আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ-গোলাগুলি, ৮ পুলিশসহ আহত ৩০

প্রকাশিত

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি-

সুনামগঞ্জের শিল্পনগরী ছাতকে নৌপথে টোল আদায়ে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সহোদর দুই আওয়ামী লীগ নেতার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, গোলাগুলি, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০ টা থেকে পৌনে ১১ টা পর্যন্ত উপজেলা সদরের বাসস্টেশন রোডে ঘণ্টব্যাপি এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফা কামালসহ ৮ জন পুলিশ আহত হয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ছাতক পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম চৌধুরী ও তার সহোদর জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরীর সমর্থকদের  মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ থামাতে কাঁদানে গ্যাস ও শর্ট গানের গুলি ছোড়া হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এর পরিমাণ জানানো হয়নি পুলিশের পক্ষ থেকে।

আরো পড়ুন :  মুম্বই হামলায় পাক সেনার ভূমিকা ফাঁস করায় সাংবাদিককে গ্রেফতারের নির্দেশ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘণ্টাব্যাপি চলা এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে রণক্ষেত্রে রূপ নেয় শিল্পনগরীর ব্যস্ততম বাস স্টেশন রোডের হাইস্কুলের সম্মুখের এলাকা। সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাদের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স  ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিল্পনগরী ছাতকের নদীপথে টোল আদায় নিয়ে সম্প্রতি ক্ষমতাসীন দলের নেতা কালাম চৌধুরী ও শামীম চৌধুরীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। অতীতে এই দুই সহোদর সমঝোতার ভিত্তিতে নদী থেকে টোল আদায় করলেও গত সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের মাঝে বিরোধ দেখা দেয়। এর প্রভাব গিয়ে পড়ে নদী থেকে টোল আদায়ের ওপরও। লাল-নীল-হলুদ কার্ড দেখিয়ে সুরমা নদী দিয়ে বালু, পাথর, সিমেন্টসহ বিভিন্ন পণ্য বহনকারী নৌযান থেকে অতিরিক্ত হারে চাঁদা আদায় করা নিয়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়ায়। এর জের ধরে মঙ্গলবার রাতে দুই পক্ষের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আরো পড়ুন :  সিরাজগঞ্জে নারী সদস্যর কান ছিঁড়ে ফেললেন ইউপি চেয়ারম্যান

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফা কামাল জানান, “সংঘর্ষে আমিসহ ৭/৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। টিআর সেল ও শর্টগানের গুলি ছুড়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে পুলিশ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত থাকায় এর পরিমাণ এখন বলা সম্ভব নয়।”

Shares