এখনও গ্রেফতার হয়নি শ্বাশুড়ি হত্যাকারি সিআইডি কনস্টেবল অসীম

প্রকাশিত

সনজিত কর্মকার, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি-
চুয়াডাঙ্গাঃ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় উপর্যূপরি ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে শ্বাশুড়িকে হত্যাকারি সিআইডি কনস্টেবল অসীম ভট্রাচার্যকে এখন গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশ প্রশাসন প্রযুক্তি ব্যবহারসহ বহুমুখি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ঘাতক কনস্টেবল অসীমের মাদক ব্যবসার নানা কাহিনি বের হয়ে আসছে।

জানা গেছে, শনিবার (৮ জুন) রাতে আলমডাঙ্গা শহরের মাদ্রাসাপাড়ায় জঘন্য হত্যাকান্ডের পর থেকে ঘাতক সি আইডি কনস্টেবল অসীম ভট্রাচার্য পলাতক। তার ফেসবুক ডি-অ্যাক্টিভেট করা হয়েছে। তার ব্যবহৃত মোবাইলের দুটি নম্বর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মুন্সি আসাদুজ্জামান জানান, হত্যাকান্ডটি খুবই স্পর্শকাতর। বেশ সাবধানতার সাথে তদন্ত কাজ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হচ্ছে। ঘাতককে গ্রেফতার করতে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ছাড়াও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। ইতোমধ্যে অসীম ভট্রাচার্যের মোবাইলফোনের কললিস্ট দেখে তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষাকারিদের থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে শর্তসাপেক্ষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪৮ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও ঘাতক অসীমকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসি জানান, জঘন্য হত্যাযজ্ঞের পর ঘাতক দৌঁড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ভাড়াবাড়িতেই ছিল। পরে পুলিশ সেটি জব্দ করেছে। ঘটনার রাতে পায়ে হেঁটে আলমডাঙ্গা শহরের বাইরে যাওয়া তার পক্ষে অনেকটাই অসম্ভব। রাতে হয়তো আলমডাঙ্গাতেই তার কোন শুভাকাঙ্খির বাড়িতে অবস্থান করতে পারে।

আলমডাঙ্গা শহরে তার বিভিন্ন যুবকের সাথে বাড়াবাড়ি রকমের সম্পর্কের কথাও এখন বেশ চাওর হচ্ছে।

এ ঘটনার পর ঘাতক অসীমের মাদকব্যবসার কথা শহরে বেশ জোরেসোরে আলোচিত হচ্ছে। মাদকব্যবসার সাথে জড়িত থাকার সুবাদে আলমডাঙ্গার সীমান্তবর্তি দর্শনা এলাকা ও গাংনীর উপজেলার চিহ্নিত কিছু ব্যক্তির সাথে তার সখ্যতা রয়েছে বলেও অনেকে দাবি করছেন।

অনেকের দাবি, ঘাতক অসীমের পাসপোর্ট ও ভিসা রয়েছে। মাঝে-মধ্যেই সে ভারতে যেত। এমন জঘন্য ঘটনার পরে সর্বাগ্রে সে ভারতে ঢুকতে চাইবে।

 

 

হত্যার ঘটনা জানাজানির পর ঘাতক সি আইডি কনস্টেবল অসীমের মাদকদ্র্রব্য ব্যবসার নানা কাহিনি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। আলমডাঙ্গা শহরের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ি যুবক, আলমডাঙ্গা কলেজপাড়ার কয়েকজন যুবক, রথতলার ২ যুবক, এক ফলব্যবসায়ি, বক্সীপুরের এক যুবকের সাথে তার মাদকব্যবসার নানাকাহিনি বেশ আলোচিত হচ্ছে।

ছুরিকাঘাতে মারাত্মক আহত ঘাতকের স্ত্রী ফাল্গুনী রাণী অধিকারীর কাকাতো এক দাদাও ঘাতক অসীমের মাদকব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা উঠে আসছে। শহরে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, রিয়াদ কমপ্লেক্সের এক ব্যবসায়ি যুবক তার বৈধ ব্যবসার আড়ালে এই ঈদে প্রায় ২ শ বোতল ফেনসিডিল বিক্রি করেছে। এই ব্যবসায়ি যুবক অসীমের নিকট থেকেই ফেনসিডিল ক্রয় করত। কলেজপাড়ার এক যুবকের মাধ্যমে অসীম ফেনসিডিল সকল ব্যবসায়ির নিকট পৌঁছে দিত বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। অবশ্য এদের অধিকাংশকেই শনিবার রাতে পুলিশ আলমডাঙ্গা থানায় ডেকে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে শর্ত সাপেক্ষে ছেড়ে দিয়েছেন। এদের সাথে ঘাতক অসীমের বিভিন্ন সময় মোবাইলফোনে যোগাযোগের প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে থানা পুলিশসূত্রে জানা গেছে।

খোঁজ নিতে দেখা গেছে, অসীম যাদের সাথে মাদকব্যবসা করত তাদের নিকট থেকে সিকিউরিটি বাবদ অগ্রীম জামানত নিয়েছে। কেউ শ্বশুরের নিকট থেকে টাকা নিয়ে জামানত দিয়েছে, আবার কেউবা পারিবারিক ব্যবসা ধ্বংস করে।

উল্লেখ্য যে, গত শনিবার (৮জুন) গভীর রাতে আলমডাঙ্গা শহরের মাদ্রাসাপাড়ায় মাদকাসক্ত সিআইডি পুলিশ কনস্টেবল জামাই অসীম ভট্রাচার্যের ছুরিকাঘাতে শ্বাশুড়ি শেফালী রাণী অধিকারী নিহত হয়েছেন। স্ত্রী ফালগুনী রাণী অধিকারী ছুরিকাঘাত করে হত্যার সময় তাকে বাঁচাতে গেলে শ্যালক আনন্দ অধিকারীকেও ছুরিকাঘাতে মারাত্মক আহত হয়।

ফাল্গুনী রাণী অধিকারী ও আনন্দকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফাল্গুনী অধিকারীর অবস্থা এখনও সঙ্কটাপন্ন। পুলিশ ঘাতকের ঘর থেকে ৫১ বোতল ফেনসিডিল ও একটি ভারতীয় সিমকার্ড উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সদানন্দ অধিকারী বাদী হয়ে শনিবার রাতেই আলমডাঙ্গা থানায় এজাহার দায়ের করেন।

এজাহার ও পারিবারিকসূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯ বছর পূর্বে আলমডাঙ্গা শহরের মাদ্রাসাপাড়ার সদানন্দ অধিকারীর কন্যা ফাল্গুনী রাণী অধিকারীর পারিবারিকভাবে খুলনা দৌলতপুর উপজেলার মহেশ্বরপাশার মৃত দুলাল ভট্রাচার্য অরফে দীনেশ কুমার ভট্রাচার্যের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল অসীম কুমার ভট্রাচার্যের সাথে বিয়ে হয়। আরাধ্যা ভট্রাচার্য অনুশ্রী নামে তাদের ৬ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। গত ২ বছর আগে অসীম ভট্রাচার্য চুয়াডাঙ্গা সিআইডি-তে বদলী হয়ে আসেন। স্ত্রী-কন্যা নিয়ে শ্বশুরবাড়ির নিকটবর্তি কলেজপাড়ায় সুকেশ কুমার সাহার বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন।