বৃষ্টিস্নাত ঐতিহাসিক শোলাকিয়া, লাখো মানুষের ঢল

প্রকাশিত

এ.এম উবায়েদ, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি-

গত দু-তিন দিন থেকে থেমে থেমে থেকে বৃষ্টি হচ্ছে সারাদেশে। বৃষ্টি অপেক্ষা করেও লাখো মানুষের ঢল নেমেছে ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার ময়দানে। এবারও দেশের বৃহত্তম ও ১৯২ তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। বুধবার (৫ জুন) সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে শুরু হওয়া জামাতে ইমামতি করেন ইসলামি চিন্তাবিদ, ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে নামাজ শেষে মোনাজাতে বাংলাদেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

এদিকে ঈদ জামাতকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে পুরো শহরকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। ভোর থেকেই শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বন্ধ করে দেওয়া হয় সব ধরনের যানবাহন চলাচল শোলাকিয়ার ময়দানের আশপাশের সকল রাস্তা দিয়ে মুসুল্লিরা পায়ে হেটে শোলাকিয়ায় প্রবেশ করে। মাঠ ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় চারস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, ২০১৬ সালে শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনা মাথায় রেখে এবার নিরাপত্তার বিষয়গুলো সাজানো হয়েছে সূচারুরূপে, বিপুল সংখ্যক মানুষকে সামলাতে একবারের জন্যও পুলিশকে শক্তি প্রয়োগ করতে হয়নি। সবাই ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জামাতে অংশ নিয়েছেন।

ঈদগাহে প্রবেশ করতে মুসল্লিদের প্রত্যেককে তিন থেকে চার বার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশির মুখে পড়তে হয়। জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি কাউকে। শোলাকিয়া মাঠ ও আশপাশের এলাকায় কার্যকর করা হয় চার চার নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে এবার এক হাজার ২০০ পুলিশ, পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, ১০০ র‌্যাব, এপিবিএন ও বিপুল সংখ্যক আনসার সদস্যের সমন্বয়ে নিশ্চিদ্র ও কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের পাশাপাশি মাঠে সাদা পোষাকে নজরদারি করে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পাশাপাশি নজদারিতে আকাশে টহলে রাখা হয় ড্রোন ক্যামেরা।। এছাড়াও মাঠসহ প্রবেশ পথগুলোতে বসানো সিসি ক্যামেরা ও ১২টি ওয়াচ টাওয়ার। এবার সুর্নিদিষ্ট ৩২টি গেট দিয়ে মুসুল্লিরা প্রবেশ করেন।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, শান্তিপূর্ন পরিবেশে এত বড় একটি ঈদ জামাত আদায় করতে পারায় মুসল্লীসহ সংস্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই। নিরাপত্তার ব্যাপক কড়াকড়ির পরও এবার লক্ষাধিক মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। এটি শোলাকিয়ার প্রতি মানুষের ভালোবাসারই এক অপূর্ব নিদর্শন।

রেওয়াজ অনুযায়ী, শোলাকিয়ায় জামাত শুরুর ৫ মিনিট পূর্বে ৩টি ৩ মিনিট আগে ২টি এবং ১ মিনিট আগে ১টি গুলি ছুড়ে নামাজের জন্য মুসল্লিদের সংকেত প্রদান করা হয়।