লোকনাট্যদল স্বর্ণপদক পেলেন তিন গুণীজন

প্রকাশিত

Sharing is caring!

১৯৮১ সালের ৬ জুলাই ঋত্বিক নাট্যপ্রাণ লিয়াকত আলী লাকীর নেতৃত্বে নাট্যপ্রেমী একঝাঁক উদ্যমী তরুণের হাত ধরে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেছিল লোকনাট্যদল। নিরলস স্পৃহা নিয়ে সৃষ্টির অদম্য আকাক্সক্ষায় প্রতিষ্ঠিত লোকনাট্যদলের মূল লক্ষ্য আধুনিক নাট্যমনস্ক দর্শকদের উপযোগী করে বাংলার ঐতিহ্যবাহী নাট্যকর্মের শিল্পিত উপস্থাপনাসহ বিশ্বনাট্যের বিভিন্ন ধারার নাটক প্রযোজনা এবং বাংলা নাটককে সমৃদ্ধ করা।
জন্মলগ্ন থেকেই নিয়ত নিরীক্ষার মাধ্যমে নতুন নতুন নাট্য বিষয় ও আঙ্গিকের সঙ্গে দর্শকদের সম্পৃক্ত করা, নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ নাট্যকর্মী তৈরি করা, সৃষ্টিশীল ও নিষ্ঠাবান নাট্যকর্মীদের সম্মানিত করা, নাট্যচর্চার ইতিহাস সংরক্ষণ করা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নাটকের সঙ্গে যুক্ত করা, বড়দের পাশাপাশি শিশু-কিশোর ও যুবদের জন্য নাট্য আন্দোলন পরিচালনা করা, নতুন দর্শক সৃষ্টি করা, সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে সুশিক্ষিত ও সচেতন সমাজ গড়ার দায়িত্ব পালন করাসহ নানা সৃজনশীল কার্যক্রম লোকনাট্যদল সম্পন্ন করেছে নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে। জীবন ঘনিষ্ঠ ও নিরীক্ষাধর্মী নাটক মঞ্চায়নের অঙ্গীকারে বিশ্বস্ত থেকে লোকনাট্যদল এ পর্যন্ত ৩০টি নাটক প্রযোজনা করেছে।
গতকাল শনিবার ছিল লোকনাট্যদলের ৩৮ বছর পূর্তি। এ উপলক্ষে দলের উদ্যোগে দুদিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালায় প্রদান করা হয় ‘লোকনাট্যদল স্বর্ণপদক ২০১৯’। এ বছর এই সম্মাননায় ভ‚ষিত হলেন বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব প্রয়াত কল্যাণ মিত্র, অধ্যাপক আবদুস সেলিম এবং তারিক আনাম খান। এরপর সন্ধ্যায় প্রদর্শিত হয় দলের নতুন প্রযোজনা, বুদ্ধদেব বসুর গল্প অবলম্বনে লিয়াকত আলী লাকী নির্দেশিত ‘আমরা তিনজন’। এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হয় দলের অন্যতম প্রযোজনা, ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে পদাবলী যাত্রা ‘সোনাই মাধব’।