গাংনীতে মসজিদ কমিটি নিয়ে মুসল্লীদের মধ্যে উত্তেজনা,

প্রকাশিত

লিটন মাহমুদ ,মেহেরপুর প্রতিনিধি- মেহেরপুরের গাংনীর সীমান্তবর্তী গ্রাম তেঁতুলবাড়ীয়া পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ কমিটির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও স্বেচ্ছাচারিতায় মুসল্লীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। চাপা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে আজ শুক্রবার বাদ জুম্মা দু’পক্ষের মুসল্লীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে অভিযোগের ভিত্তিতে পার্শ্ববর্তী হিন্দা ক্যাম্পের আইস মহাম্মদ আলী সরেজমিনে এসে উভয় পক্ষের অভিযোগ শুনে গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ ওবাইদুর রহমানের পরামর্শক্রমে আগামীকাল বিকেলে উভয়পক্ষকে নিয়ে থানায় বসে সমঝোতা করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। মসজিদ কমিটির প্রভাবশালী সভাপতি ও সেক্রেটারীর উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে মহল্লার মুসল্লীরা বিকালে মানববন্ধন করেছে।
মহল্লার কমপক্ষে দেড়শ’ পরিবারের মুসল্লীদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে,মসজিদের জমিদাতার ছেলে তেঁতুলবাড়ীয়া মোল্লা বাড়ীর গ্রাম ডাক্তার মোশারফ হোসেন দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে সভাপতি হিসাবে কমিটি পরিচালনা করে আসছেন্। তার পছন্দমত ব্যক্তি সাহজাহান আলীকে সেক্রেটারী ও ওসমান আলীকে ক্যাশিয়ার হিসাবে রেখে কমিটি গঠন করে মসজিদ উন্নয়নে নানা অনিয়ম করে যাচ্ছেন।এমনকি দীর্ঘদিন যাবৎ আয়-ব্যয়ের কোন হিসাব পত্র না দিয়ে গড়িমসি করছেন। হিসাব নিকাশ চাইলে উল্টো ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মুসল্লীদের সাথে অসদাচরণ করে থাকেন।তিনি সব সময় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে গ্রামের লোকজনকে জিম্মি করে রাখতে চান্।
মহল্লার আমানুল হক মেম্বর, মোফাজ্জেল হক, মাসুম রেজা, আবুবকর সিদ্দিক, জিহাদ, চাঁদ আলী,আব্দুল বারী , মুকুল ব্শ্বিাস জানান, ডা. মোশারফ হোসেন এই মসজিদকে পারিবারিক মসজিদ বলে দাবি করে থাকেন।তিনি জোর গলায় বলেন, এই মসজিদ আমার পিতার দানে তৈরী অতএব এই মসজিদ আমাদের । এখানে কেউ নামাজ পড়লে পড়বে। ভাল না লাগলে পড়বে না। এখানে কাউকে হিসাব দেয়া হবে না।দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য বার বার কমিটি পূনর্গঠন করার কথা তুললেও তিনি কর্ণপাত না করে মহল্লাবাসীর সিদ্ধান্ত না নিয়ে মসজিদের দ্বিতল ভবনের কাজ শুরু করেছেন। জানা গেছে, বিগত সময়ে সংরক্ষিত মহিলা সাংসদ সেলিনা আখতার বানুর নিকট থেকে ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়ে দোতালা মসজিদ করার সিদ্ধান্ত নিলেও কাউকে জানানো হয়নি।এছাড়াও মসজিদের নামে মাঠে ২ বিঘা সম্পত্তি থাকলেও সেই জমি নিজেদের মধ্যে বর্গা দেয়ায় সেই জমি থেকে বার্ষিক আয়-এর কোন হিসাব পাওয়া যায়না। এসব ঘটনা অন্যদিকে প্রবাহিত করতে গ্রামের একজন অসহায় মহিলাকে নিয়ে মুসল্লীদের নামে মিথ্যা অপবাদ দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষ ডা. মোশারফ হোসেন জানান, আমরা মোটামুটি হিসাব দিতে চাই কিন্তু তারা প্রতিমাসের টুকিটাকি আয়-ব্যয়ের হিসাব চাই্। ছোট খাট হিসাব নিকাশ দেয়া সম্ভব হয়না। তিনি আরও জানান, আমাদের পরিবার থেকে মসজিদ নির্মাণের জন্য ৪ শতাংশ জমি দেয়া হয়েছিল কিন্তু বর্তমানে প্লটে জমি কিছুটা বেশী থাকায় মহল্লাবাসী সেইটুকু দাবি করছেন। একটি দুষ্টচক্র মসজিদটি নিয়ে কর্তৃত্ব করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। সেক্রেটারী শাহজাহান আলী জানান, নামাজ শেষে মসজিদ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে আমার উপর চড়াও হয়ে আমাকে লাঞ্ছিত করেছে এমনকি আমার জামাকাপড় ছিড়ে দিয়েছে।
এব্যাপারে গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ ওবাইদুর রহমান জানান, মসজিদ নিয়ে মতবিরোধ হওয়াটা ঠিক না। মসজিদের জমি দিলেও নিজের দাবি করাটা ঠিক হবে না। এরকম হলে সেই মসজিদে নামাজ হয় না। উভয়পক্ষকে নিয়ে সুষ্ঠু সমাধান করা হবে।