গাজীপুরে মশার কয়েলের আগুনে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ

প্রকাশিত

হাফছা আহমেদ মিতু, চ্যানেল সিক্স-

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুরে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মশার কয়েল জ্বালানোর সময় আগুন লেগে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। চক্রবর্তী এলাকায় আব্দুল জলিলের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দগ্ধরা হলেন- গৃহকর্তা আব্দুল জলিল (৪৫), তার ছেলে ইয়াসিন মাহমুদ (১৩), মেয়ে জিয়াসমিন (২০) ও জামাতা আবুল হাসান (২৩)।

কাশিমপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ রানা চ্যানেল সিক্সকে জানান, শুক্রবার আব্দুল জলিলের মেয়ে জিয়াসমিন তার স্বামী আবুল হাসানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। রাতে জিয়াসমিন তার স্বামী আবুল হাসান ও ছোট ভাই ইয়াসিন মাহমুদ এক রুমে ঘুমায়। পাশে আরেকটি রুমে তার বাবা-মা ঘুমিয়েছিলেন। রাত ২টার দিকে মশার কয়েল জ্বালানোর সময় জিয়াসমিনের পড়া লেলিনের কাপড়ে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো রুমে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আগুন ঘরে থাকা টিভিতে লাগলে টিভিটি বিস্ফোরণ হয়।

এ সময় রুমের এক পাশের দেয়াল ধসে পাশে ডোবার পানিতে পড়ে যায়। তাদের চিৎকার শুনে জিয়াসমিনের বাবা আব্দুল জলিল তাদের উদ্ধার করতে ওই রুমে গেলে তিনিও দগ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে শনিবার সকালে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

দগ্ধ আব্দুল জলিল জানান, মশার কয়েল থেকে ঘরে আগুন ধরে যায়। এ সময় তার ছেলে, মেয়ে ও মেয়ে জামাই দগ্ধ হয়। একপর্যায়ে তাদের উদ্ধার করতে গেলে তিনিও দগ্ধ হন। আগুনে তার মেয়ের শরীরের ৮৭ ভাগ পুড়ে গেছে বলে চিকিৎসকরা তাকে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় তার মেয়ে ও জামাই বেশি দগ্ধ হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, গাজীপুরে মশার কয়েল থেকে আগুন লেগে চারজন দগ্ধ হয়েছে। পরে সকালে চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে জিয়াসমিন নামে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অন্য তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে জিয়াসমিনের অবস্থা গুরুতর।