মুরাদনগরে একটি অসহায় পরিবারের বাঁচার আকুতি

প্রকাশিত

কুমিল্লা সংবাদদাতা: মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে গোছানো ছোট্ট একটি সুখের সংসার ছিল ইব্রাহিমের। একটি দোকানে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন তিনি। প্রতি মাসে তার আয় হতো ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা। তা দিয়ে পাঁচ জনের এই সংসার নিতান্ত কোনো রকম ভাবে এই দিনমজুরের দিন কাটতো কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা সদরের কাজী বাড়ির একটি ছোট ঘরে।
বড় মেয়ে জান্নাত (৯) চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। আর ছোট ছেলে আরাফাতকে (৫) স্কুলে পাঠাবে। ইব্রাহিমের স্বপ্ন ছিলো নিজে খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের মানুষ করবেন। শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলবেন, মেয়ের লেখাপড়া শেষে ভালো পাত্র দেখে বিয়ে দিবে আর ছেলে লেখা পড়া শেষে চাকরি করে সংসারের হাল ধরবে। মেটাবেন অভাবের যন্ত্রণা। কিন্তু সব স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়ে ইব্রাহিমের জীবনে নেমে এলো গভীর অন্ধকার।
গত বছরের মার্চ মাসে এক সড়ক দুর্ঘটনার পর ইব্রাহিম ভর্তি হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, রোগীকে বাঁচাতে হলে, ডান পা কেটে ফেলে দিতে হবে। তাকে সুস্থ্য করতে যে চিকিৎসা প্রয়োজন তা অনেক ব্যয়বহুল, খরচ হবে ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা। কিন্তু এই পরিমাণ টাকা সংগ্রহ অসহায় পরিবারটির সেই সাধ্য কোথায়? তার পরিবারে তো রোজগার করার মতো কেউ নেই। একমাত্র উপার্জনক্ষম ইব্রাহিম অসুস্থ হওয়ায় পরিবারের স্ত্রী সন্তানের খাবার যোগান দেয়ার কেউ নেই।
উপায়ান্তর না দেখে অবুঝ শিশুদের নিয়ে ছুটে চলেন এবাড়ি-ওবাড়ি। একটু সহযোগিতার জন্য। সর্বশেষ নিজের ভিটে মাটি একটু ছিলো সেটি বিক্রয় করে পেয়েছেন ৮০ হাজার টাকা আর বাকি টাকা দোকানের মালিক ও দোকান মালিকের আত্মীয়স্বজনরা জোগার করে তার চিকিৎসা শেষ করে। চিকিৎসা শেষে ইব্রাহিম সুস্থ্য হয়েছে ঠিকই কিন্তু বর্তমানে তার একটি পা না থাকার কারণে ভারী কােনো কাজ করতে পারছে না। টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে ছেলে মেয়ের লেখাপড়া।
প্রথমদিকে আত্মীয় স্বজনরা সহযোগিতা করলেও বর্তমানে সেটিও আর মিলছে না। তাই অন্যের বাসায় কাজ করে দু’মুঠো খাবার জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে মা ও স্ত্রীর।
ইব্রাহিম বলেন, মা আর স্ত্রী অন্যের বাড়ি কাজ করে যে টাকা পায় তা দিয়ে সংসার চালাতেই অনেক বেগ পেতে হয়। অন্যের কাছে হাত পেতে সহযোগিতা নিয়ে তো আর সারা জীবন পার কার যায় না। তাই সামাজের বৃত্তবানরা যদি একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে আমাকে একটি দোকান ঘরের ব্যবস্থা করে দিতো তাহলে হয়তো আবার আমার সন্তানরা স্কুলে যেতে পারতো। মা ও স্ত্রীকে হয়তো আর অন্যের বাড়ি কাজ করতে হত না।
তিনি আরো বলেন, গত কয়েক মাসে ধরে অনেক চেষ্টা করেছি মুরাদনগর বাজারে রাস্তার পাশে একটি ছোট্ট পান দোকান নিয়ে বসতে, কিন্তু যেখানেই পান দোকান নিয়ে বসতে যাই সেখানেই বাধা আসে। এ অবস্থায় ইব্রাহিমের পরিবারটিকে সহযোগিতার জন্য সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছে ইব্রাহিমের পরিবার।
সাহায্য পাঠানোর জন্য বিকাশ নম্বর০১৯৪৩৭০৯২২৫।
Shares
আরো পড়ুন :  ছোট্ট ইমরান লুকিয়েও রেহাই পেল না