অপরাধীদের সর্বোচ্চশাস্তির দাবি শিল্পীদের

প্রকাশিত

পিবিএ,বিনোদন-  মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিভিন্ন মহলে। শিক্ষকের যৌন লালসা ও আগুন সন্ত্রাসের শিকার নুসরাত মারা যায় গত ১০ এপ্রিল। এরপর থেকেই জড়িতদের বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমেছে অনেকে। আজ শনিবার অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে এফডিসির সামনে মানববন্ধন করেছেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের শিল্পী ও কলাকুশলীরা। এ সময় তাদের পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।মানববন্ধনে আসা নায়ক আলমগীর এ ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করে বলেন, ‘নুসরাতের সাথে যা হয়েছে তা বাংলাদেশের কেউ মেনে নেয়নি, নিতে পারে না। আজ সবার সাথে আমরা সাধারণ শিল্পীরা একসাথে রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। আগামী সাতদিনের মধ্যে যদি সমাধানের দিক নির্দেশনা না পাই তবে আমরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

এ সময় শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, বদিউল আলম খোকন, ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এস এ হক অলিক, শিল্পী সংঘের সভাপতি শহীদুল আলম সাচ্চু, প্রযোজক নেতা খোরশেদ আলম খসরু, নায়ক রিয়াজ, অঞ্জনা, সারা জাকের, চয়নিকা চৌধুরী, রোকেয়া প্রাচী, মৌমীতা মৌসহ আরো অনেকে।

আরো পড়ুন :  ফেনীর একরাম হত্যায় ৩৯ জনের ফাঁসি

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি আয়োজিত মানববন্ধনে নুসরাত সম্পর্কে নায়ক রিয়াজ বলেন, ‘মৃত্যুর আগে নুসরাত বারবার বলেছিল, যতক্ষণ নিঃশ্বাস আছে প্রতিবাদ করে যাব। আজ নুসরাত নেই। তবে আমরা আছি, আমরা নুসরাতকে বলছি, আমাদের যতক্ষণ নিঃশ্বাস আছে, আমরাও প্রতিবাদ করে যাব।’

খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, নারীরা সব কাজে অংশগ্রহণ করছে, এমন সময় এ ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছেন, আশা করি খুব তাড়াতাড়ি আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান পাব।’

এসএ হক অলিক বলেন, ‘আমরা এমন একটি বিচার দাবি করছি, যেন এই বিচার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। বাংলাদেশের মাটিতে আমরা এমন নৃশংসতা দেখতে চাই না।’

আরো পড়ুন :  প্রিজাইডিং অফিসাররা যেন নিরাপদে থাকেন : ম্যাজিস্ট্রেটদের সিইসি

রোকেয়া প্রাচী বলেন, ‘আমি লজ্জিত, কারণ আমার জন্মভূমিতে এই ঘটনা হয়েছে। আমি নুসরাতের বিচার দাবি করছি। পাশাপাশি স্থানীয় নেতা ও প্রশাসনের যারা এই ঘটনায় অপরাধীর পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

শহিদুলর আলম সাচ্চু বলেন, ‘সন্ত্রাস দমন, জঙ্গিবাদ দমন করে সরকার আমাদের শান্তিতে ঘুমানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছে। অথচ এই প্রশাসনের কিছু মানুষ অন্যায়কে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি যা বলেন, তা করেন। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি এর বিচার হবে। যত দিন না কোনো সমাধান হচ্ছে তত দিন বাংলাদেশের শিল্পী ও কলাকুশলীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবে।’

25Shares