লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপদসীমার উপরে, আতঙ্কিত তীরবর্তী মানুষ

প্রকাশিত

Sharing is caring!

আসাদুল ইসলাম সবুজ, নিজস্ব প্রতিবেদক, লালমনিরহাট-  ৪/৫দিনের টানা বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এবার বড় বন্যার আশঙ্কা করছেন তিস্তা তীরবর্তী মানুষরা।
বৃহস্পতিবার (১১জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৮৫ সেন্টিমিটার। যা (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে সকাল ৬ টায় বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার এবং দুপুর ১২টায় ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা ১২ ঘণ্টায় পানিবৃদ্ধি পেয়েছে দ্বিগুণ।
স্থানীয়রা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গত চারদিনের ভারী বৃষ্টি। এতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। এর সঙ্গে বুধবার (১০জুলাই) দিনগত রাত থেকে তিস্তার পানিপ্রবাহ বেড়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট এ বন্যায় জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, কুলাঘাট ও মোগলহাট ইউনিয়নের তিস্তা ও ধরলার নদীর চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এসব ইউনিয়ের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা।
এদিকে, চরাঞ্চলের পানিবন্দী খেটে খাওয়া মানুষগুলো শিশুখাদ্য ও নিরাপদ পানির সমস্যায় পড়েছেন। তিন দিন পানিবন্দী থাকলেও সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ বা শুকনো খাবার পৌঁছানো হয়নি বলেও তাদের অভিযোগ।
হাতীবান্ধা উপজেলার চর সিন্দুর্না গ্রামের আলতাব উদ্দিন জানান, দু’দিন ধরে পানিবন্দী থাকার পর বুধবার মধ্যরাতে হঠাৎ তিস্তার পানি বাড়তে থাকে। টানা তিনদিন থেকে পানিবন্দী রয়েছেন তারা। তবে তারাও কোনো প্রকার সহায়তা পাননি বলেও অভিযোগ করেন।
এদিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের পশ্চিম গুড়িয়াদহ এলাকার সামছুলের ছেলে মুকিত (৯) তিস্তা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়। পরে লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিস এর একটি ডুবুরি দল তিস্তা নদীতে খোঁজে বৃহস্পতিবার বিকালে লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলী হায়দার বলেন, ‘জেলা ত্রাণ তহবিলে এক হাজার ৯৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ১৫০ মেট্রিক টন জিআর চাল ও আড়াই লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। উপজেলা থেকে তালিকা পেলে বরাদ্দ দেওয়া হবে।’
দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘তিস্তার পানি প্রবাহ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যারেজ রক্ষার্থে সবগুলো জলকপাট খুলে দিয়ে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।’