উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির পথে হাঁটছে জাতীয় পার্টি

প্রকাশিত

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে  দলীয়ভাবে অংশ নিচ্ছে না রাজপথের প্রধান বিরোধী দল  বিএনপি। শুধু বিএনপি নয়, বিএনপির জোট শরিক বিশ দলীয় জোট ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয়  ঐক্যফ্রন্টও দলীয়ভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছে।
এবার বিএনপির পাশাপাশি সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী দিতে পারছে না।  তারাও অনেকটা বিএনপির পথে হাঁটতে শুরু করেছে। শুধু বিএনপি  ও জাতীয় পার্টি নয়,  আওয়ামী লীগের জোট শরিক জাসদ , ওয়ার্কার্স পার্টি সহ অন্যান্য শরিক দলও প্রার্থী সংকটের কারণে উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দিতে পারছে না। এছাড়া সিপিবির নেতৃত্বাধীন আট দলীয় বাম জোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোটসহ দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এবার উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির অংশগ্রহণ  না  করার সিদ্ধান্তের কারণে নির্বাচনকে অংশগ্রহণ মূলক দেখাতে  জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এক ধরনের  অনুরোধ করা হয়েছিল।  কিন্তু   যোগ্য প্রার্থীর অভাব, তৃণমূল নেতাদের নির্বাচনে অনাগ্রহসহ  সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে  প্রধান বিরোধী দল হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় পার্টি উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী দিতে পারছে না।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দুই দফায়  উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করলেও নাম ঘোষণা করতে পারেনি প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। জানা গেছে, প্রথম দফায় রংপুরের বিভিন্ন উপজেলায় ভোট হলেও জাপার দুর্গ খ্যাত বৃহত্তর রংপুরেও মারাত্মক প্রার্থী সংকটে পড়েছে জাতীয় পার্টি। এই কারণে দলগতভাবে কেন্দ্র থেকে প্রার্থী ঘোষণা না করে জেলা কমিটিকে স্ব উদ্যোগে প্রার্থী দেওয়ার কথা বলেছে জাপার কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড।
এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা ভোরের ডাককে বলেন, উপজেলা নির্বাচনে আমরা কেন্দ্র থেকে দলীয় প্রার্থী না দিলেও  স্ব স্ব জেলা কমিটি  চাইলে তাদের উদ্যোগে প্রার্থী দিতে পারে। জানা গেছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহ‍ূর্তে পার্টির চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় ২১৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মূল্যায়ন না করায় সারা দেশে পার্টির নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা কাজ করছে।
তারা বলছেন, পার্টির চেয়ারম্যানের নির্দেশ অমান্য করে যারা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে এমপি হয়েছিলেন তাদেরই অধিকাংশ আবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের মনোনয়ন পান। এই ঘুরেফিরে ২০ থেকে ২৫ জনকে মূল্যায়ন করা হলে বাকিরা কেন সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করবে। এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের বাইরে ১৪৭ জন উন্মুক্ত প্রার্থী ভোটের সময়  কেন্দ্রের সহায়তা না পাওয়ায় এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাইছেন  জাপা নেতারা।
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জেলার সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রাজী স্বপন বলেন,  ভোটের পর আমরা অনেকটা অলস সময় পার করছি। উপজেলা নির্বাচন নিয়ে আমিসহ বিভিন্ন উপজেলা  নেতারা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করতে দিবে কি না জানি না। তাছাড়া জনগণ তাদের  ভোট দিতে পারবে কি না তা নিয়েও সংশয় আছে।
জয়পুরহাট  জেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক আকম তিতাস মোস্তফা বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্র থেকে কোনো ধরনের  খোঁজ নেননি। তাই  জেলাপর্যায়ে হতাশা আছে। উপজেলা নির্বাচন নিয়েও শঙ্কায় আছি। মাঠে নামিয়ে যদি পরমুহূর্তে বলে প্রত্যাহার করো। এ মুহূর্তে পার্টির নীতিনির্ধারকদের উচিত অচিরেই পার্টির তৃণমূলকে নিয়ে একটি সভা দিক-নির্দেশনা দেয়া।
Shares
আরো পড়ুন :  সেনবাগে ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করায় স্কুল ছাত্রীর শ্লীলতাহানী।