গ্রিসে ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ৬ পর্যটকের প্রাণহানি, জরুরি অবস্থা জারি

প্রকাশিত

Sharing is caring!

গ্রিসের উত্তরাঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ছয় পর্যটকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ দুর্যেোগে আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন।

বুধবার দিনগত রাতে বুধবার গ্রীস এর উত্তরাঞ্চলীয় হালকিদিকি অঞ্চলে এ ঘটনা ঘটে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষের বরাতে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দেশটির থেসালোনিকি শহরের নিকটবর্তী হালকিদিকি এলাকায় নিয়া প্লাগিয়ায় একটি রেস্টুরেন্টে ছাদ ভেঙে একজন মহিলা এবং আট বছর বয়সী ছেলে মারা গিয়েছেন। তারা উভয়ই রোমানিয়ান নাগরিক। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, উপকুলিয় শহর পটেইডায় তাদের হোটেলের কাছে একটি গাছ ভেঙে এক তরুণ সহদুইজন নিহত হয়।তারা উভয়ই রাশিয়ান নাগরিক। এ সময় বাতাসের বেগ অনেক বেশি ছিলো। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সেখানে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

দেশটির বিভিন্ন টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, শক্তিশালী এ ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে শহরটিতে গাড়ি ও গাছ উল্টে যাচ্ছে, বসতবাড়ির চাল উড়ে যাচ্ছে এবং মাটি ধসের ঘটনা ঘটছে।

গ্রিসের উত্তরাঞ্চলের বেসামরিক সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রধান ক্যারালাম্বোস স্টেরিয়াডিস বলেন, এ ঘূর্ণিঝড়ে ছয় পর্যটক নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, ঘূর্ণিঝড়ে গাড়ি উল্টে চেক প্রজাতন্ত্রের দু’জন, গাছ ভেঙে পড়ায় এক রাশিয়ান ও তার ছেলে এবং একটি ভবন ধসে রোমানিয়ার এক নারী ও তার শিশু প্রাণ হারিয়েছেন।

বর্তমানে সেখানে প্রায় ১৪০ জন উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন। ঘূর্ণিঝড়ের স্থায়ীত্ব ২০ মিনিটের মতো ছিল বলে জানায় স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

গ্রীষ্মে এই ধরনের মারাত্মক আবহাওয়া বছরের এই সময়ের জন্য “অত্যন্ত অস্বাভাবিক” বলে উল্লেখ আবহাওয়াবিদ ক্লেরক্সোস মারুসাকিস। ইউরোপীয় দেশের সামার সাধারণত গরম এবং শুষ্ক। আবহাওয়াবিদরা বৃহস্পতিবার সকালে এই এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের আগের দুই দিন গ্রিসের তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দু’দিনের এ তাপদাহের পরেই শক্তিশালী এ ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানে।