মিথ্যা সংবাদ ও গুঁজব ছড়িয়ে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজি করাই তার পেশা 

প্রকাশিত

 

সিক্স ডেস্ক- ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল কাইয়ুম। ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে মিথ্যা সংবাদ গুঁজব ছড়িয়ে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি করাই তার পেশা ! তথ্য-প্রযুক্তিকে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম কাজে লাগিয়ে বিশ্বের দরবারে শীর্ষস্থান দখল করে নিলেও ময়মনসিংহের এই যুবক বেছে নিয়েছে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির এক অন্যতম পথ। অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে ডোমেইন কিনে একাধিক নামে অনলাইন সংবাদপত্রের ওয়েবসাইট তৈরি করে এবং ঐ সকল ওয়েবসাইটে সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তির নামে মিথ্যা সংবাদ, পর্নো ছবি এডিট করে উক্ত ব্যক্তির মুখ লাগিয়ে সংবাদে কিংবা ফেসবুক পেইজে ছবি প্রকাশ করার পর বাল্ক এসএমএস অথবা ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে ম্যাসেজ দিয়ে প্রচারণা করে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজি করে আসছে আব্দুল কাইয়ুম ।

তাছাড়া কখনো কখনো সংবাদ বা ফেসবুক পোস্ট গুলো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম গুলোতে প্রচারণা এবং পোস্ট গুলো ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে ভীতি প্রদান করে। ভুক্তভোগীরা সমাজে নিজেদের মান সম্মান রক্ষায় তার চাহিদা মত অর্থ প্রদান করতে বাধ্য হয়। ময়মনসিংহের সাংবাদিক মোঃ খায়রুল আলম রফিক বাদী হয়ে ২৭ মে ২০১৯ তারিখে ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন । মামলা নং- ১২৮

এবং একই আইনে ৩০ মে ২০১৯ তারিখে চট্রগ্রাম থেকে হাফেজ মোঃ সালাউদ্দিন কাদের আবদুল কাইয়ুমের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

 

 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিভিন্ন সময় অজ্ঞাত ব্যক্তির নামে ডোমেইন কিনে একাধিক নামে অনলাইন সংবাদপত্রের ওয়েবসাইট তৈরি করে এবং ঐ সকল ওয়েবসাইটে সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তির নামে মিথ্যা সংবাদ, পর্নো ছবি এডিট করে উক্ত ব্যক্তির মুখ লাগিয়ে সংবাদে কিংবা ফেসবুক পেইজে ছবি প্রকাশ করে এবং সেই পোস্টের লিংক বাল্ক এসএমএস অথবা ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে ম্যাসেজ দিয়ে প্রচারণা করে। এ গুলোর মধ্যে কিছু ফেসবুক আইডি হলোঃ দেবদাস, মোহাম্মাদ ফরিদ ফরহাদ সুমন, মিজানুর রহমান মিজান, মন মাঝি রে, মোহাম্মদ নুঝুম এবং কিছু ফেসবুক পেইজঃ প্রতিদিনের কথা, Ajker Bangladesh, Bhinnokhabar, Primekhabor. ভুক্তভোগীদের মধ্যে মোমেনশাহী ডি.এস. কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. মোঃ ইদ্রিস খান সহ ময়মনসিংহের বিভিন্ন গণ্যমান্য এবং সম্মানি ব্যক্তি যেমন, ফুলপুর ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক ড. আহমেদ মল্লিক, ডাঃ শিলা সেন, খান সেলিম হীরা, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সুমন, সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক, চত্রগ্রামের হাজেফ মোঃ সালাউদ্দিন কাদের, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সদস্য আকরাম হোসেন সহ আরও অনেকেই আব্দুল কাইয়ুমের

সাইবার ক্রাইমের স্বীকার হয়েছে। তার ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজিতে ফেসবুক আইডি হ্যাক, পর্ণো ছবি এডিট করে ভুক্তভোগীর মুখ বসানো, ফ্রি ব্লগ সাইট ও ফেইক ফেসবুক পেইজে পোস্ট এবং ভুয়া ওয়েবসাইটে কুরুচিপূর্ণ সংবাদ প্রকাশ।
ভুক্তভোগী ব্যক্তির কাছে উক্ত পোস্টের ব্যাপার নিয়ে যোগাযোগ করে হ্যাকিং এর মাধ্যমে মুছে দেয়ার নামে বিভিন্ন অংকের ডলারের সম পরিমাণে টাকা হাতিয়ে নিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে উক্ত ওয়েবসাইট বন্ধ বা উক্ত ফেসবুক পেইজ থেকে পোস্টটি সরিয়ে দেয় এবং পুনরায় একই পদ্মটি অবলম্বন করে নতুন ওয়েবসাইট বা ফেসবুক ফেইজ কিংবা ফ্রি ব্লগ সাইট খুলে একই ভাবে টাকা দাবী করে। তাছাড়া কখনো কখনো সংবাদ বা ফেসবুক পোস্ট গুলো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম গুলোতে প্রচারণা এবং পোস্ট গুলো ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে ভীতি প্রদান করে। ভুক্তভোগীরা সমাজে নিজেদের মান সম্মান রক্ষায় তার চাহিদা মত অর্থ প্রদান করতে বাধ্য হয়।
ময়মনসিংহের স্বদেশ হাসপাতালে চাকরীকালীন সময় সহকারী অ্যাকাউন্টস অফিসার হারুন-উর-রসীদ এর নামে ৩০ হাজার টাকার চেক জালিয়াতি করে এবং হাসপাতালের ক্যাশ থেকে ১ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা চুরি করে ধরা পরায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরী থেকে বহিষ্কার করে।
মোমেনশাহী ডি.এস কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. মোঃ ইদ্রিস খানের দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মামলায়

গত ১২ মে ২০১৯ তারিখে গ্রেফতার হয় এই প্রতারক ও ডিজিটাল চাঁদাবাজ চক্রের প্রধান হুতা আবদুল কাইয়ুম।
আবদুল কাইয়ুম পরিচালিত একটি ওয়েবসাইটের আর্কাইভ অনুসন্ধান করে দেয়া যায় যে, bdpress24.com এবং bdpress24.net ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪ সালের নিউজ পোর্টালটির সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ আব্দুল কাইয়ুম। ০৯ জানুয়ারি ২০১৬ তে এই পত্রিকাটিরই সম্পাদকের নামঃ লাইলি বেগম, অফিসঃ ৩৮, কমার্শিয়াল এরিয়া, মতিঝিল এবং প্রকাশনায়ঃ বেষ্টওয়ে মিডিয়া গ্রুপ লিঃ, আর যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়, +৮৮০২৯৫০০০১১, +৮৮০১৭৭৭৮৮৮৯৯৯, +৮৮০১৭৭৭৯৯৯০০০, ই-মেইলঃ bdpress2015@gmail.com, ০১ অক্টোবর ২০১৬ তে দেখা যায় উক্ত ওয়েবসাইটেরই সম্পাদকের নামঃ মাহমুদা খানম, অফিসঃ ৩৮, কমার্শিয়াল এরিয়া, মতিঝিল। মোবাইলঃ +৮৮০১৯১১০০৬৭১২, +৮৮০১৭৭৭৯৯৯০০০ এবার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বেষ্টওয়ে মিডিয়া গ্রুপ লিঃ এর নাম বাদ দেয়া হয়।

২০১৮ সাল থেকে সম্পাদকের নাম মাহমুদা খানম ঠিক রেখে আমেরিকার ভুয়া মোবাইল নাম্বার ও ভুয়া অফিস ঠিকানা ব্যবহার কর আসছে।
উক্ত ওয়েবসাইটে বিভন্ন সময় ওয়েবসাইট এডমিনের ইচ্ছে মত, মনগরা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মিথ্যা কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন ছবিসহ সংবাদ প্রচার করে আসছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, মোমেনশাহী ডি.এস. কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. মোঃ ইদ্রিস খানকে নিয়ে একটি মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ যা ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে bdfactfinding.com এ প্রকাশিত হয়েছিল যেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১২ মে ২০১৯ তারিখে আব্দুল কাইয়ুম ডিবির হাতে আটক হয় এবং একই/হুবুহু সংবাদটি গত ১৬ মে ২০১৯ তারিখে আব্দুল কাইয়ুম সম্পাদিত bdpress24.net নামে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।

এই প্রতারক চক্রের মূলহুতা আব্দুল কাইয়ুম গ্রেফতার হওয়ার পরও তার সহযোগীরা ওয়েবসাইট, ফ্রি ব্লগ সাইট ও ফেসবুক পেইজ গুলোতে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদে সচল রেখেছে।