভুয়া জজ,ম্যাজিষ্টেট ও সাংবাদিক পরিচয় দানকারী ৫ জন আটক

প্রকাশিত

শেখ রাজীব হাসান আকাশ ও জাহিদ হাসান জিহাদ-

কিছুদিন পুর্বে জেলা জজ ও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট র‌্যাব ১ কে জানান যে, একটি প্রতারক চক্র তারা নিজেদেরকে জেলা প্রশাসক, জেলা জজ এবং চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট পরিচয় দিয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন কলকারখানা মালিকদের মোবাইল কোর্টের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে, বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। ইহাতে বিচার বিভাগ সহ সরকারী প্রশাসনের চরম ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় জেলা জজ ও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট মহোদয় এই চক্রকে গ্রেফারের জন্য র‌্যাব-পুলিশের সহায়তা চান।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ জানুয়ারী-২০১৯ তারিখ রাত ০৮ ঘটিকার সময় র‌্যাব-১, স্পেশালাইজড কোম্পানী, পোড়াবাড়ী ক্যাম্প, গাজীপুর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন যে, জিএমপি, গাজীপুর কোনাবাড়ী থানাধীন বাইমাইল হাজী কলোনী সাকিনস্থ জনৈক নুরুল ইসলাম এর ছয়তলা বাসার তৃতীয় তলার পশ্চিম পাশে ফ্লাটে ভূয়া জেলা জজ ও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এর একটি চক্র অবস্থান করছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে অত্র কোম্পানীর কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল-মামুন, (জি), বিএন এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সসহ জিএমপি, গাজীপুর, কোনাবাড়ী থানাধীন বাইমাইল হাজী কলোনী সাকিনস্থ জনৈক নুরুল ইসলাম এর ছয়তলা বাসার তৃতীয় তলার পশ্চিম পাশে ফ্লাটে অভিযান পরিচালনা করেন। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামীরা দৌড়ে পালানোর সময় সক্রিয় সদস্য ১। মোঃ মাসুদ রানা (৩৫),পিতা-মোঃ শাহজাহান, ২। মোছাঃ গুলশান আরা লিজা(২৮), স্বামী-মোঃ মাসুদ রানা(৩৫),উভয় সাং-বলিভদ্র ,থানা-ধনবাড়ী, জেলা-টাঙ্গাইল এলাকার কফিল উদ্দিন সরকারের বাড়ীর ভাড়াটিয়া,থানা-কোনাবাড়ী, জিএমপি-গাজীপুর, ৩। মোঃ রাজু আহম্মেদ(৪০), পিতা-মৃত নাজির হোসেন, ৪। মোঃ আকলিমা আক্তার(২৫), স্বামী-মোঃ রাজু আহম্মেদ(৪০),উভয় সাং-মাটিকাটা,থানা-ভূয়াপুর, জেলা-টাঙ্গাইল, এ/পি-বাইমাইল(হাজী নুরুল ইসলামের বাড়ীর ভাড়াটিয়া),থানা-কোনাবাড়ী, জিএমপি-গাজীপুর, ৫। মোছাঃ তাছলিমা খাতুন, পিতা-মোঃ মোসলেম উদ্দিন সরদার, মাতা-মোঃ আলেয়া বেগম, সাং-ভারেলা খাঁপাড়া, থানা-পাবনা সদর, জেলা-পাবনা এলাকার পি-সাং-মনিপুর বাজার, মাসুমা গেইট(মেডামের বাড়ীর ভাড়াটিয়া), হোতাপাড়া, জয়দেবপুর, গাজীপুরদেরকে ১৪ টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৪,০০০/-টাকা সহ হাতে নাতে গ্রেফতার করেছে।

 

 

এ সময় আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদেরকে এই প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করে এবং জানায় যে, তারা নিজেদেরকে বিভিন্ন সময় ভূয়া জেলা জজ ও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক পরিচয় দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র,জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, উর্ধ্বতন বন কর্মকর্তা, ম্যানেজার জাতীয় ভাওয়াল উদ্যান, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারী, ও বেসরকারী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সময়ে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেয়।

উক্ত প্রতারক চক্রের সদস্য বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং এদের প্রত্যেকেরই ০৭ থেকে ০৮ টা করে বিকাশ নম্বর রয়েছে ৷