জাতীয় সংসদে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট পাস

প্রকাশিত

Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টারঃ ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। রবিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় বাজেট পাসের সুপারিশ করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।

৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার এই বাজেট বর্তমান অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট। আর বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১১তম।

এর আগে সকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। বাজেটের ওপর ৫৯টি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ৫৯টি দাবি উপস্থাপন করা হয়।

এসব দাবির ওপর ৯জন সংসদ সদস্য ৫২০টি ছাঁটাই প্রস্তাব আনেন। ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। ছাঁটাই প্রস্তাব আনা ৯জন এমপি হলেন-বেগম রওশন আরা মান্নান, পীর ফজলুর রহমান, মোকাব্বির খান, ফখরুল ইমাম, হারুনুর রশীদ, রুস্তম আলী ফরাজী, কাজী ফিরোজ রশীদ, বেগম রুমিন ফারহানা ও মুজিবুল হক চুন্নু।

জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে প্রস্তাবিত দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয় সম্পর্কিত দায় মঞ্জুরির পরিমাণ ৬ লাখ ৪২ হাজার ৪শ’ ৭৮ কোটি টাকা। যা অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত মূল বাজেটের আকার ৫ লাখ ২৩ হাজার ১শ’ ৯০ কোটি টাকার চেয়ে ১ লাখ ১৯ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা বেশি।

উল্লেখ্য, দায় মঞ্জুরির অর্থ ব্যয় হবে না। ব্যয় করা হবে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১শ’ ৯০ কোটি টাকা। এ অর্থ দাতা সংস্থা ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের বরাদ্দ দেখানোর উদ্দেশে রাখা হয়।

২০১৯-২০ অর্থবছরের সংযুক্ত তহবিল থেকে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার জন্য জাতীয় সংসদ রাষ্ট্রপতিকে অনুমোদন দিয়েছে। যা, ২০২০ সালের ৩০ জুন তারিখের মধ্যে ব্যয় করা হবে। এসময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং উপনেতা বেগম সাজেদা চৌধুরীসহ বিরোধীদলীয় সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এবারের বাজেটের মূল আকার ৫ লাখ ২৩ হাজার ১শ’ ৯০ কোটি টাকা। এরমধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাবদ ব্যয় করা হবে ২ লাখ ২ হাজার ৭শ’ ২১ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮শ’ ১০ কোটি টাকা। বাজেটের ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩শ’ ৮০ কোটি টাকা। অনুমোদিত বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮.২ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫.৫ শতাংশ।

১৩ জুন (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের বাজেটের মূল বিষয় হচ্ছে ২০১২ সালে প্রণীত ভ্যাট আইন কার্যকর করা। ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা, পরীক্ষা-নীরিক্ষা ও পরিমার্জনের পর ভ্যাট আইন কার্যকরের বিষয়টি চূড়ান্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী।

সোমবার (১ জুলাই) থেকে নতুন বাজেট কার্যকর শুরু হবে। এবং কাল থেকেই শুরু হবে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন। এবারের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হয়নি। বড় কোনও ধরনের সংশোধন ছাড়া শনিবার (২৯ জুন) অর্থবিল ২০১৯ পাস হয়।