বদলে গেল মোহামেডান

প্রকাশিত

ডেস্ক নিউজঃ অনেক দিন ধরে ফুটবলে সাফল্য নেই মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) শিরোপা লড়াই থেকে বহু আগেই ছিটকে পড়া ঐতিহ্যবাহী দলটি হঠাৎ চমকে দিচ্ছে ফুটবলাঙ্গনকে। জাদুর কাঠি নিয়ে আসা এক বিদেশির হাতের ছোঁয়ায় সম্পূর্ণ পরিবর্তন এসেছে দেশের এক সময়কার জনপ্রিয় ফুটবল দলটিতে। বিপিএলের কয়েক রাউন্ড আগেও পয়েন্ট টেবিলের নিচের দিকে ধুঁকতে থাকা ক্লাবটি এখন অনেকটাই শঙ্কামুক্ত। লিগের প্রথম পর্বে ১২ ম্যাচে মাত্র ৬ পয়েন্ট পাওয়া মোহামেডানকে দ্বিতীয় পর্বে আমূল বদলে দিয়েছেন তিনি। দলের দায়িত্ব নিয়ে ৯ ম্যাচে ৫ জয় এবং ২ ড্রয়ে এনে দিয়েছেন মূল্যবান ১৭টি পয়েন্ট। চলতি মৌসুমের জন্য সাদাকালো শিবিরে অবনমন শঙ্কা কার্যত দূর করে দিয়েছেন যিনি। বলছি, মোহামেডানের বদলে যাওয়ার নেপথ্য কারিগরের কথা, তিনি আর কেউ নন। মোহামেডানের এই ঘুরে দাঁড়ানোর একমাত্র কৃতিত্ব ৫৫ বছর বয়সী ব্রিটিশ কোচ শন লেনের। ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে জন্ম নেয়া শন লেন ২৫ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। তিনি ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়া দুই দেশেরই পাসপোর্টধারী। ব্যক্তি জীবনে অস্ট্রেলিয়ান স্ত্রী এবং দুই ছেলে, তিন মেয়ের সুখের সংসার তার। কদিন আগে তার স্ত্রী, মেয়েরা ঢাকায় ঘুরে গেছে। শন ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগ শুরুর আগে যে লিগ কাঠামো ছিল, সেটির অধীনে দ্বিতীয় বিভাগে স্ট্রাইকিং পজিশনে খেলতেন। কোচ হিসেবে মোহামেডানই তার প্রথম কোনো বিদেশি ক্লাব।
ভাঙাচোরা অবস্থা থেকে মোহামেডানকে তিনি যেভাবে আজকের অবস্থায় এনেছেন, তার রহস্য একটাই। তিনি ছেলেদের নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। রোদ, ঝড় বৃষ্টি যা-ই হোক না কেন, প্রতিদিন অন্তত দুটি সেশন এমনকি তিনি দৈনিক তিনটি সেশনও রাখতেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর যখন দেখলেন খেলোয়াড়দের ফিটনেসের অবস্থা খুবই খারাপ। সেই ফিটনেস উন্নতির দিকে তখন নজর দিলেন তিনি। বর্তমানে তার প্রতিফল হলো, ছেলেগুলো দৌড়াচ্ছে। আর তার মতে, আধুনিক ফুটবলই এখন এমন যে হেঁটে হেঁটে ফুটবল খেলা চলবে না। তা ছাড়া শন এসে সাইড বেঞ্চের কয়েকজন খেলোয়াড়কে মূল একাদশে অন্তর্ভুক্ত করেন। তাদের মধ্যে এমিলি, তকলিচরা অন্যতম। তার ভাষায়, আগে কারা প্রথম একাদশে খেলেছে, সেটা দেখার প্রয়োজন মনে করিনি। অনুশীলনে দেখে যাকে যোগ্য মনে করেছি, তাকেই একাদশে নিয়েছি। যেমন এমিলি এখন বয়সের কারণে কম দৌড়ায় ঠিক। কিন্তু ও বুদ্ধিমান। কখন কী করতে হবে জানে। ইউসুফ সিফাত ছেলেটার বাম পা ভালো। তকলিচ গোল করতে পারে এবং ওর ফিনিশিংও চমৎকার। ওকে আমি সুযোগ দেয়ার পর দ্বিতীয় পর্বে ৫-৬টি গোল করেছে। সিফাতও গোল করছে। প্রথম পর্বে যেখানে মোহামেডানের গোল সংখ্যা ছিল ৮টি। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর ৯ ম্যাচে ১৯টি গোল এসেছে। সর্বশেষ দুটি ম্যাচে আমরা ৭ গোল করেছি। দলটির মূল অস্ত্র বা প্রাণভোমরা মালির ফরোয়ার্ড সুলেমানি দিয়াবাতে। কিংসলেকে বিদায় করে মধ্যবর্তী দলবদলে মোহামেডান উড়িয়ে আনে এই ফুটবলারকে। দ্বিতীয় পর্বে সে এসেই অসাধারণ খেলছেন। দলের সর্বোচ্চ ৭টি গোল করেছেন তিনি। সহায়তা করেছেন অন্তত ১০টি গোলে।
আবাহনীকে সেই ১৯৭৫ সালের পর এবারই প্রথম ৪-০ গোলের লজ্জা দিয়েছে মোহামেডান। চিরপ্রতিদ্ব›দ্বীদের উড়িয়ে প্রথম পর্বের হারের প্রতিশোধ নিয়েছে দলটি। প্রথম পর্বে দুই দলের দেখায় ৩-০ গোলে জিতেছিল আবাহনী। এক সময় বাংলাদেশের ফুটবলে চরম উত্তেজনা আর উৎসব আনন্দের উপলক্ষ ছিল আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ। সারা দেশ দুপক্ষে ভাগ হয়ে যেত ম্যাচের দিন। সেই আবাহনীকে বছর চারেক পর লিগ ম্যাচে মোহামেডান হারাতে পেরেছে এই শন লোনের প্রশিক্ষণেই। ক্লাবটির বিপিএলে খেলা বাকি আছে আরো তিনটি। ২৪ জুলাই নীলফামারীতে বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামবে মোহামেডান।