সিলেটে পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, সুনামগঞ্জেও বন্যা

প্রকাশিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অব্যাহত বৃষ্টিপাতে সিলেটের সীমান্তবর্তী তিন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সীমান্ত নদী সারী এবং সুরমার দুটি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, পানি ক্রমাগত বাড়ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দ্রুত পানি বাড়বে, ফলে আরো এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলোর মধ্যে শুধু একটি ঝুঁকিতে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, সিলেটের তিনটি পয়েন্টের মধ্যে কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৪৫ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে জৈন্তাপুরের সীমান্ত নদী সারীর সারীঘাট পয়েন্টে ২৩ সেমি এবং কুশিয়ারার শেরপুর পয়েন্টে ১ সেমি উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, ওসমানীনগর উপজেলার একটি বাধ ছাড়া বাকি সব নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে। তবে ওই বাঁধে পানি লিক করায় মাটির বস্তা দিয়ে তা সংস্কারের চেষ্টা চলছে। তবে গোয়াইনঘাটসহ যেসব এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, এগুলো স্বাভাবিকভাবেই প্লাবিত হয়; তাই বন্যা নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সারী এবং পিয়াইনের পানি বাড়ায় সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটের সবকটি ইউনিয়ন পানিতে প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার সারী-গোয়াইন এবং সালুটিকর-গোয়াইন সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগও।

উপজেলার বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃহস্পতিবার ক্লাস হয়নি। পানিতে গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে জনসাধারণ। পানি বাড়ায় উপজেলার জাফলং এবং বিছানাকান্দি পাথর কোয়ারিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে, ফলে বেকার হয়ে পড়েছে অর্ধ লক্ষাধিক শ্রমিক- এমনটি জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মী রাসেল আহমদ সিরাজী।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিশ্বজিৎ কুমার পাল প্লাবিত একাধিক এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। ইতোমধ্যে প্লাবিত ৬ ইউনিয়নের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে প্রাথমিকভাবে ৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

 

 

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীর পানি বেড়েছে। ফলে প্লাবিত হয়েছে এ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কয়েকটি ইউনিয়ন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আহমদ।

স্থানীয় সংবাদকর্মী আবিদুর রহমান জানান, উপজেলার ইছাকলস ও তেলিখাল ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এ জন্য জনসাধারণ ভোগান্তিতে রয়েছে। ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে অবস্থা প্রকট আকার ধারণ করবে বলে মন্তব্য তার।

জৈন্তাপুরের নদী তীরের তিনটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মী এম এম রুহেল। তাছাড়া কানাইঘাটে সুরমার তীরের কিছু গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানান স্থানীয় সংবাদকর্মী আলাউদ্দিন।

সুনামগঞ্জে বন্যা

সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এ জেলায় সুরমার পানি বিপদসীমার ৯৭ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও সবকটি  উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে তাহিরপুরের সঙ্গে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ।

এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলার ২১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করায় এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান। ৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসা বন্ধ রাখা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সবকটি উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। তাছাড়া বন্যা মোকাবেলায় প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। মজুত রয়েছে চাল এবং শুকনা খাবার।

গত ২৮ জুন পাহাড়ি ঢলে সিলেটের পাঁচটি উপজেলা প্লাবিত হয়েছিল। তবে দুদিন পর বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় পানি নেমে যায়। গত বুধবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিপাত আর পাহাড়ি ঢলে ফের এসব উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।