কাঁচাবাজারে সবজির লাগামহীন দর, ঝাঁঝ বেড়েছে কাঁচা মরিচের!

প্রকাশিত

বিশেষ প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ১০-২০ টাকা বেড়েছে। গত রমজানের ঈদের পর থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাওয়া সবজির দামে ভোগান্তিতে রয়েছে নিম্ম আয়ের মানুষগুলো। গত দুই দিনেও ফের লাগামহীন হয়ে উঠেছে সবজির দাম। আড়তদারদের দাবি, টানা বর্ষণের কারণে সবজি চাষে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে স্থিতিশীল রয়েছে মাংসের দাম।
শুক্রবার সকাল থেকে মহানগরীর কয়েকটি কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে  ফার্মের মুরগী বাজারভেদে কেজি প্রতি ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালী মুরগী কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৩০-২৫০ টাকায়। দেশি মুরগীর কেজি ৪৩০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরু (রান) ও খাসির মাংস ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফার্মের ডিমের দাম ডজন প্রতি ৫ টাকা কমেছে। এখন ডজর প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা।
গতকাল বাজার ঘুরে আরো দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির কেজি ৭০-৮০ টাকায় উঠেছে। কাঁচা মরিচের ঝাঁঝ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এছাড়া কোরবানকে সামনে রেখে অস্থির হয়ে উঠেছে মশলার বাজার।
নগরীর রিয়াজ উদ্দিন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বরবটি, তিতকরলা, কাকরোল ও বেগুন ৭০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এসব সবজি ৫০-৬০ টাকা বিক্রি হয়েছিল। পটল, জিঙ্গা ও চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৬০ টাকায়। ঢেড়স, লাউ ও পেঁপে ৫০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এসব সবজি ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।
নগরীর কদমতলী থেকে রিয়াজউদ্দিন বাজারে আসা এক চাকুরীজিবি বলেন, সবজির দাম কেজি প্রতি ৭০-৮০ টাকা কেন হবে ? মনে হচ্ছে আর কয়েক দিন পর ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। সবজির দাম উর্ধ্বগতির কারণ জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা দায় চাপাচ্ছেন একে অন্যের ওপর। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, আড়ত থেকে তারা বেশি দামে কিনেছেন। আড়তদারদের দাবি, টানা বর্ষণের কারণে সবজি চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে দামে।
গত সপ্তাহে কাঁচা মরিচের কেজি ছিল ১৫০ টাকা। গতকাল বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি ছিল ১৭০-১৮০ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে ২০-৩০ টাকা। টমেটোর দাম বেড়েই চলেছে। কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। এদিকে কোরবানকে সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ছে এলাচির। মানভেদে ২৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে এলাচি। অথচ দুই সপ্তাহ আগে এলাচির সর্বনিম্ন কেজি প্রতি দাম ছিল ১৭০০ টাকা। বেড়েই চলেছে দারুচিনি ও শুকনা মরিচের দাম। দারুচিনি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা। দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৩৫০ টাকা।  শুকনা মরিচের (গোটা) কেজি ১৮০ টাকা। দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১৬০ টাকা। পোস্তার দামও বেড়েছে। কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৪০০টাকা।
ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৩০-৩৫ টাকায় স্থির থাকলেও রসুনের দাম বেড়েই চলেছে। কেজি প্রতি ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে চায়না রসুন। চায়না আদার কেজি ১৩০-১৩৫ টাকা। তবে মাছের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৬০০-১৮০০ টাকা আর ১ কেজি ওজনের কম বিক্রি হচ্ছে ১২০০-১৩০০ টাকায়। আকারভেদে প্রতি কেজি রুপচাদা বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৯০০ টাকার মধ্যে। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২২০-৩২০ টাকা। কাতলা ২৫০-৩০০, কোরাল আকারভেদে ৪৫০-৮০০, সুরমা ৪৬০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০, কই মাছ ১৮০-২০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৪০, শিং মাছ ৪০০-৭০০ এবং মাগুর মাছ ৫০০-৭০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।