আইসিসি বিশ্বকাপ একাদশে ইতিহাস সেরা অলরাউন্ডার সাকিব

প্রকাশিত
স্পোর্টস রিপোর্টার: দ্বাদশ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পর্দা নেমেছে। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। এবার ঘোষণা হয়েছে সেরা একাদশ। টুর্নামেন্ট জুড়ে ব্যাটে-বলে আলো ছড়ানো সাকিব আল হাসান জায়গা পেয়েছেন আইসিসির বিশ্বকাপ একাদশে। ৮ ইনিংস খেলে ৮৬.৫৬ গড়ে ও ৯৬.০৩ স্ট্রাইক রেটে ৬০৬ রান করেছেন সাকিব। বল হাতে উইকেট ১১টি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের নজির গড়েছেন তিনি।
আগে কখনও এক আসরে ১০ উইকেটের পাশে ৪০০ রানও ছিল না কারও। সেমিফাইনালে না খেলা কোনো দলের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তিনি জায়গা পেয়েছেন একাদশে। সর্বোচ্চ চারজন খেলোয়াড় জায়গা পেয়েছেন শিরোপাজয়ী ইংল্যান্ড দল থেকে। দলকে নেতৃত্ব দেবেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ও ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট কেন উইলিয়ামসন। আইসিসির পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি বিশ্বকাপের সেরা একাদশ গঠন করে। ইয়ান বিশপ, ইয়ান স্মিথ ও ইশা গুহ এবং ক্রিকেট লেখক লরেন্স বুথ এই কমিটিতে রয়েছেন। আর আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন আইসিসির ক্রিকেট বিষয়ক মহাব্যবস্থাপক জিওফ অ্যালারডাইস।
প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতা ইংল্যান্ডের চার, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার দুজন করে রয়েছেন এ তালিকায়। তবে বিশ্বকাপের মতো আসরে সাকিবের মতো অলরাউন্ড পারফরম্যান্স আর কারো নেই। বাংলাদেশি অলরাউন্ডারের পরিসংখ্যান ও পারফরম্যান্স এই একটি জায়গায় ম্লান হয়ে যায় কারণ বাদবাকি যারা সব তালিকার ওপরের দিকে আছেন, তারা সবাই অন্তত সেমিফাইনাল খেলেছেন, বেশিরভাগই ফাইনালে খেলেছেন। অর্থাৎ ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই সাকিব দলের তিনটি জয়ে ভূমিকা রেখেছেন। প্রথম দুটি জয়ের একটিতে সেঞ্চুরি করেছেন, একটিতে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও সেঞ্চুরি করেছেন। মোট আট ম্যাচ খেলা সাকিব সাতটি ইনিংসেই ন্যূনতম ৫০ রান অতিক্রম করেছেন। বিশ্বকাপে তার সর্বনিম্ন সংগ্রহ ৪১ রান। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ইতিহাসে একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ৬০০-এর ওপর রান ও ১০টিরও বেশি উইকেট নিয়েছেন সাকিব। এক আসরে ৫ সেঞ্চুরির অভাবনীয় কীর্তি গড়া রোহিত শর্মা ৬৪৮ রান নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। উদ্বোধনী জুটিতে তার সঙ্গী ইংল্যান্ডের বিস্ফোরক ওপেনার জেসন রয়। ৬৩.২৮ গড়ে তিনি করেছেন ৪৪৩ রান।
টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জেতা উইলিয়ামসন ৮২.৫৭ গড়ে করেছেন ৫৭৮ রান। রানার্সআপ নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটিং প্রায় একাই টেনেছেন সময়ের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান। একাদশে নিউজিল্যান্ড থেকে আছেন আরেকজন, লকি ফার্গুসন। গতিময় এই পেসার ১৯.৪৭ গড়ে নিয়েছেন ২১ উইকেট। ৬১.৭৭ গড়ে ৫৫৬ রান করে ইংল্যান্ডের শিরোপা জয়ে বড় অবদান আছে জো রুটের। ফাইনালে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতা বেন স্টোকস আছেন একাদশে। এই অলরাউন্ডার ৬৬.৪২ গড়ে নিয়েছেন ৪৬৫ রান। ৩৫.১৪ গড়ে নিয়েছেন ৭ উইকেট। ২৩.০৫ গড়ে ২০ উইকেট নেয়া গতিময় পেসার জফরা আর্চার জায়গা পেয়েছেন দলে। অস্ট্রেলিয়া দল থেকে আছেন দুই জন। অ্যালেক্স ক্যারি ও মিচেল স্টার্ক। ৬২.৫০ গড়ে ৩৭৫ রান করেছেন ক্যারি। অস্ট্রেলিয়া সহ-অধিনায়কের ডিসমিসাল ২০টি। তিনিই এই একাদশের উইকেটরক্ষক। গত আসরের সেরা খেলোয়াড় স্টার্ক উজ্জ্বল এবারও। ১৮.৫৯ গড়ে নিয়েছেন বিশ্বকাপে যে কোনো আসরে সর্বোচ্চ ২৭ উইকেট। ভারত থেকে আরও জায়গা পেয়েছেন জাসপ্রিত বুমরাহ। ২০.৬১ গড়ে তিনি নিয়েছেন ১৮ উইকেট।
২০১৯ বিশ্বকাপের সেরা একাদশ : জেসন রয়, বেন স্টোকস, জোফরা আর্চার, জো রুট (ইংল্যান্ড), রোহিত শর্মা, জাসপ্রিত বুমরাহ (ভারত), কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), লকি ফার্গুসন (নিউজিল্যান্ড), সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ), অ্যালেক্স ক্যারি ও মিচেল স্টার্ক (অস্ট্রেলিয়া)।