লালমনিরহাট পৌরসভার কর্মচারী কালভার্ট বন্ধ করে বাড়ি নিমার্ণে ৫০ পরিবার জলাবদ্ধ

প্রকাশিত

আসাদুল ইসলাম সবুজ, নিজস্ব প্রতিনিধি- ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড না মেনে লালমনিরহাট পৌরসভা সাবেক এক কর্মচারী কালভার্টের মুখ বন্ধ করে বসতবাড়ি নিমার্ণে একটি ওয়ার্ডের ৫০ পরিবার জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। আর এ বিষয়ে ওই ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর গোলাম মতুর্জা এলাকাবাসীকে বলেছেন, আমার করার কিছুই নেই। ফলে পৌরবাসী নাগরিকসেবার বদলে জলাবদ্ধ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জানা গেছে, ৮-১০ দিনে টানা ভারী বৃষ্টির পানিতে পৌরসভায় ৬নং ওয়ার্ডের পূর্বথানা পাড়া উচাটারী এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ঘরে ভিতরে পানিতে প্রায় ৫০ টি পরিবার ১০/১২ দিন ধরে অতিকষ্টে জীবন যাপন করছেন। পূর্বথানাপাড়া টু নয়ারহাট পাকা সড়ক উচাটারী নাম এলাকায় পৌরসভার কর্মচারী আব্দুর রহমান (অব:) পৌর শহরে বিল্ডিং কোড না মেনে অপরিকল্পিতভাবে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে বসতবাড়ি নির্মাণ করায় মহল্লাবাসী জলাবন্ধতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। ওই এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের একমাত্র কালভার্ট বন্ধ করে বসতবাড়ি নিমার্ণ করায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী বার বার আব্দুর রহমানকে কালভার্টের মুখ খুলে দেয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তিনি তা মানছেন না। ফলে ৫০টি পরিবার ১০/১২ দিন ধরে জলাবদ্ধতা থাকার কারণে শিশু, বৃদ্ধা, গরু-ছাগল নিয়ে চলাচলে কঠিন দুর্ভোগে পড়েছে। একবেলা রান্না করে তিন বেলা খেতে হচ্ছে তাদের। তাও আবার রান্না করছেন চকির উপর। বাড়ি-ঘরের ভিতর ময়লা আবর্জনা মিশ্রিত পানি ঢুকে জলাবন্ধতায় পরিবেশ দুষণের পাশাপাশি পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে। তাদের দুঃখ কষ্ট দেখার কেউ যেন নেই।

 

 

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টুকে জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা এলাকাবাসী লিখিত আবেদন করলেও তিনি তা গ্রহন করেননি। শনিবার এসে পরিদর্শন করে গেছেন। এ বিষয়ে ৬ নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর গোলাম মতুর্জাকে দফায় দফায় জানানোর পরেও তিনি কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তবে
কাউন্সিলর গোলাম মতুর্জা এলাকাবাসীকে বলেছেন, আমার করার কিছুই নেই।
অথচ, বর্তমান বন্ধ কালভার্টের মুখ খুলে দিয়ে আগামীতে একটি ড্রেন নিমার্ণের মাধ্যমে ৫০টি পরিবারের চিরতরে জলাবদ্ধতা দুর করা যেতে পারে। এতোটুকু উদ্দ্যোগ নিচ্ছেন না জনপ্রতিনিধিরা।
উচাটারী এলাকার আনোয়ার হোসেন রানা বলেন, আমার এলাকায় বৃষ্টি পানি নিষ্কাশনের একমাত্র কালভার্টের মুখ বন্ধ করে পৌরসভার কর্মচারী (অবঃ) আব্দুর রহমান অপরিকল্পিতভাবে বসতবাড়ি নির্মাণ করায় এলাকাবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। এলাকাবাসী বার বার আব্দুর রহমানকে কালভার্টের মুখ খুলে দেয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তিনি তা মানছেন না।

একই এলাকার হিরা মিয়া বলেন, বৃষ্টির পানি নিস্কাশন কালভার্ট বদ্ধ রাখায় জলাবদ্ধতায় পড়েছি। আর এ কারণে আমরা চলাচল করতে পারি না। বাড়ি-ঘরের ভিতর ময়লা আবর্জনা ফেলা পানি ঢুকে পরিবেশ দুষন করছে। ফলে রান্না করছেন হচ্ছে চকির উপর। আমরা এলাকাবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু ও ৬নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর গোলাম মতুর্জাকে জানানোর পরেও তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
এ বিষয়ে ৬ নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর গোলাম মতুর্জার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মুঠোফোন রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু বলেন, আমি ওই এলাকায় গিয়েছি, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হওয়ার কিছুটা জলাবন্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে খুব দ্রুত ওই এলাকা ড্রেন নিমার্ণ করে জলাবদ্ধতা দুর করা হবে। পৌর শহর জুড়ে আমাদের নতুন ড্রেনের কাজ সম্পূর্ন শেষ হলে পৌরসভার একটি এলাকাও জলাবদ্ধতা থাকবে না।