পুলিশ বিনা অপরাধে ক্রসফায়ার বলে কাউকে হত্যা করেনা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত

শেখ রাজীব হাসান আকাশ,ঢাকাঃ পুলিশ কিংবা কোন বাহিনীর সদস্যরা ক্রসফায়ারের নামে বিনা অপরাধে কাউকে গুলি করে হত্যা করছে না। তারা মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে যখন অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারে গুলি ছোড়া হয়। তখন আত্মরক্ষার্থে গুলি করছে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও বিজি প্রেস মাঠে আয়োজিত মাদকবিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একথা বলেন।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) জামাল উদ্দিন আহমেদ এর সভাপতিত্বে মাদকবিরোধী সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে রাখেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুক,ু ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি মোসাদ্দেক মো. আবুল কালাম, কাউন্সিলর মুন্সি কামরুজ্জামান কাজল, চিকিৎসক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ডা. অরূপ রতন চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক ও মনোবিদ ড. মোহিত কামাল, মানসের অধ্যাপক অরুপ রতন চৌধুরী প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, পুরো বিশ্ব যখন হিমশিম খাচ্ছিল ঠিক তখন আমরা বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ভয়ঙ্কর জঙ্গিবাদকে নিয়ন্ত্রণ করেছি। জঙ্গিরা বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে দেখানোর পাঁয়তারা করছিল। আবার জঙ্গিবাদের মতোই মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ শুরু হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের কারাগারে ধারণ ক্ষমতা ৩৫ হাজার। অথচ আছে ৯৫ হাজার কয়েদি। এই কয়েদিদের অধিকাংশই মাদক সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেফতার। কঠোরতার কারণেই আজ মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক কারবারীদের জায়গা কারাগারে।তিনি আরো বলেন, যারা ইয়াবা সেবন করেন তাদের মেধা বিলুপ্ত হয়। ৩/৪ বছর ইয়াবা হেরোইন সেবন করলে নিজের নামটাও ভুলে যাবার দশা হয়। একটা মানুষ যদি ২৪ ঘণ্টা জেগে থাকেন তাহলে তিনি কতোটা সুস্থ থাকবেন ?’ আমরা কঠিন সাজার ব্যবস্থা করে নতুন আইন করেছি। এই আইনের কঠোর প্রয়োগ হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

আরো পড়ুন :  প্রচ্ছদ রাজনীতি খালেদার সাজার ব্যাপারে যা বললেন কাদের

সুশীল সমাজের প্রতি উদ্বাত্ব আহবান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপরাধীদের ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করছে। এটি সঠিক নয়। কাউকে হত্যার উদ্দেশ্যে নয়।জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মাদক ব্যবসা বন্ধের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি বিজিবিকে নির্দেশনা দিয়েছি কোনোভাবে সীমান্ত দিয়ে যেন মাদক না ঢোকে। কোস্টগার্ডকে বলেছি উপকূলে নজরদারি রাখতে। এরপরেও মাদক আসছে। আমরা মাদক তৈরি করি না তবুও মাদক আসছে। মাদক আমাদের যে কী পরিমান ক্ষতি করছে তা ঘরে ঘরে জানাতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে হবে।
অবস্থাসম্পন্ন যুবসমাজ ‘সিসা বার’র দিকে ঝুঁকে পড়ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিসার সঙ্গে তারা ইয়াবা সেবন করছে। তাই সিসা বারগুলোকেও নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইয়াং গ্রুপ সীসা বারে যায়। হুক্কা টানে। আগুনে ইয়াবা গুড়া করে টানছে। সেজন্য আমরা সীসাবারও নিয়ন্ত্রণে এনেছি। বিদেশে দেখেন যেখানেই মাদকের ব্যবসা সেখানে কী পরিমাণ অস্ত্রের ব্যবসাও হচ্ছে। আমরা বলেছি, আইনি সহযোগিতা করবো, সারেন্ডার করেন, মুচলেকা দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিযানে মাদক কারবারীদের ধরতে গেলেই অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার করছে। আত্মরক্ষার অধিকার তো আমাদের বাহিনীরও আছে। যারাই সারেন্ডার করবেন, মাদকের ব্যবসা করবেন ছাড়বেন, তাদের শেষ সুযোগটা দেয়া হবে। নইলে জেলে যেতে হবে। আর অস্ত্রের ঝনঝনানি যদি দেখাতে চান তাহলে কী পরিণতি হতে পারে তা আপনারাই জানেন।শিক্ষার্থী ও জনগনের উদ্দেশ্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, তোমরা ছাত্র যুবকরা মাদককে না বলবে, মাদক বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দেবে। আমরা তালিকা করেছি, কাউকে ছাড়বো না। ব্যবসা না ছাড়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান চলবে।তিনি বলেন,মাদকের ব্যাপারে যারা তথ্য দিচ্ছেন, তাদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। বাবা মা যেমন জঙ্গি সন্তানকে ধরিয়ে দিয়েছিল তেমনি মাদকাসক্ত সন্তানকে নিয়ে আসুন। আসুন আমরা ঘুরে দাঁড়াই মাদকের বিরুদ্ধে।

আরো পড়ুন :  লাক্স সুন্দরী হতে চাইলে যে প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ই কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু বলেন, যুব সমাজ ছাত্র সমাজ দৃঢ় প্রত্যয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। আজ যুব সমাজের বড় অংশ মাদকাসক্ত। তাদের জন্য আমরা কী করতে পেরেছি? আমাদের সন্তানরা যেন মাদকাসক্ত না হয়, মাদক নেয় কিনা খোঁজ রাখা, খেয়াল রাখা দরকার।তিনি আরো বলেন, রাজনীতিবিদরা রাজনীতি করি দেশের জন্য, মানুষের জন্য। মাদকবিরোধী অবস্থান নিয়েও আমাদের সকল রাজনীতিবিদের কাজ করতে হবে। মাদকমুক্ত নের্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীমুক্ত নের্তৃত্ব যদি প্রতিষ্ঠা করতে পারি তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ তা অনেকটা সফল হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনেক কঠিন কাজ সহজ হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর আর ঠুঁটো জগন্নাত নয়। জনবল দ্বিগুণ করেছে, ৩২২২ জন জনবল করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মাদকাসক্তির সংখ্যা যাই হোক না কেন, বাড়তে দেয়া যাবে না, এটা বন্ধ করতে হবে, মাদকের অস্তিত্ব বাংলাদেশে থাকতে দেয়া হবে না। এজন্য ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে হবে, প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।কথাসাহিত্যিক ও মনোবিদ ড. মোহিত কামাল বলেন, মাদক আমাদের বিবেককে ধ্বংস করে দেয়। মাদকের প্রভাবে বিবেকহীন শূন্য জাতি গড়ে উঠবে। যুবসমাজের মৃত্যুর আগে মৃত্যু হয়ে যাচ্ছে। তাই আন্দোলনটা শুরু করতে হবে ঘর থেকে।

চিকিৎসক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ডা. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, ইয়াবা তিলে তিলে যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কিন্তু মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আসা আমরা বন্ধ করতে পারছি না। ৭৫ লাখ মাদকাসক্তের মধ্যে ৮২ ভাগই তরুণ। সমাবেশ শেষে ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান উপস্থিত সবাইকে মাদকবিরোধী শপথ পাঠ করান।

Shares