সৌদি লাইফস্টাইল : “নো ইংলিশ” বলতে পারা এক স্মার্ট প্রজন্ম (পর্ব-১)

প্রকাশিত

মাসুম হাসান, সৌদি আরব থেকে

সোদিআরব এমন একটি দেশ যে দেশের যেকোনো ছোট-বড় ঘটনা কিংবা নিয়মের পরিবর্তন সারা বিশ্বের কাছে মুখরোচক   “টক অব দ্য টাউন”। কিন্তু কেন?

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সৌদি নাগরিক, সৌদি আদিবাসী মুসলমান, এখানকার অস্থায়ী বাসিন্দা, অভিবাসী এবং তরুন-তরুনীদের সাথে কথা বলে এই আরব দেশটি সম্পর্কে অনেক চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে এখানকার নতুন শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশটিতে প্রচলিত নিয়ম কানুনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন। এতে করে সৌদি নারীরা যেমন স্বাধীনতা উপভোগ করছেন তেমনি তাদের জীবনধারায় কিছু নিষেধাজ্ঞাও রয়ে গেছে। এসব নিয়েই আজকের এই আয়োজন।

মেয়েরা যা যা করতে পারে না (গার্ডিয়ানশীপ প্রথা)

একজন সৌদি নারী একজন পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া  পাসপোর্ট নিতে পারে না। শুধু পাসপোর্ট নয়, চাকুরি, পড়াশোনা এমনকি বিশেষ ধরণের স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রেও তাদের এরকম অনুমতির দরকার হয় । পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া সৌদি নারীরা কোনো ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারেন না। আইনগতভাবে বিয়ে কিংবা বিয়ে বিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি নিতে হয়। পুরুষ সঙ্গীকে সাথে নিয়ে কফি খেতে যাওয়া  কিংবা অনাত্মীয় নারী-পুরুষ এক সঙ্গে এক জায়গায় বসে কফি খাবেন, সেটি হবে না। সৌদি নারীদের প্রকাশ্যে চলাফেরার সময় মুখ ঢাকতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু মাথা থেকে পা পর্যন্ত কাপড়ে আবৃত থাকতে হবে। এরকম পোশাককে বলে আবায়া। আবায়া ঢিলে-ঢালা একটি পোশাক যেটি নারীদের পুরো শরীর ঢেকে রাখতে পারে।
যেসব নারী এই আবায়া না পরে বাইরে যান, তাদেরকে রীতিমত ভর্ৎসনা করে সৌদি আরবের ধর্মীয় পুলিশ।

সৌদি নাগরিকদের কর্মক্ষেত্রে নিযুক্তি

সৌদিআরবে বর্তমানে ছোট-বড় প্রতিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অর্থাৎ শপিং মল থেকে হোটেল রেস্টুরেন্ট কিংবা মোবাইল ফোন কোম্পানির বাণিজ্যিক কার্যালয় সর্বক্ষেত্রে কমপক্ষে একজন করে সৌদি নাগরিক নিয়োগ দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই এদেশের শপিংমল গুলোতে পুলিশ রেইড দিয়ে নিশ্চিত হয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে সৌদি নাগরিক নিযুক্ত আছে কি না! উল্লেখ্য, সৌদি আরবের প্রায় ৮০ ভাগ শ্রমিকই বিদেশি।

তবে, নারীরা সবচে’ বেশি উপকৃত হয়েছে এই নিয়মের ফলে। তারা এখন অবাধে কাজের সুযোগ পাচ্ছে। মার্কেটের ভেতর কিংবা রাস্তার দুই পাশে, সব জায়গায়ই এখন সৌদি মেয়েরা কাজ করে যাচ্ছে।

 

হাজীদের কাছে মোবাইল সিম বিক্রি করছে সৌদি নারী

সৌদি মেয়েরা ড্রাইভিং লাইসেন্স পাচ্ছে

যদিও এদেশের কোনো আইনে মেয়েদের ড্রাইভিং করার বিষয়ে কোনো বিধি-নিষেধ ছিল না, গত ২৪শে জুন মেয়েদের ড্রাইভিং এর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে, ফলে মেয়েরা এখন গাড়ি চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা কিছু নারীকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়েছে- তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, যারা মেয়েদের এই অধিকারের জন্য আন্দোলন করেছেন, গত মাসে তাদের বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দেশটির স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলার অভিযোগ এনে গ্রেফতার করা হয়।

 

 

কফি কালচার ভার্সেস গাওয়া কালচার

সম্প্রতি এরাবিয়ানরা গাওয়া কালচার ছেড়ে কফিতে ঝুকেছে। শরীরকে চাঙ্গা করতে আগে গাওয়া (হরেক রকম গরম মসল্লার সংমিশ্রনে তৈরি চা জাতীয় পানীয় ) ছিল তাদের অন্যতম পানীয় কিন্তু বর্তমানে এরাবিয়ান তরুন তরুনীরা এই ধারা থেকে সরে এসেছে; এখন কফি তাদের প্রথম পছন্দ । আর তাই সৌদি আরব এখন কফি পার্লারের দেশ। তবে এরাবিয়ান আতিথেয়তায় কিছু নিয়ম থাকাটা তাদের অনিবার্য নিয়মের মধ্যেই পড়ে। কফি পরিবেশনায়ও তেমনি – বাম হাতে কফি ঢালতে হবে আর অবশ্যই সেটা ডান হাতে অতিথিকে দিতে হবে। 

“নো ইংলিশ” বলতে পারা এক স্মার্ট প্রজন্ম

সৌদি নাগরিকদের ইংরেজি ভাষাগত জ্ঞান প্রায় শূন্যের কোঠায়! এরা ইংরেজি ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তাকে কোনো পাত্তাই দেয় না, কিন্তু এরা নিজেদেরকে সর্বোৎকৃষ্ট এবং অত্যন্ত স্মার্ট মনে করে।ফলে এদের সাথে কমিউনিকেট করা খুবই চ্যালেঞ্জিং।

তবে মজার বিষয় হলো এরা সবাই “নো ইংলিশ” বলতে পারে! আপনি ইংরেজিতে যা-ই জিজ্ঞেস করেন না কেন এরা একটাই উত্তর দিবে – “নো ইংলিশ”

স্মার্ট ফোনের স্ক্রিনে ডুবে থাকা অলস জাতি

“স্মার্টফোন আবিষ্কৃত হওয়ার পূর্বে মানবজাতি মেরুদন্ড সোজা করিয়া হাঁটিত”-

যেকোনো সৌদি নাগরিককে দেখলে  এখন এই বাক্যটিই মনে আসে। গাড়ি কিংবা বাড়ি, অফিস বা দোকান সর্বত্র এরা মোবাইল স্ক্রীনে বুঁদ হয়ে থাকে! কারও হাতে এক সেকেন্ড সময়ও যেন নেই। এমনকি মসজিদে বসে ইকামতের আগ পর্যন্ত তারা মোবাইলে নিমগ্ন থাকে। আর কোনোমতে ফরজ নামাজটুকু আদায় করে সালাম ফিরিয়েই ফোন বের করে টিপতে টিপিতে মসজিদ ত্যাগ করে!!

এবং মজার ব্যাপার হলো এরা সবাই ফোনের সকল ফাংশন আরবি ভাষায় চালায়!

 

MASOOM HASAN

Address: Hotel Loulou Al Khalil,

Ibrahim Khalil Road, Mecca, Saudi Arabia