কর্মচারী চতুর্থ শ্রেণির, বেতন প্রথম শ্রেণির!

প্রকাশিত

খুলনা প্রতিনিধি-

মন্ত্রণালয়ের ভুলে খুলনায় বনবিভাগের মোটর ভ্যাসেল ইঞ্জিনম্যান পদে কর্মরত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা বর্তমানে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদমর্যাদায় বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। এতে চাকরি বিধিমালা ভঙ্গ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি এ খাতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা।  জানা যায়, দেশব্যাপী সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ২০০১ সালে বনবিভাগের জনবল কাঠামো অনুমোদন করে। ওই তালিকায় ইঞ্জিন ড্রাইভার ও ইঞ্জিনম্যান পদকে একই মর্যাদায় ১২তম গ্রেডে দেখানো হয়। কিন্তু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুসারে ইঞ্জিনম্যানের বেতন গ্রেড ১৮ হওয়ার কথা ছিল।  একই তালিকায় ফিটারম্যান, ওয়েল্ডার ও সুকানিকে বেতন গ্রেডে ইঞ্জিনম্যানের নিচের ধাপে দেখানো হয়। নিয়মানুযায়ী একজন ইঞ্জিনম্যান সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর থেকে সনদ প্রাপ্তি সাপেক্ষে তৃতীয় শ্রেণির ইঞ্জিন ড্রাইভার ও পরবর্তীতে অভিজ্ঞতা সাপেক্ষে ১ম, ২য় শ্রেণির ইঞ্জিন ড্রাইভার পদের যোগ্য হবেন। এদিকে মন্ত্রণালয়ের এই ভুলের সুযোগে পশ্চিম বনবিভাগের ইঞ্জিনম্যান মো. পান্না মিয়া, প্রকাশ চন্দ্র মন্ডল, শওকত হোসেন, তৃতীয় শ্রেণির ইঞ্জিন ড্রাইভার সরদার বাবুল হোসেন, পূর্ব বনবিভাগের শামিমুর রহমান ও আতাহার আলী বেতন স্কেল পরিবর্তন করে প্রায় দেড় কোটি টাকা অতিরিক্ত বকেয়া বেতন উত্তোলন করেছেন। এর মধ্যে ইঞ্জিনম্যান শওকত আলী তিনটি টাইম স্কেলের ভিত্তিতে বর্তমানে ৯ম গ্রেডে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। যা ১ম শ্রেণির পদমর্যাদায় থাকা ১০ম গ্রেডের ডিপ্লোমাধারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ফরেস্ট রেঞ্জারকে ছাড়িয়ে গেছে। অসাধু অফিস সহকারীরা আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদের এ কাজে সহায়তা করেছেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের ইঞ্জিন ড্রাইভার মিয়া আইয়ুব আলী গত ৩ মার্চ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে মামলা (নং-০৫/২০১৯) করেন। মামলায় বন মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রধান বন সংরক্ষক ও সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. বশিরুল আল-মামুন এরই মধ্যে মামলার জবাব দিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালককে নির্দেশনা দিয়েছেন।

বাদী আইয়ুব আলী বলেন, ১৯৯২ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে ইঞ্জিন ড্রাইভার ১৫০০-৩৪১৫ টাকা বেতনস্কেল ও ইঞ্জিনম্যান ৯৭৫-১৭৫০ টাকা বেতনস্কেলে চাকরি করতেন। প্রজ্ঞাপন জারির পর দুই পদের কর্মচারীরা একই মর্যাদায় ২৩৭৫-৫১৩০ টাকা স্কেলে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এতে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ইঞ্জিনম্যান ১ম শ্রেণির কর্মকর্তার সমপরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার ১৭০ টাকা মাসিক বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। তবে ১ম শ্রেণির ইঞ্জিন ড্রাইভার পদটি ১১ গ্রেডের বেতন স্কেল প্রাপ্য হলেও তাদের ১২তম গ্রেডের বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিম বনবিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জার মোকাম্মেল হোসেন বলেন, একজন ৮ম শ্রেণির পাস যোগ্যতার কর্মচারী কখনো ১ম শ্রেণির মর্যাদায় আসতে পারে না। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেড পরিবর্তন হয় না। কোনোভাবে ভুল বা তদবিরের মাধ্যমে এটা হয়েছে।