কলকাতায় প্রতারিত বাংলাদেশি রোগী

প্রকাশিত

সায়নী ঘোষ,কলকাতা-

কলকাতায় ই. এম. বাইপাসের পাশে অভিনব কায়দায় প্রতারণার শিকার হয়েছেন এক বাংলাদেশি রোগী। বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে এ ঘটনা ঘটে। যদিও পূর্ব যাদবপুর থানা পুলিশের তৎপরতায় ধরা পড়ে অভিযুক্ত দুই প্রতারক। এতে প্রতারিত হওয়া কয়েক হাজার রুপি ফিরে পান বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা ওই রোগী।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের বরিশাল থেকে কলকাতার ই.এম. বাইপাশের পাশে একটি বেসরকারি হাসপাতালে (আর.এন.টেগোর) চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন মহম্মদ সাইমুল। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে ওই হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে চা পান করছিলেন তিনি। এ সময় এক যুবককে রাস্তায় পড়ে থাকা একটি কাগজের বান্ডিল কুড়িয়ে নিতে দেখেন সাইমুল। এরপরই দ্বিতীয় একটি ব্যক্তি সাইমুলকে এসে জানান আপনার সামনে থেকেই রুপির বান্ডিল তুলে নিয়ে গেল, আপনি কিছু বললেন না? প্রত্যুত্তরে সাইমুল জানান, বান্ডিল তুলতে দেখেছি কিন্তু তাতে রুপি ছিল কি না তা বলতে পারবো না। সাইমুলের সাথে দ্বিতীয় ব্যক্তির আলাপচারিতা চলাকালীন সময়ে সেখানে তৃতীয় এক ব্যক্তির উদয় হয়। তিনি বলেন, ‘আমার দুই লাখ রুপির বান্ডিল এখানে পড়ে গিয়েছে। আমার রোগী হাসপাতালে ভর্তি, আপনারা কেউ কি রুপির বান্ডিল দেখেছেন?’

এসময় দ্বিতীয় ব্যক্তি কাউকে দেখেন নি বলে জানালে, তৃতীয় ব্যক্তি ওই স্থান ছেড়ে চলে যান। কিছুক্ষণ পরই সাইমুল ও দ্বিতীয় ব্যক্তি-উভয়ই বান্ডিল হাতে ওই যুবককে দেখতে পান। তিনি স্বীকারও করেন যে রুপির বান্ডিল নিয়েছেন। তিনি এও জানান বান্ডিল তিনি দিতে রাজি কিন্তু তার বদলে কিছু রুপি দেওয়া হোক। এসময় সাইমুলকে উদ্দেশ্য করে দ্বিতীয় ব্যক্তি বলেন, আপনার কাছে রুপি থাকলে আপনি প্রথম ব্যক্তিকে কিছু দেন। পরে আমরা দুই লাখ রুপি ভাগ করে নেবো।

প্রতারকদের কথায় লোভে পড়ে সেই ফাঁদে পা দেন সাইমুল। তিনি নিজের কাছে থাকা ১০ হাজার রুপি দিয়ে দেন প্রথম ব্যক্তিকে (যিনি বান্ডিল নিয়ে চলে যান)। এরপর সাইমুলকে নিয়ে হাসপাতালের সামনে ফিরে আসেন দ্বিতীয় ব্যক্তি এবং বান্ডিলটি সাইমুলের ব্যাগে রাখতে বলে জানায় গাড়ি পার্ক করেই তিনি ফিরে আসবেন। যদিও দ্বিতীয় ব্যক্তি আর ফিরে আসেননি। এদিকে নিজের ব্যাগ খুলে চোখ ছানাবড়া হয়ে যায় সাইমুলের। দেখেন রুপির বান্ডিল বলে যেটাকে চালানো হচ্ছিল তার ভিতর রয়েছে ভাঁজ করা পুরোনো পত্রিকা। এরপরই পার্শ্ববর্তী পূর্ব যাদবপুর থানায় গিয়ে পুরো ঘটনা জানান সাইমুল।

সাইমুলের অভিযোগ পেয়েই তাকে নিয়ে আশপাশের হাসপাতালগুলিতে প্রতারণা চক্রের সন্ধানে নামে পুলিশ। পাশে থাকা অন্য একটি হাসপাতালের সামনে অভিযুক্ত দুই প্রতারকের হদিশ মেলে। হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত দুইজনকেই।

আটক ব্যক্তিদের নাম গৌতম মাহাতো ও কমলজিৎ সিংহ। সম্পর্কে তারা শ্যালক ও ভগ্নিপতি। তাদের কাছ থেকেই উদ্ধার করা হয় সাইমুলের প্রতারিত হওয়া ১০ হাজার রুপিও। তবে ওই চক্রের সাথে জড়িত তৃতীয় ব্যক্তির সন্ধান পায়নি পুলিশ।

অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে শুক্রবার আদালতে তোলা হলে তাদের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই প্রতারণা চক্রের অন্য সদস্যদেরও খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।