ঢাবিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

প্রকাশিত

ঢাবি রিপোর্টার : ‘শতবর্ষের দ্বারপ্রান্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ স্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৯ মার্চ ২০১৯ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানস্থল সাজানো হয় মনোরম সাজে। প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। বয়স, পদ ও সামাজিক অবস্থান ভুলে তারা হারিয়ে যান নিজেদের যৌবনে। ক্যাম্পাসের ফেলে আসা সেই রঙিন জীবনকে খুঁজে ফেরেন তারা। টিএসসি’র আড্ডা, দুরন্তপনা অথবা আন্দোলন-সংগ্রামের উত্তাল দিনগুলো তাদের স্মৃতিতে ভেসে ওঠে। দিনভর আনন্দ-উল্লাস, ছবি তোলা, বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা, হৈ চৈ ও কোলাহলে মেতে থাকে সবাই।
সকালে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মিলনমেলার বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে মিলনমেলার উদ্বোধন করেন।
অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া, ডাকসু’র সাবেক ভিপি ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মনজুর এলাহী, রকীব উদ্দীন আহমেদ, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব রঞ্জন কর্মকার, মিলনমেলা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন। এ সময় প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ সহ সাবেক উপাচার্যগণ, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, বিশিষ্ট শিল্পপতি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও উচ্চপদস্থ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন কৃতী শিক্ষার্থী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম সহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনন্য অবদান রেখেছেন। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে বর্ণনা করে উপাচার্য বলেন, বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে তাদের কাজ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য তিনি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধারণ করে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
ডাকসু’র সাবেক ভিপি ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ছাত্র জীবনের বর্ণাঢ্য জীবন ও স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্নিঝরা দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন। দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচন আয়োজন করায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। নির্বাচিত ডাকসু নেতৃবৃন্দ জাতির প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
Shares
আরো পড়ুন :  ‘যে ভিসি ছাত্রলীগের সে ভিসি মানি না’