দুধ না বিষ

প্রকাশিত

সিক্স ডেস্ক-

-দেশে এখন প্রায় প্রতিটি খাদ্যসামগ্রী নিয়েই চলছে ভেজালের মহোৎসব। গরুর দুধে সিসা ও ক্রোমিয়াম পাওয়া ভয়ঙ্কর ব্যাপার। এগুলো মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এসব দ্রব্য মানব শরীরে প্রবেশের চূড়ান্ত পরিণতি ক্যান্সার। গত মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টার ও ফার্মেসি অনুষদের গবেষকরা সংবাদ সম্মেলনে বলছেন, বাজারে প্রচলিত ৭টি পাস্তুরিত দুধে মানব চিকিৎসায় ব্যবহৃত ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে, যা মানবদেহের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

তবে একইদিনে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মান যাচাই প্রতিবেদনে অন্য রকম তথ্য পাওয়া গেছে। বিএসটিআই তাদের গবেষণার ভিত্তিতে আদালতকে বলেছেন, বাজারে থাকা ১৪টি ব্র্যান্ডের ১৮টি পাস্তুরিত/ইউএইচটি দুধ পরীক্ষা করে আশঙ্কাজনক কিছু পাওয়া যায়নি। দুটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের দুরকম বক্তব্য সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দুধ ছাড়াও ফ্রুট ড্রিংকস, সরিষার তেল, সয়াবিন তেল, ঘি, গুঁড়া মসলা, শুকনা মরিচ, হলুদ, পাম অয়েল নিয়েও পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে।

 

 

এসব পণ্যেরও যথাযথ মান নেই বলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১৭ মে ‘পাস্তুরিত দুধের ৭৫ শতাংশই নিরাপদ নয়’ শিরোনামে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদনগুলো আদালতের নজরে আনা হলে আদালত এ বিষয়ে রিট আবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ২০ মে হাইকোর্টের রিট দায়ের করেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ। ওই রিটের শুনানি করে বাজারে পাওয়া যায় এমন সব ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত দুধের মান পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটিকে নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত।

আদালতে জমা দেয়া বিএসটিআইর এমন তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষ তাদের এই তথ্যে কতটুকু আশ্বস্ত হতে পারবেন সেটা দেখার বিষয়। শিশুদের জন্ম থেকে বিকাশ, প্রাপ্তবয়স্কদের স্বাস্থ্যরক্ষা ও রোগব্যাধি থেকে সুরক্ষার জন্য দুধ অপরিহার্য। পূর্বেও সেই পাস্তুরিত তরল দুধে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ার বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, ছানার পানির সঙ্গে মিল্ক পাউডার, দুধের ননী, সয়াবিন, হাইড্রোজ, লবণ, চিনি, ফরমালিন ও কালার ফ্লেভার ইত্যাদি মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে নকল দুধ। এ ছাড়া তাজা রাখার জন্য ছানায় দেয়া হচ্ছে ফরমালিন।

এ ছাড়া অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার লোভে খাঁটি ঘিয়ের সঙ্গে নানা উপকরণ মিশিয়ে নকল ঘি তৈরি করছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের অভিমত হচ্ছে, ফরমালিন মেশানোর ফলে লিভার ও কিডনির রোগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কাজেই দুধে ভেজাল মেশানো ও নকল দুধ তৈরি ও বিক্রির এ অপকর্মে যারা জড়িত তাদের নীতিকথা শুনিয়ে নিবৃত্ত করা যাবে বলে মনে হয় না।

এর জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করতে হবে। অপরাধীদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। উদ্বেগের বিষয়, এসব ঘটনায় দায়ী কাউকে শাস্তির আওতায় আনা যায়নি। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল থেকে শুরু করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ ও প্রশাসনকে এ বিষয়ে সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে।