ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে চার হাজার পরিবার পানিবন্দি

প্রকাশিত

মাহবুব হোসেন পিয়াল,ফরিদপুর-
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে চার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পরেছে।উপজেলার চার ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছ হতে এ তথ্য পাওয়া গেছে। অবশ্য গাজীরটেক ইউনিয়নের ৪০ পরিবার ছাড়া পানিবন্দি পরিবারের সঠিক কোন তথ্য তাদের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।


চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন মৃধা বলেন, আমার ইউনিয়নের ৪ শত পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।
গাজীরটেক ইউপি চেয়ারম্যান মো: ইয়াকুব আলী বলেন আমার ইউনিয়নের ১৪ টি গ্রামের ১ হাজার মানুষ পানি বন্দি রয়েছে। গতকাল ৪০ টি পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরন করা হয়েছে। তবে সহায়তার পরিমান বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
হরিামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমীর হোসনে খান বলেন এইচবিবি সহ কাঁচা প্রায় ৪ কি:মি: রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ফলে হাট বাজারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছে মানুষ।ছয়টি গ্রামের ২ হাজার ২শত পরিবার পানিবন্দি রয়েছে।
সদর ইউপি চেয়ারম্যান আজাদ খান বলেন, অত্র ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামের ৪ শত পরিবার পানিবন্দি রয়েছে।
সরেজমিনে শনিবার সকালে উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের চর গেপালপুর ও তার পার্শবর্তী এলাকা ঘুরে দেখা যায় ঘরবাড়ী ছেড়ে স্ত্রী,সন্তান নিয়ে কেউ নৌকা যোগে আবার গবাদী পশু নিয়ে কেউ ছুটছে পানি ভেঙ্গে। সকলেই গন্তব্য উচু কোন নিরাপদ আশ্রয়। কেউ আবার মাচাপেতে তার উপরই রান্নাবান্নার কাজ সারছেন। বানের পানিতে দিশেহারা হয়ে পরেছে তারা। ছুটছে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে।
চর গোপালপুর গ্রামরে বাসিন্দা হালিম চৌধুরী(৫৮) বলেন পানি বাড়ার পর পরিবারের সকলে চরকল্যানপুর স:প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। আমি গরু গুলো নিয়ে বাড়ীতে ছিলাম। ঘরে পানি উঠার কারনে নৌকায় শুয়ে রাত কাটিয়েছি।কিন্তু যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে করে আর থাক সম্ভব না।

 

 


ওই গ্রামরে আরেক বাসিন্দা শেখ রহিম বলেন(৪৩) পরিবার নিয়ে ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তিনি বলেন ৯ দিন ধরে পানিতে ডুবে গেছে থাকা ও রান্না করার জায়গা। চিরা মুড়ি খেয়ে কোন রকমে পেট চালাচ্ছি।খুব কষ্টে আছি আমরা।
বন্যা কবলিত মানুষের ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আল সাইদ বলেন গাজীরটেক ইউনিয়নের ৪০ পরিবার ছাড়া আমাদের কাছে এখনও কোন তালিকা আসেনি। কাজেই বন্যা কবলিত পরিবারের সংখ্যা সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না। সহায়তার ব্যাপারে তিনি বলেন জেলা থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তবে তা এখনও আমাদের কাছে এসে পৌছায়নি।ত্রান সামগ্রী পৌছালে আমরা সামগ্রিক ভাবে ত্রান কার্যক্রম শুরু করবো।