মুরাদনগরে ৮১ বছর বয়সেও মিলছে না বয়স্ক ভাতা শেষ ভরসা ‘সরকার’!

প্রকাশিত

কুমিল্লা প্রতিনিধি: জামাই(স্বামী) মরছে ৩০ বছর আগে। কোন পুলা(ছেলে) নাই একজন মাইয়া আছিলো তারে বড় কইরা বিয়া দিতে গিয়া যা কিছু আছিলো সব শেষ। অহন আমার নিজের বলতে আর কিছু নাই। মাইয়ার শ্বশুর বাড়ীত যাই না কারণ তারাই ঠিক মতোন খাইতে পায় না, আমারে খাওয়াইবো কেমনে। সারাদিন বাড়ী বাড়ী ভিক্ষা করি আর রাইতে মানুষের রান্না ঘরে গিয়া গুমাই। সকাল বেলা আবার তারাতারি ভিক্ষা করতে বাহির হইয়া যাই। ভিক্ষা কইরা যা পাই তা খাইয়াই দিন কাটাই। আর কোন দিন যদি সরিল খারাপ থাহে তাইলে না খাইয়াই দিন কাটাইতে হয়।
কয়েক বছর আগে হুনছিলাম আমার ছবিওয়ালা কাগজ(জাতিয় পরিচয় পত্র) দিলে নাকি মনির মেম্বারে বাতা(ভাতা) দিবো। আমি লগে লগে(সাথে সাথে) তার কাছে গিয়া ছবিওয়ালা কাগজ দিয়া আইছি। পরে কয়দিনই মনির মেম্বারের বাড়ীত গেছি কিন্তু কোন লাব অয় নাই। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের মৃত কেরামত আলীর স্ত্রী ৮১ বছর বয়সী কাপ্তানের নেছা এভাবেই তার মনে জমে থাকা কথাগুলো বলে কাঁদতে লাগলেন। তিনি আরো বলেন, সকলেই এখন আমারে বুঝা মনে করে। টাকার অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছি না। শেষ ভরসা এখন ‘সরকার’। যদি কোন সহায়তার মাধ্যমে আমারে একটা ঘরের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি একটা ভাতা চালু করে দিতো তাইলে হয়তো যে কয়দিন বাইচ্চা আছি কিছুটা ভালভাবে থাকতে পারতাম।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির হোসেন মোল্লা তার কাছে বৃদ্ধার আইডি কার্ড দেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন আমি বিষয়টি দেখবো।
এব্যাপারে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা কবির আহম্মেদ বলেন, ইউনিয়ন কমিটি এই বিষয়টি আমার নজরে না আনার ফলে এতো দিন তার ভাতার ব্যবস্থা হয়নি। মহিলার আইডি র্কাড জমা নিয়ে দ্রুত ভাতা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা নিবার্হী অফিসার মিতু মরিয়ম বলেন, বৃদ্ধ মহিলার আইডি কার্ডটি সংগ্রহ করে, সরকারি ভাবে বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।
প্রয়োজনে যোগাযোগ প্রতিবেদক ০১৯৪৩-৭০৯২২৫।