যৌথ প্রযোজনার ব্যর্থতার পাল্লা ভারী

প্রকাশিত

বিনোদন ডেস্কঃ গত সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছিল ‘প্রেম আমার টু’। যৌথ প্রযোজনায় ছবিটি নির্মিত। এতে অভিনয় করেছিলেন বাংলাদেশের পূজা চেরী ও ভারতের অদ্রিত। দর্শকদের প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি এই দুই শিল্পী। ‘প্রেম আমার টু’ ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এ ছবির ব্যর্থতার পর যৌথ প্রযোজনার ছবির ব্যর্থতা ষোলকলাপূর্ণ হলো বলে মন্তব্য করেছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
গত বছর যৌথ প্রযোজনায় যে ছবিগুলো নির্মিত হয়েছিল সেগুলোর কোনোটিই সফলতা পায়নি। অভিমন্যু মুখার্জি পরিচালিত ‘নূর জাহান’, গিয়াসউদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘স্বপ্নজাল’, জয়দীপ মুখার্জি পরিচালিত ‘তুই শুধু আমার’ এই তিনটি ছবি মুক্তি পেয়েছিল যৌথ প্রযোজনার মোড়কে। ছবিগুলোর একটিও দর্শকদের সিনেমা হলে টেনে আনতে পারেনি। যৌথ প্রযোজনায় শুরু হয়েও আমদানি ছবি হিসেবে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর ফলাফলও একই রকম মন্দ।
২০১৭ সালে যৌথ প্রযোজনার সংশোধিত নীতিমালা হওয়ার পর প্রযোজকরা যৌথ ছবিকে আমদানি ছবি হিসেবে চালিয়ে দেন। জিৎ অভিনীত ‘সুলতান : দ্য সেভিয়ার’, শাকিব খান অভিনীত ‘চালবাজ’ যৌথ ছবি হিসেবে শুরু হলেও আমদানি ছবি হিসেবে মুক্তি পায়। ছবিগুলোকে নিয়ে প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। সেই প্রত্যাশার কতটুকুই বা পূরণ হয়েছে!
বাংলাদেশের আরিফিন শুভ ও তিশা এবং কলকাতার বেশকিছু নামি-দামি শিল্পীকে নিয়ে তৈরি হওয়ার কথা ছিল ‘বালিঘর’। কিন্তু নতুন নীতিমালা হওয়ার পর এ ছবিটিসহ আরো কিছু প্রজেক্ট পিছিয়ে গেছে। নীতিমালায় যৌথ প্রযোজনার দুই দেশের মধ্যে শিল্পী, লোকেশন ইত্যাদি সমানুপাতিক হারে রাখার কথা বলা হয়েছে। এই নীতিমালাকে মেনে ছবি বানানো ‘কঠিন’ বলে প্রযোজকরা পিছিয়ে যাচ্ছেন। তার বদলে উৎসাহিত হয়েছেন ভারতীয় বাংলা ছবি আমদানিতে।
গত বছর শাকিব খান অভিনীত ‘নাকাব’, ‘ভাইজান’ ছবিগুলো আমদানি করে বড় সাফল্যের আশা করেছিলেন আমদানিকারকরা। তাদেরও হতাশ হতে হয়েছে। বড় বাজেটের ছবি হওয়ায় ছবি দুটির ব্যবসায় খুশি হতে পারেননি পরিবেশকরা। আমদানি ছবির ব্যবসায় কখনোই সন্তোষজনক ছিল না। যৌথ প্রযোজনার অতীত চিত্র আশাব্যঞ্জক হলেও সাম্প্রতিক চিত্র চরম হতাশাজনক।
একদিকে যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার চাপে প্রযোজকরা মুষড়ে পড়েছেন। আরেকদিকে যৌথ প্রযোজনার ছবির ব্যবসা ক্রমশ নিম্নগামী। অথচ বছর দুয়েক আগেও যৌথ প্রযোজনায় বেশকিছু হিট-সুপারহিট ছবি বেরিয়ে এসেছে। শাকিব খান অভিনীত ‘শিকারী’, জিৎ অভিনীত ‘বাদশা : দ্য ডন’, মাহি অভিনীত ‘রোমিও জুলিয়েট’ ছবিগুলো প্রযোজকদের যৌথ প্রযোজনায় ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহ দিয়েছিল।
উল্লিখিত ছবিগুলোর সাফল্যের পর যৌথ প্রযোজনায় ছবি নির্মাণের হিড়িক পড়েছিল। কিন্তু নিয়মনীতি না মানায় যৌথ প্রযোজনার ছবি প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছিল। ২০১৭ সালে যৌথ প্রযোজনায় নিয়মভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিল চলচ্চিত্র পরিবার। সেই আন্দোলনের ফলে সংশোধন করা হয় যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা। নতুন নীতিমালায় যৌথ ছবির প্রযোজকরা পুঁজি বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়েছেন। তারপরও যে দুয়েকটি ছবি নির্মাণ করছেন, সেগুলো আবার দর্শকরা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ব্যবসায়িক মন্দা আর নিয়মনীতির যাঁতাকলে পড়ে যৌথ প্রযোজনার নাভিশ্বাস উঠে গেছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। সবমিলিয়ে যৌথ প্রযোজনার ভবিষ্যৎ অন্ধকার বলেই তারা মনে করছেন।

Shares
আরো পড়ুন :  বিচ্ছিন্ন মৌলভীবাজার, পানিবন্দি ৩ লাখ মানুষ