আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি ঘাটতি ৮৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা : ডিএসসিসি

প্রকাশিত

ডেস্ক নিউজ: ঢাকা সিটি করপোরেশন দুই ভাগ হওয়ার পর নানা সংকটে পড়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। বিশেষ করে আয় কমে যাওয়ায় মহা সংকটের মধ্যে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে যে আয় হচ্ছে তার দ্বিগুণ বেশি ব্যয় হচ্ছে। সব মিলিয়ে ডিসিসি দক্ষিণের প্রতি বছর ঘাটতি ৮৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাত বছর আগে নগরবাসীর সেবা বাড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশন দুই ভাগ করা হয়। এতে ডিসিসি উত্তরের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো পড়ে যাওয়ায় ডিসিসি দক্ষিণের রাজস্ব আয় তিন ভাগের দুই ভাগ কমে যায়। এতে আর্থিক সংকটে পড়ে ডিএসসিসি। যার মাশূল এখনও গুণতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির।
ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেনদরবার করে, সরকারের কাছ থেকে থোক বরাদ্দ এনে কোনোমতে টিকে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আয়ের যেসব খাত রয়েছে, সেসব খাত থেকে আশানুরূপ অর্থ আাসছে না। মামলার কারণে অনেক খাত থেকে আয় বন্ধ রয়েছে। টাকার অভাবে সময়মতো ঠিকাদারদের বিল দেওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে ডিএসসিসির দ্ব›দ্ব চরম আকার ধারণ করছে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার জানান, আমি একটি সড়ক সংস্কার করার দায়িত্ব নিয়ে কাজ শেষ করেছি। কিন্তু এখন প্রতিষ্ঠানটির কাছে বার বার ধর্ণা ধরেও বিল পাচ্ছি না। সময়মত বিল না পাওয়ায় ঠিকাদাররাও নানা কষ্টে রয়েছে।
ডিএসসিরি আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ২৪ লাখ টাকা ঘাটতি দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। আর আর্থিক দুরাবস্থার প্রভাব পড়েছে সেবার কার্যক্রমে। জুলাই-২০১৮ থেকে অক্টোবর-২০১৮ পর্যন্ত সংস্থাটি বিভিন্ন উৎস থেকে আয় করেছে ১৯৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আয়ের বিপরীতে ওই চার মাসে ব্যয় করা হয় ২২৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
গত চার মাসে সংস্থাটির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সে হিসেবে ব্যয়ের তুলনায় আয় করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি বছরে ৮৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ঘাটতি দিচ্ছে। এ হিসাবে প্রতি মাসে ঘাটতি সাত কোটি ৩৯ লাখ টাকা আর দিনপ্রতি ঘাটতি ২৪ লাখ টাকা।
জানা গেছে, গত বছরের জুলাইয়ে ডিএসসিসি মোট তিন হাজার ৫৯৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করে। রাজস্ব খাতে আয়ের বড় অংশ ধরা হয়েছে হোল্ডিং কর থেকে। এ খাত থেকে ৩৩০ কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা প‚রণে প্রতি মাসে ২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা আসার কথা থাকলেও বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে এ খাত থেকে রাজস্ব আসছে ২০ কোটি টাকা। বাজার সালামি থেকে রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পাঁচ গুণ পিছিয়ে রয়েছে সংস্থাটি। প্রতি মাসে ২৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা আসার কথা থাকলেও বর্তমানে এ খাত থেকে মাসে গড়ে পাঁচ কোটি ৯০ লাখ টাকা পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে সম্পত্তি হস্তান্তর কর থেকে আট কোটির জায়গায় প্রতি মাসে মিলছে পাঁচ কোটিরও কম। ডিএসসিসির আয়ের বড় অংশ আসার কথা সরকারি ও বৈদেশিক উৎস থেকে। এ খাত থেকে দুই হাজার ৫৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা পাওয়ার কথা সংস্থাটির। কিন্তু জুলাই-১৮ থেকে অক্টোবর-১৮ পর্যন্ত সময়ে সরকারি অনুদান (থোক) ও সরকারি বিশেষ অনুদান হিসাবে একটি টাকাও পায়নি ডিএসসিসি। তবে এ সময়ে মেট্রোরেলসহ অন্যান্য কাজে ১৪ কোটি টাকা পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। এভাবে প্রতিটি সেক্টরে আয় কমে গেছে। যার ফলে মহা সংকটে পড়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত কয়েক মাসে ডিএসসিসির আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে সংস্থাটির মাসিক গড় আয় ৫০ কোটিরও কম। অথচ প্রতি মাসে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনই লাগে ৩০ কোটি টাকার মতো। এ অবস্থায় নগরের উন্নয়ন দ‚রে থাক, ঘর সামলাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে সংস্থাটিকে। সংস্থার এমন নাজুক অবস্থার কথা তুলে ধরে খোদ কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই প্রশ্ন তুলেছেন, যা আয় হয়, তা দিয়ে নিজেদের বেতন-ভাতা ও অফিস পরিচালনাই ঠিকভাবে করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় উন্নয়ন কাজ কীভাবে হবে তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) ভাগ হওয়ার পর থেকে নানা সংকটের মধ্যে রয়েছে ডিসিসি দক্ষিণ। কারণ আগে ফুল রাজস্ব পেলেও বর্তমানে রাজস্ব আয়ের ৪০ ভাগ পায় ডিএসসিসি ও ৬০ ভাগ পায় ডিএনসিসি। যার ফলে আর্থিক সংকট দিন দিন বাড়ছে। তবে আমরা ঘুড়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।
Shares
আরো পড়ুন :  আইএসিপি সম্মেলনে আইজিপি