যারা এতিমের টাকা লুটপাট করে তারা ক্ষমার অযোগ্য

প্রকাশিত

সম্পাদকীয়: দেশ ও জনগণের কল্যাণে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ বা প্রকল্প হাতে নেয়। সেগুলো বাস্তবায়ন করেন সরকারি প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। তাঁরা সৎ না হলে প্রকল্পের বাস্তবায়ন সঠিক হয় না। অনেক ক্ষেত্রে পুরো অর্থটাই জলে যায়। তাই সরকারি কর্মকর্তারা যাতে সৎ থাকেন সেজন্য সম্প্রতি তাঁদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে; কিন্তু তাতে লাভ হয়েছে কী? দুর্জনেরা বলে, সরকারি কর্মকর্তাদের লোভ আরো বেড়ে গেছে। আগে বরাদ্দের অংশবিশেষ খেতেন, এখন পুরোটাই খেয়ে ফেলার চেষ্টা করেন। একটি সহযোগী দৈনিকে ‘এতিমদের হকে দুর্নীতির থাবা’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় একটি এতিমখানার জন্য ১০০ খাট, ২৫টি হুইলচেয়ার থেকে শুরু করে হাঁড়ি-পাতিল-তাওয়া-কড়াই-বঁটিসহ অনেক কিছুই কেনা হবে। এ জন্য যে দর প্রস্তাব করা হয়েছে, তা দেখে অনেকেরই মাথা ঘুরে যাবে। আইটেমভেদে দুই গুণ থেকে ছয় গুণ বা তারও বেশি দাম ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তর। সমাজের কল্যাণ ও সেবায় নিষ্ঠার উদাহরণ বটে!
শুধু সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বা সমাজসেবা অধিদপ্তরই নয়, প্রায় সব মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরেই চলছে বর্ধিত বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা পাওয়া কর্মকর্তাদের এমন বর্ধিত লুটপাট। হাওরাঞ্চলে এক কোদাল মাটি না ফেলেও কোটি টাকার বাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিযোগ আছে। রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ভবন তৈরির খবরও পত্রিকায় আসে। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বালিশ কেনার খবরে জাতি হাস্যরসে সিক্ত হয়। নীতিনির্ধারকদের বিবেচনা করা প্রয়োজন, বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা আর কত বাড়ালে তাঁরা সৎ হবেন, নাকি তাঁদের সৎ করার জন্য অন্য কোনো উপায় অবলম্বন করতে হবে? একটি আটতলা ভবনসহ সোনাগাজীর এতিমখানা ও প্রবীণনিবাসের পুরো প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। একটি বেসরকারি ও নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে পুরো প্রকল্পের ব্যয় পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখতে পারে। খরচের প্রস্তাব অস্বাভাবিক প্রতীয়মান হলে প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, ৩০ লাখ শহীদের রক্তে কেনা এই দেশের সরকারি কোষাগার থেকে যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়, সেই অর্থও আসে দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের রক্ত ও ঘামের বিনিময়ে। এই অর্থ যাঁরা লুটপাট করেন তাঁরা ক্ষমার অযোগ্য।