আলোচিত অনুপম হত্যা মামলায় স্ত্রী ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত

সায়নী ঘোষ, কলকাতা-

প্রায় ২৭ মাস পর আলোচিত অনুপম সিংহ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করলো পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত জেলা ও  দায়রা আদালত। শুক্রবার এ মামলায় অনুপমের স্ত্রী মনুয়া মজুমদার ও মনুয়ার প্রেমিক অজিত রায় ওরফে বুবাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডের সাজার নির্দেশ দেন বিচারক।

বৃহস্পতিবার দোষী সাব্যস্ত করার পর শুক্রবার বারাসাত আদালতে ফাস্ট ট্র্যাক ফোর্থ কোর্টের বিচারক বৈষ্ণব সরকার দুইজনকে ওই একই সাজা শোনান।
এদিন সকাল ১১-৫০ মিনিটে নিজের এজলাসে বিচারক এই আলোড়ন সৃষ্টিকারী মামলার সাজা ঘোষণা করেন। তবে এই রায় নিয়ে খুশি নয় দুই পক্ষই। সাজা শোনার পর অনুপমের মা কল্পনা সিংহ ও বাবা জগদীশ সিংহ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অনুপমের বন্ধু ও পরিবাবের লোকেরা সরকারি আইনজীবী শ্যামল কান্তি দত্তের দিকে আঙুল তোলেন। তাদের দাবি আগের সরকারি আইনজীবী বিপ্লব রায় মামলাটি লড়লে দুই অপরাধীর ফাঁসির সাজা হত।

 

 

তাদের দাবি পরিকল্পিতভাবে  চক্রান্ত করে মামলার অভিমুখ ঘুরিয়ে দেবার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের উকিল (পিপি) পরিবর্তন করা হয়েছে। এই রায়ে খুশি না হওয়ায় তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবে।

একই দাবি জানিয়েছে দোষী পক্ষের আইনজীবী  সুব্রত কুমার বসু। তিনি দাবি করেছে মূল অভিযুক্তদের আড়াল করতে তাদের মক্কেলদেরকে ফাঁসানো হয়েছে। তারাও উচ্চ আদালতে যাবেন। রায় ঘোষণার পর উত্তেজিত হয়ে পড়ে অনুপমের বন্ধুবর্গ ও  আত্মীয়সজন। আদালত চত্ত্বরেই তাদের সঙ্গে আইনজীবীদের একাংশের হাতাহাতি হয়। ঘটনার জেরে অনুপমের পক্ষের তিনজনকে পুলিশ আটক  করেছে। এই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় আদালত চত্ত্বরে। বিশাল পুলিশ  বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপরে অনুপমের আত্মীয়রা আদালতের সামনে মনুয়া ও অজিতের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে।

উল্লেখ্য, গত ২ মে ২০১৭ সালে বারাসাত থানার হৃদয়পুর এলাকায় নিজের বাড়িতে নৃশংস ভাবে খুন হয় বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সংস্থায় কর্মরত বছর ৩৪ এর অনুপম সিংহ। পরবর্তীতে খুনের তদন্তে নেমে পুলিশ তার স্ত্রী মনুয়া মজুমদার ও  স্ত্রীর প্রেমিক অজিত রায়কে অনুপমকে খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার করে।    বিষয়টি নিয়ে সেসময় রাজ্য জুড়ে প্রচন্ড তোলপাড় পরে যায়।