বাসর রাতে ফেসবুকে শ্বশুরের মেসেজ…..জামাই কি করছো ? রম্য রচনা

প্রকাশিত

তুহিন সারোয়ার-

বাসর রাতে ফেসবুকে ঢুকে দেখি অপরিচিত একটা আইডি থেকে মেসেজ রিকুয়েস্ট এসেছে, লিখেছে “জামাই প্লিজ এড মি, আই এম ব্লকড” প্রোফাইল চেক করে দেখি আমার শ্বশুর। নতুন শ্বশুর মেসেজ দিয়েছে তাই রিকুয়েস্ট পাঠালাম। ওমা! দেখি সাথে সাথে একসেপ্ট।
একটু পর শ্বশুর মেসেজ দিলো ” জামাই কি করছ?”
শ্বশুরের মেসেজ পড়ে নিজের মাথার চুল টেনে ছিঁড়তে ইচ্ছে করছিল। আজ তার মেয়ের বাসর রাত আর উনি এই টাইমে জামাইকে মেসেজ দিয়ে বলে “জামাই কি করছ”। মনের দুঃখে চারপাশে বিষের বোতল খুঁজতে লাগলাম। কিন্তু আমার শ্বশুরের কপাল ভালো যে বিষের বোতল সেইদিন পাইনি। নাহলে বাসর রাতেই তার মেয়ে বিধবা হইতো।
প্রথমদিনেই বুঝে গেছি এই শ্বশুর নিয়ে আমার কপালে খারাপি আছে। সেই যে বাসর রাত থেকে শুরু আজ ছয়মাস হচ্ছে উনার জ্বালায় ফেসবুকে ঢোকাই বন্ধ করে দিয়েছি। কারণ ফেসবুকে ঢুকেলেই দেখবো শ্বশুর ছবি আপলোড দিয়েছে। আর সেসব ছবির ক্যাপশন দেখে মনে হয় ফেসবুকে যদি এক পোস্টে হাজার হাজার হা হা দেওয়ার অপশন থাকতো। কয়েকবার ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে ইমেইল করেছি এমন অপশন চালু করার জন্য।কিন্তু উনারা আমার কথা কানেই নেয় না। নাহলে শ্বশুরের পোস্টে হা হা রিএক্টটের বন্যা বইয়ে দিতাম। আমার শ্বশুর দিনে চার-পাঁচটা পোস্ট দেয় মাত্র। বেশির ভাগ পোস্টে থাকে উনার বিশেষ মুহূর্তে তোলা সেলফি নয়তো কোনো আবেগময় পোস্ট। সামনে যাকেই পাবে উনি তাকেই নিয়ে সেলফি তুলে পোস্ট দেন। ক্যাপশনে লিখে দেন ” উমুক তুমুকের সাথে বিশেষ মুহূর্তে তোলা সেলফি। বন্ধুরা কেমন হয়েছে কমেন্টে জানান”।
একদিন উনার একটা আবেগময় পোস্ট দেখলাম ” আজ অনেকদিন পর বৃষ্টিতে ভিজে ছেলেবেলার কথা মনে হয়ে বুকের মধ্যে হাহাকার করে উঠলো”। এক ছেলে দেখি সেখানে কমেন্ট দিয়েছে আঙ্কেল ” এটা মনে হয় আপনার গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা। শ্বশুর আব্বা সেখানে কমেন্ট রিপ্লাই দিয়েছে “তুই ফরিদ উদ্দিনের পোলা না? তোর আব্বার কাছে যদি বিচার না দিছি”। একটু পর দেখি শ্বশুর আব্বা একটা আইডি লিংক দিয়ে বলে “জামাই এই আইডির বিরুদ্ধে রিপোর্ট দেও। ছেলেটা আমার পোস্টে উল্টাপাল্টা কমেন্ট করে। চেক করে দেখি এটা তো ঔ ছেলে যে আমার শ্বশুরের আবেগময় পোস্টে গ্যাস্ট্রিকের কথা বলেছে। ছেলেটার প্রতি খুশি হয়ে ওর সব পোস্টে লাভ রিএক্ট দিয়ে এসেছি। সেদিন অফিসের একটা মিটিং হচ্ছে। এর মধ্যে দেখি শ্বশুরের ফোন। চুপিচুপি ফোন রিসিভ করে বললাম ” আব্বা আমি মিটিংয়ে”। শ্বশুর সাথে সাথে বলল” জামাই একটা পোস্টে তোমাকে ট্যাগ করেছি। ট্যাগ রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করো। আমি আচ্ছা বলে ফেসবুকে ঢুকে ট্যাগ রিকুয়েস্ট একসেপ্ট বের হয়ে এলাম। একটু পর অফিসের বস দেখি হাসতে হাসতে তার চেয়ার থেকে উল্টে পড়ে গেলো। সবাই দৌড়ে গেলাম বসকে তুলতে। উনি বাঁধা দিয়ে বললেন ” দাঁড়াও দাঁড়াও আগে হেসে নেই”। জীবনে ফ্রিতে এর থেকে বিনোদন পাবো না। অফিসের সবাই সবার মুখের দিকে তাকিয়ে বসের কথার কারণ খোঁজার চেষ্টা করছি। এর মধ্যে তার হাতের ফোন আমার দিকে ধরে বলল ” এইটা তোমার শ্বশুর না? বিয়েতে যে দেখলাম”।বসের হাত থেকে ফোন নিয়ে দেখি ” শ্বশুর আব্বা একটা ছবি পোস্ট করেছে। ছবিটায় একটা রকেটের উপর আমার শ্বশুর বসে আছে”। ক্যাপশন দিয়েছে” এই অন্যায় অবিচারের দেশে আর থাকবো না। তাই মনের দুঃখে চাঁদে চলে যাচ্ছি”। সেইদিন অফিস থেকে বের হয়েই একটা মেয়ের ফেইক আইডি খুলে কয়েকটা সুন্দর ছবি পোস্ট দিয়ে শ্বশুর আব্বা সহ তার পরিচিত সবাইকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠালাম। শ্বশুর আব্বা সাথে সাথে রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করে মেসেজ দেওয়া শুরু করলো। কয়েকদিন লাগাতার ফেইক আইডি থেকে মেসেজ দিলাম শ্বশুর আব্বাকে। আমি শ্বশুর আব্বাকে মেসেজ দেই” এই তুমিনা অনেক সুন্দর। তোমার ফেসবুকে দেওয়া ছবি দেখলে মনেই হয় না তোমার বয়স বেশি”। শ্বশুর আব্বা আমার এসব মেসেজ দেখে বিভিন্ন স্টাইলে ছবি তুলে আমার ফেইক আইডিতে পাঠায় সাথে কিসিং স্টিকার সহ। সবকিছুর স্ক্রিনশট নিয়ে সেই ফেইক আইডি থেকে শ্বশুর আব্বা সহ তার পরিচিত সবাইকে ট্যাগ করে পোস্ট দিলাম।
একটু পর আমার নিজের একাউন্টে ঢুকে দেখি শ্বশুর আব্বা পোস্ট দিয়েছে “কে যেন আমার আইডি হ্যাক করে এক দ্বীনি বোনকে নানা রকম বাজে মেসেজ দিয়েছে। তাই আমি চাচ্ছি না এই বৃদ্ধ( দুঃখের ইমো) বয়সে আর ফেসবুক চালাই। এইজন্য আমি আর ফেসবুক চালাবো না। আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।

95Shares
আরো পড়ুন :  রাজধানীর অপরিবর্তিত রয়েছে সবজির দাম!