নুসরাতকে পরিকল্পিতভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার নিষ্ঠুরতায় দায় কার ?

প্রকাশিত

তুহিন সারোয়ার-

প্রশ্ন উঠেছে, মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পরিকল্পিতভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার নিষ্ঠুরতায় দায় কার? এ ঘটনা কি কেবল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার প্রত্যক্ষ মদদেই সংঘটিত হয়েছে, নাকি অসুস্থ রাজনৈতিক দলাদলিরও করুণ পরিণতি নুসরাত? প্রশ্ন উঠেছে, সোনাগাজীর পুলিশ প্রশাসন তথা সদ্যপ্রত্যাহৃত ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের অপরাধীর প্রতি নগ্ন পক্ষপাত এ নির্মমতায় কতটুকু সহায়তা করেছে? একইসঙ্গে মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পি কে এনামুল হক ও সোনাগাজীর ইউএনও সোহেল পারভেজ মাদ্রাসা অধ্যক্ষের নানা অপরাধ সম্পর্কে জেনেও রহস্যজনকভাবে নির্লিপ্ত থাকায় তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পরিকল্পিতভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় সারা দেশে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে। হত্যাকারী ও এ ঘটনায় সহায়তাকারীদের প্রতি সর্বত্র ধিক্কার ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

দেশব্যাপী ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ ও সমাবেশ : মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, বিদ্যালয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে।

কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নুসরাতের হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেস সচিব আরও বলেন, নুসরাতের মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শেখ হাসিনা নুসরাতের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

খেয়াল রাখবে হাই কোর্ট : মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মামলা কোন দিকে মোড় নিচ্ছে, এ মামলায় কোনো গাফিলতি হচ্ছে কিনা- তা খেয়াল রাখবে হাই কোর্ট। সাগর-রুনি, তনুসহ অন্যান্য মামলার মতো কোনোভাবেই যেন রাফির মামলা হারিয়ে না যায়, তা হাই কোর্টের নজরে থাকবে। গতকাল নুসরাত হত্যার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাই কোর্ট বেঞ্চ এসব কথা বলে। পাঁচটি পত্রিকায় প্রকাশিত খবরগুলো তুলে ধরে আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে এ আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক।

৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি পরীক্ষা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা তার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। গুরুতর অবস্থায় ওইদিন রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে রাফি মারা যায়। এর আগে ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা। এ মামলা তুলে নেওয়া এবং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নুসরাত যা অভিযোগ করেছিল তা সব মিথ্যা বলার জন্য চাপ দিতে থাকে দুর্বৃত্তরা। এতে নুসরাত ও তার পরিবার রাজি হয়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে লাইফ সাপোর্টে যাওয়ার আগে নুসরাত চিকিৎসকদের কাছে এ ব্যাপারে জবানবন্দি দেয়।

স্বজনদের আহাজারি-কান্নায় ময়নাতদন্ত : নুসরাত জাহান রাফির লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে রাফির ময়নাতদন্ত করেন ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক প্রদীপ বিশ্বাস। বেলা ১২টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সকাল ৯টার দিকে রাফির লাশ ঢামেক হাসপাতালের হিমঘর থেকে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে রাফির ময়নাতদন্তের জন্য তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। এতে ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদকে প্রধান করা হয়। প্রভাষক প্রদীপ বিশ্বাস ছাড়াও বোর্ডের অন্য সদস্য হলেন একই বিভাগের প্রভাষক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস। এর আগে নুসরাতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন শাহবাগ থানার এসআই শামছুর রহমান। ময়নাতদন্তের পুরো সময়জুড়ে স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ঢামেক মর্গে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনরা লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে রাফির লাশ নিয়ে ফেনীর সোনাগজীর উদ্দেশে রওনা হন। বিদায় জানাতে গিয়েও অনেকে কান্না ধরে রাখতে পারেননি। আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গতকাল সকালে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (নম্বর ৬০২) করেন রাফির আত্মীয় মোহাম্মদ আলী। ময়নাতদন্ত শেষে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘রাফির শরীর এতই পুড়েছে যে, আমরা তাকে রক্ষা করতে পারিনি। নুসরাত জাহান রাফির চিকিৎসাসহ সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাফির পরিবারের পাশে আলাউদ্দিন নাসিম : ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির পরিবারের পাশে ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম। গত শনিবার হাসপাতালে ভর্তি থেকে শুরু করে গতকাল সন্ধ্যায় দাফন পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে থেকে চিকিৎসাব্যবস্থা, লাশের ময়নাতদন্ত সব কাজের তদারকি করেন তিনি।

নুসরাতকে ঢাকায় আনার পরপরই হাসপাতালে ছুটে যান আলাউদ্দিন আহমেদ নাসিম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি সেখানে অবস্থান করে রাফির চিকিৎসাব্যবস্থার তদারকি এবং পরিবার ন্যায়বিচার পাবে বলে আশ্বস্ত করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সোনাগাজী উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপ্টন ছিলেন। বুধবার রাতে ডাক্তার যখন রাফিকে মৃত ঘোষণা করেন সে সময়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন। গতকাল সকালে আলাউদ্দিন নাসিম ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছালে ওই শিক্ষার্থীর বাবা এ কে এম মুসা তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি তাকে সান্ত্বনা দেন এবং বলেন, ‘অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো অপরাধীই পার পাবে না।’ পরে নিজে উপস্থিত থেকে রাফির লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা, সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত এবং গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। সন্ধ্যায় রাফির জানাজায় অংশ নেন।

পৌর কাউন্সিলর মকসুদ ও জাবেদসহ পাঁচজন গ্রেফতার : দুর্বৃত্তদের হাতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার পলাতক আসামি পৌর কাউন্সিলর মকসুদ আলম ও জাবেদসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নুসরাতের মামলার তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত পিবিআইর বিশেষ টিম গতকাল চট্টগ্রাম থেকে পৌর কাউন্সিলর মকসুদ আলমকে গতকাল গ্রেফতার করে। এ ছাড়া জাবেদসহ অন্যদের ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। আটককৃত সবাই নুসরাতের ভাইয়ের দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ১৭ জনকে গ্রেফতার  করা হলো। এর আগে ওই মামলায় অধ্যক্ষসহ ১২ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর মধ্যে অধ্যক্ষসহ কয়েকজন রিমান্ডে রয়েছে।

প্রভাবশালীর আশ্রয়ে ছিলেন সিরাজ-উদ-দৌলা : মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা নানা অপকর্মে সম্পৃক্ত থাকলেও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর আশ্রয়ে থাকায় তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ চক্রে রয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের প্রভাবশালী ১৫ নেতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা। এদের ব্যবহার করেই প্রায় ১৮ বছর ধরে মাদ্রাসায় ও মাদ্রাসার বাইরে নিজের প্রভাব ধরে রেখেছিলেন এককালের এই জামায়াত নেতা। আর সুবিধা আদায়ের জন্য এই রাজনৈতিক-প্রশাসনিক চক্রটিকে তিনি নিয়মিত মাসোহারা ও উপঢৌকন দিতেন। নিহত নুসরাত জাহান রাফির ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় আলোচিত চক্রের অনেকের নামই উঠে এসেছে। মামলায় পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, কাউন্সিলর ও মাদ্রাসা কমিটির সদস্য মাকসুদ আলম, আবদুল কাদের, নূরউদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীমসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশি অভিযানে আফছার উদ্দিন ও নূরউদ্দিন গ্রেফতার হলেও প্রভাবশালী কাউন্সিলর মাকসুদসহ বাকিরা গা ঢাকা দিয়েছেন। এ ঘটনার পর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সহসভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমীনসহ অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তি।

ছিলেন জামায়াত নেতা : জানা যায়, অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা সোনাগাজী উপজেলা জামায়াতের নেতা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আগেও অনৈতিক কাজের অভিযোগ এবং একাধিক মামলা আছে। তিন বছর আগে তাকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার করা হয়। জামায়াত থেকে বের হয়ে এই অধ্যক্ষ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মামুনের সহায়তায় টিকে যান।

পেয়েছেন প্রশাসনের সহায়তা : গত বছর ৩ অক্টোবর অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা আলিম শ্রেণির আরেক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন। প্রতিকার চেয়ে মেয়েটির বাবা মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) এনামুল হকের কাছে অভিযোগ দিয়েছিলেন। চিঠির অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সোহেল পারভেজের কাছেও দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং যে তিন শিক্ষক অধ্যক্ষের যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন, তাদের কারণ দর্শানোর চিঠি দেন অধ্যক্ষ। ফলে আগের ওই শ্লীলতাহানির ঘটনাটি চাপা পড়ে যায়।

যৌন হয়রানির ঘটনাকে নাটক বানাতে চেয়েছিলেন ওসি : যৌন হয়রানির অভিযোগ করতে গিয়ে ফেনীর সোনাগাজী থানার সদ্যপ্রত্যাহৃত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের কক্ষে আরেক দফা হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে। ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করতে করতেই নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। মৌখিক অভিযোগ নেওয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিল না। ভিডিও করার সময় নুসরাত অঝোরে কাঁদছিল এবং তার মুখ দুই হাতে ঢেকে রেখেছিল। তাতেও ওসির আপত্তি। বার বারই ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে এখনো তোমাকে কাঁদতে হবে।’ ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ভিতরে নুসরাতকে জেরা করা হচ্ছে, কীসে পড়? ঘটনা জানাতে গিয়ে নুসরাত বার বার কান্নায় ভেঙে পড়ছিল।

(আমাদের ফেনী প্রতিনিধির সহায়তা নেওয়া হয়েছে।)