ডিএনসিসি সরাতে পারছে না কালশী-বাউনিয়া সড়কের অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড

প্রকাশিত

বিশেষ প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকায় দিন দিন বাড়ছে ট্রাক-পিকআপসহ এ ধরনের যানবাহন। কিন্তু যানবাহন রাখার পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় এক একটি সড়ক দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে ট্রাক-পিকআপ স্ট্যান্ড।
পাঁচ বছরে মিরপুরের কালশী মোড়-বাউনিয়া বাঁধ সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে বিশাল ট্রাক-পিকআপ স্ট্যান্ড। এ স্ট্যান্ড সরাতে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বার বার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে আবেদন করলেও কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরপুর এলাকার ট্রাক-পিকআপ পার্কিয়ের জন্য কোনো স্ট্যান্ড নেই। ফলে মিরপুরের কালশী মোড়-বাউনিয়া বাঁধ সড়কের একপাশ দখল করে গড়ে উঠেছে বিশাল ট্রাক-পিকআপ স্ট্যান্ড। এতে এ সড়ক দিয়ে যান চলাচল করতে পারছে না। ফলে আশপাশে দীর্ঘ সময় যানজট লেগেই থাকছে। এ স্ট্যান্ড অপসারনের জন্য স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ডিএনসিসির প্রতি বারবার আবেদন করলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৪ সালে টি-২০ বিশ্বকাপ উপলক্ষে কালশী সড়ক সংস্কার ও নতুন ফুটপাত তৈরির পাশাপাশি এর আশপাশের কিছু এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তখন নিজ উদ্যোগে ট্রাকস্ট্যান্ডটি কিছুদিনের জন্য সরে যায়। পরে এ আবার তা আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এরপর আর কোনো ধরনের উচ্ছেদ চালানো হয়নি। ফলে এখনও এ ট্রাক স্ট্যান্ডটি রয়েছে বহাল তবিয়তে।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, এ এলাকায় ট্রাক-পিকআপ পার্কিয়ের জন্য কোনো স্ট্যান্ড নেই। ফলে এলাকার সব ট্রাক-পিকআপগুলো মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের কালশী মোড় থেকে বাউনিয়া বাঁধ নতুন রাস্তার একপাশ দখল করে স্ট্যান্ড বানিয়ে রাখা হচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর ধরে এ অবস্থা চলছে। এ বিষয়ে ডিএনসিসি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মিরপুরের কালশী মোড় থেকে বাউনিয়া বাঁধ এলাকার সড়ক হয়ে  লালমাটিয়া পর্যন্ত এই ট্রাকস্ট্যান্ডের অবস্থান। ট্রাকস্ট্যান্ডটি এমন ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যে যানবাহন কিংবা পথচারী চলাচলের কোনো সুযোগ নেই।  এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সড়কের অন্যপাশে গড়ে উঠেছে গাড়ি ও রিকশা মেরামতের কারখানা। সড়কের ওপর সারি করে রিকশা ও গাড়ি রেখে চলছে মেরামতের কাজ। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারিদের।
ডিএনসিসির ২ নম্বর অঞ্চলের বর্তমান আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম ফকির বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা প্রভাবশালী হওয়ায় চাইলে। এটি দখলমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা আছে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি বিভাগ বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালনা করে। তবে নানা কারণে মিরপুরের এ স্ট্যান্ড  উচ্ছেদে যাওয়া এখনই সম্ভব হচ্ছে না। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে।