ফরিদপুরে হালিমা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

প্রকাশিত

মাহবুব হোসেন পিয়াল,ফরিদপুর।-
ফরিদপুর শহরের কমলাপুরে অবস্থিত হালিমা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম মো. বদরুদ্দোজাকে লাঞ্ছিত করেছেন ওই বিদ্যালয়লে অধ্যয়রত এক ছাত্রীর মামা নজরুল মৃধা। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল রবিবার শিক্ষার্থীরা শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে নজরুল মৃধার শাস্তি দাবি করেন।
এদিকে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দিয়েছেন অধ্যক্ষ।
অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করারয় নজরুল মৃধার শাস্তি দাবি করে গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হালিমা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ছাত্রীরা। পরে তারা একটি মিছিল নিয়ে মুজিব সড়ক হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ‘নজরুল মৃধা কর্তৃক শিক্ষকদের উপর হামলা ও অসৌজ্যমূলক আচরণ করা প্রসঙ্গে’ শিরোনামে অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের হাতে তুলে দেন শিক্ষকরা।
নজরুল মৃধা ফরিদপুরের শহরের কমলাপুর মহল্লার কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ফরিদপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর এবং শহর আ.লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক। তিনি এক সময় হালিমা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের অভিভাবক সদস্য ছিলেন।
জেলা প্রশাসককে দেওয়া অধ্যক্ষের অভিযোগ থেকে জানা যায়, নজরুল মৃধার ভাগনী ওই প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ওই শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে যথাসময়ে উপস্থিত না হয়ে এবং পাঠদান না করে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছিল। এজন্য গত বৃহস্পতিবার কলেজের শিক্ষক মো. মামুন রশিদ ওই শিক্ষার্থীকে শাসন করেন। পরে গত শনিবার ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবককে ডেকে শিক্ষার্থীর বিষয়ে অভিযোগ তুলে ধরেন।
অভিযোগ সুত্রে আরও জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নজরুল মৃধা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে শিক্ষক মামুনকে গালাগালি করে এবং অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে আহত হয়েছেন। আগামীতে এ জাতীয় ঘটনা এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘটলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা সম্ভব হবে না বিধায় এ বিষয়ে সুবিচার ও প্রতিকার চাওয়া হয় ওই অভিযোগে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে নজরুল মৃধা বলেন, মামুন রশিদ নামের ওই শিক্ষক তার ভাগনিসহ অন্য ছাত্রীদের গায়ে হাত দেওয়াসহ অশোভন আচরণ করেন। এছাড়া তিনি বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে মানেন না এবং জাতির পিতাকে গালাগালি করে শ্রেণি কক্ষে কথা বলেন। এ বিষয়ে অধ্যক্ষের কাছে প্রতিবাদ করতে গেলে অধ্যক্ষ ওই শিক্ষকের পক্ষ নেওয়ায় তিনি রেগে যান। তবে অধ্যক্ষকে রাগারাগি করলেও তার গায়ে হাত দেননি বলে তিনি (নজরুল মৃধা) দাবি করেন।
নজরুল মৃধা বলেন, ওই শিক্ষক বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কটুক্তি করেন এবং ছাত্রীদের গায়ে হাত দেন এ জাতীয় কথা সম্বলিত ছাত্রীদের তিনটি ভিডিও তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি বলেন, গত রবিবার সকালে ওই শিক্ষকের (মামুন) ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মামুন রশিদ ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় শিক্ষক। তিনি বলেন, কোন ছাত্রীর গায়ে হাত দেননি, কিংবা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কোন কটুক্তি তিনি করেন নি। তিনি বলেন, নজরুল মৃধা তার অপরাধ ঢাকার জন্য তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনেছেন, যার কোন ভিত্তি নেই।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম নাসিম বলেন, এ ব্যাপারে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গত শনিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।