৪৮ ঘণ্টায় মৌলভীবাজারে ৬ লাশ

প্রকাশিত

মৌলভীবাজার- মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যাবধানে মৌলভীবাজারে ৬জন লাশ হয়েছেন। এরমধ্যে রয়েছে কিশোরী, বৃদ্ধ, নারী ও যুবক। গত দুই দিনে ঘটেছে হত্যা, আত্মহত্যার মত ভয়ংকর সব ঘটনা। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে এইসব ঘটনার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে কিছু ঘটনায় গ্রেফতারসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ১২টায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নে পাওনা টাকা চাওয়ায় শহিদ উল্যা (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ খুন হয়েছেন। আদমপুর ইউনিয়নের ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কাউওয়ার গলা গ্রামে করিম মিয়ার কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে বলে সর্বশেষ পুলিশ জনিয়েছে।

অপরদিকে বড়লেখা উপজেলায় নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে লামিয়া আক্তার (১৪) ও শাম্মি আক্তার (১২) নামের দুই খালাতো বোন মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় বড়লেখা উপজেলার উত্তর পকুয়া গ্রামে তারা পুকুরে গোসল করতে নামে কিন্তু সাঁতার না জানায় দুজনে পানিতে তলিয়ে যায়। বড়লেখার উত্তর শাহবাজপুর পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে সকাল ৮টার দিকে এই উপজেলার নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর এলাকায় পান্না বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধুকে তার স্বামী ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী মতছিনের ছুরি দিয়ে আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার পর নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানায়।

অন্যদিকে রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে রাজনগর উপজেলার তারাচং গ্রামে হালিমা বেগম নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের স্বামীর বাড়ির লোকজন মৃত্যুর ঘটনাকে আত্মহত্যা বললেও বাবার বাড়ির লোকজনের দাবি তাকে শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আত্মহত্যা করতে প্ররোচিত করা হয়েছে। এঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল খালিক বাদি হয়ে রাজনগর থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ নিহতের স্বামীকে গ্রেফতার করেছে। পারিবারিক কলহের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে মৌলভীবাজার শহরের রবিবার বিকালের সোনাপুরে আলমগীর হোসেন (২৭) নামের এক ওয়ার্কসপ শ্রমিক রহস্যজনক মুত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবার জানায় পারিবারিক কলহের জেরে আলমগীর আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তবে আরোও কিছু ঘটনা ঘটতে পারে তা হয়তু বা রয়েছে লোকচক্ষুর আড়াতে। সচেতন নাগরীকদের দাবী- সামাজিক ও নৈতিকতা অবক্ষয়ের কারণেই দিনদিন দুর্ঘটনা ও অপরাধ বেড়েই চলছে। এর জন্য এখনই সচেতন না হলে ভবিষৎ প্রজন্ম অন্ধকারে ডুবে যাবে।