কাপাসিয়ায় কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত

সিক্স ডেস্ক-
গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলাধীন কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়টি সুনামের সহিত পাঠদান করে আসছে। অত্র বিদ্যালয় হইতে পড়াশুনা করে অসংখ্যা ছাত্র/ছাত্রীরা সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত আছেন। বেশ সুনামের সাথেই চলছিল বিদ্যালয়টি। কালের পরির্বতনের সাথে সাথে বিদ্যালয়টি অনেক কিছুুর পরিবর্তন হয়েছে। একাধিক অভিযোগ সুত্রে জানা যায় অত্র বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন ইনডেক্স নং( ৩৪৩৫৮১) ও ব্যবস্থপনা কমিটির কয়েকজনের পরষ্পর যোগসাজসে শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য অতিরিক্ত সৃজিত শ্রেণী বিভাগ শাখা খোলার দুর্ণীতি ও অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য ভূয়া সার্টিফিকেটে নিয়োগ প্রদান, এম.পিও করানোর নামে বাণিজ্য, এমনকি স্থানীয় সাংসদ বঙ্গতাজ কন্যা গাজীপুর -৪ আসন সিমিন হোসেন রিমি, এম.পির স্বাক্ষর জাল করাসহ নানাবিধ দুর্ণীতির সুতিকাগার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। দুর্ণীতিবাজ প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন ইনডেক্স নং-( ৩৪৩৫৮১)

এর নিয়ম বর্হিভূত নিয়োগের বিরুদ্ধে গাজীপুর জর্জকোর্ট মামলা চলমান, মামলা নং-৮৯/২০১২ইং ৩০/০৪/২০১৮ইং তারিখে একজন অভিযোগকারীর তথ্যমতে ভূয়া সৃজিত শ্রেণীশাখা: শুধুমাত্র কাগজে কলমে বাস্তবে কিছুই নাই। অর্থের বিনিময়ে বোর্ডের বিদ্যালয় পরির্দশক এর অফিস সহকারী শাহীন এর মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ঢাকা কর্তৃক মিথ্যা কে সত্যর”পেসা জিয়ে গুছিয়ে সরকারের কোষাগার হইতে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্নসাত । অতিরিক্ত শ্রেনী শাখার সৃজিত দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বোকা বানিয়ে বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিতশাখাগুলোহলো, ৬ষ্ঠ খ ও ৭ম খ মোট দুটি শাখা যার তাং-২৮ মে-২০১৩ইং অনলাইন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় দুর্ণীতিবাজ প্রধান শিক্ষক পরষ্পর যোগসাজসে একই তারিখও সনের ৬ষ্ট খ এর স্থলে ৮ম, গ এবং ৭ম খ এর স্থলে ৯ম খ মোট দুটিশাখা খোলার কাগজ বানিয়ে টেম্পারিং করে মোট ৪টি অতিরিক্ত শাখায় মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ করেন। অপরদিকে শিক্ষাবোর্ড  কর্তৃক অনুমোদনপ্রাপ্ত ৮ম খ অতিরিক্ত শ্রেনী শাখা ১টি যা বৈধ ও সঠিক যার তাং ১ মার্চ ২০১৫ইং সেখানে ও বোর্ড কর্তৃপক্ষকে বোকা বানিয়ে একই তারিখে ৮ম, খ, এর স্থলে ১০-খ, লেখা হয় এবং আরও ২জন শিক্ষক নিয়োগ করাহয়।

 

 

কাপাসিয়ায় কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়- ছবি চ্যানেল সিক্স

অথচ বোর্ডের চেয়ারম্যান এর  আর্দেশক্রমে জনাব আতাউর রহমান খান বিদ্যালয় পরির্দশক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা কর্তৃক স্বাক্ষারিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৭/০৭/২০০০ইং সালের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৫/০৯/২০০০ উপ পরিচালক কর্তৃক স্বাক্ষারিত ০১/০১/২০০০ইং হইতে ৬ষ্ঠ, খ, ও ৭ম, খ অতি: শ্রেণী শাখা খোলার অনুমতি প্রদান করা হয়। অন্য দিকে বিদ্যালয় পরির্দশক আতাউর রহমান খান স্বাক্ষারিত তাং-৩১-১০-২০০৫ নং ২১৯ (গ) গাজী/৫৮৮৩ অফিস আর্দেশ উপযুক্ত বিষয়ের প্রেক্ষিতে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলাধীন কাপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে ০১/০১/২০০৫ইং তারিখ হইতে ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেনীতে খ এবং ৮ম শ্রেণীতে খ শাখা খোলার অনুমতি প্রদান করা হল। উক্ত আদেশপত্রটি সত্যায়িত করেছেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন ইনডেক্স নং( ৩৪৩৫৮১)

তারিখ ১৭-১২-২০১৫ইং। এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ পাওয়া যায়, সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী ১৯৯৭ সালের পূর্বে স্নাতক ৩য় বিভাগে পাশ করেন। ২৪/১০/১৯৯৫ ইং তারিখে নীতিমালা অনুযায়ী, এস.এস.সি। এস. এস.সি ও স্নাতক এ যে কোন একটি ৩য় বিভাগে হলে তিনি শিক্ষকতা পেশায় নিয়োগ পাবেন না। তিনি মিথ্যা দুনম্বরীর আশ্রয় নিয়ে তারপ্রাপ্ত ৩য় বিভাগকে ২য় বিভাগ দেখিয়ে দামুয়ারচালা এ.ডি ইউ বালিকা দাখিল মাদ্রাসা কাপাসিয়া গাজীপুর এ চাকুরী করেন জাল সার্টিফিকেট দিয়ে এখানেই শেষ নয় তৎকালিন ডিজিকে ম্যানেজ করেএম.পি ও ভূক্তি ও হন। তার শিক্ষকতার শুরুটাই ছিল বিসমিল্লাহ্ই  গলদ। দুর্নীতির উচ্চ শিখরে থেকেই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির কতিপয় আওয়ামী যুবলীগ নামধারী দুর্নীতি পরায়নদের পরষ্পর যোগসাজসে বহাল তরিয়তে দাপটের সহিত জাল জালিয়াতিসহ একের পর এক দুর্নীতি করে যাচ্ছে যা দেখার কেউ নাই। কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের আরও এক শিক্ষক জনাব আব্দুল বারী ইনডেক্স নং ( ২৮৩৮৬০) (কৃষিশিক্ষা) তিনি ০১/০১/১৯৯৬ সালে যোগদান করে বি.এড ও টাইম স্কেল গ্রহন করেছেন যা বিধি বহির্ভূত। সহকারী পরিচালক জনাব সবুজ আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছিল কৃষি শিক্ষক আব্দুল বারী বি.এড স্কেল প্রাপ্য নয় বিধি অনুযায়ী বি.এড স্কেলে বেতন পাবেন ২০১৮ সালের পূর্বে তিনি বি.এড স্কেলে যতটা সরকারী কোষাগার থেকে উত্তোলন করেছেন তা দুনম্বরীর প্রতারণার সামিল অতিঃউত্তোলিত অর্থ জমা সরকারী কোষাগারে দিতে হবে। এদিকে সহকারী মৌলভী শিক্ষক জনাব রফিকুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে ও অভিযোগ পাওয়া যায়, তিনি সুলতানপুর মামুনিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় এবতেদায়ী প্রধান হিসেবে যোগদান করে এমপিও কপি টেম্পারিং করে এন টিআরসি এ সনদ ছাড়া মোটা অংকের টাকা দিয়ে অবৈধভাবে ২০০৯ সালে মানিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং সেখানে ১০ম গ্রেডে বেতন  উত্তোলন করেন যা বিধি বর্হিভূক্ত। ২০১২ সালে কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ে একই ভাবে নিয়োগ পান পরষ্পর যোগসাজসে, নেপথ্যে সেই প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ  আফজাল হোসাইন ।আসমা আক্তার ইনডেক্স নং ( ১০৬৮৫৫২) (আইসিটি) শিক্ষক এন টিআরসি এ সনদ জাল করে এবং বেসরকারী কম্পিউটার সনদ টেম্পারিং করে ২০১২ সালে বিধি ভঙ্গ করে পরষ্পর যোগসাজসে নিয়ম বহিভূত ভাবে শিক্ষাকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন। জানাযায় তিনি আমরা ইদ যুব উন্নয়ন একাডেমী থেকে সনদ নিয়ে এমপিও ভুক্ত হন।
জেলা শিক্ষা অফিসারের চিঠির স্মারক নং গাজী/শি/২০১৮/-৮৯৪ কে ৮১৪ বানিয়ে বিদ্যালয় পরির্দশক এর উচ্চ মান সহকারী মিঃ শাহীন এর মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক কারসাজি করে থাকেন। খোঁজ নিয়ে আরোও জানা যায় উচ্চ মান সহকারী মিঃশাহীন রাতারাতি অগাধ টাকার মালিক বনে গেছেন। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। ০৪/০৪/২০১৯ তারিখে ৬১৯ (৪) ও ৬২০ (২) এর ২নং পত্র পরিবর্তন করে ৬০২০ (২) নং পত্র বানিয়ে শাহিনের মাধ্যমে জমা দেন। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী এই স্মারকে কোন চিঠি পাওয়া যাইনি।
প্রধান শিক্ষক মুহাম্মাদ আফজাল হোসাইন এর সংক্ষিপ্ত তথ্যঃ- ১৯৯৭ সালে দামুয়াচালা এ.ডি.ইউ বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় কৃষি শিক্ষক হিসেবে যোগদান। সেখানেই তিনি দুনম্বরী করে চাকুরী জীবন শুরু করেন। ডিগ্রী পাস করেন তৃতীয় বিভাগে, সার্টিফিকেট টেম্পরিং করে তৃতীয়কে ২য় বিভাগ বানিয়ে এবংঐনকল সার্টিফিকেট দেখিয়ে ১৯৯৭ সালে প্রশাসনের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে প্রথমএম.পিও ভূক্ত হন কৃষি শিক্ষক হিসেবে যা ২৪/১০/১৯৯৫ সালের জনবল কাঠামো অনুযায়ী তৃতীয় বিভাগ শিক্ষকতা পেশায় অযোগ্য। এরপর ২০০২ সালে পূর্বে সুক্ষকার চুপির থি বাদ দিয়ে কাপাসিয়া হরিমজুরী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং বিধি বর্হিভূত বি.এড স্কেলসহ পুনরায় এম.পিও ভূক্ত হন। বিধি মোতাবেক সহকারী শিক্ষিক (কৃষি) বি.এড স্কেল প্রাপ্য নয়। ২০১২ সালেনা সেরা উচ্চ বিদ্যালয় সহকারী প্রধান হিসেবে ছিলেন নিয়ম বর্হিভূত ভাবে ২০১২ সাল হইতে প্রধান শিক্ষিক হিসেবে বহাল তরিয়তে আছেন। ইতিমধ্যে শিক্ষিক নিয়োগ বানিজ্য এম.পি সংসদ সদসের স্বাক্ষরজাল, জালিয়াতি শিক্ষকদের এম.পিও করানোর নামে বানিজ্য অতিরিক্ত শ্রেণীশাখা খোলার অফিস আদেশ টেম্পারিং জাল, জালিয়াতি। কপালেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয় বিরুদ্ধে দূর্নীতির ও জাল জালিয়াতির অভিযোগ সম্পর্কে জেলা শিক্ষা অফিসার বলেন এ ব্যাপারে ডি.জি মহোদয়ের সঙ্গে কথা বললে বিস্তারিত জানতে পারবেন, তিনি আরও বলেন একাধিক অভিযোগ আমার কাছে ও এসেছে সেগুলো যাচাই বাছাই হচ্ছে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ আফজাল হোসাইন এর সঙ্গে মুঠোফোনে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি ১৯৯৭ সালে তৃতীয় বিভাগ ডিগ্রী পাস সার্টিফিকেটের বলে জয়েন করেছি। তাতে আপনার কি? অভিযোগ সত্য নাকি মিথ্যা এই প্রতিবেদক  জানতে চাইলে তিনি মোবাইল ফোনে ক্ষিপ্ত হয়ে যান এবং বলেন সত্য মিথ্যা যাচাই বাচাই করার আপনি কে? এই প্রতিবেদক কে তিনি আরো বলেন আপনি ঘোড়ার ডিম জানেন বলে ফোন কেটে দেন। অপর দিকে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলার পর গত ২৭ জুলাই  ১২.৩৩ মিনিটে কুর্কমের যোগসাজস কারী বিদ্যালয়ের সভাপতি, সোহেল রানা সোহেল প্রতিবেদকের মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে হুমকি স্বরুপ বলেন, আপনার নাম পরিচয় কি? কোথায় থাকেন? কোন পত্রিকায় কাজ করেন? যথাযথ উত্তর দেওয়ার পর বলেন আপনার চেয়ে বড় বড় পত্রিকার সাংবাদিক ১০-২০টা আমার পকেটে থাকে। তুমি যা পারো তাই করোগা। আমাদের কিছু যায় আসেনা এরকম বহু দেখছি। অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে হেইমিয়া হেইমিয়া বলে ফোন কেটে দেন। এই প্রতিবেদক পুনরাায় উক্ত তারিথে ১২.৫৩ মিনিটে এ অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আবার ও হুমকি দিয়ে ফোন কেটে দেন।
১৩/১১/২০১১ইং তারিখে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে প্রজ্ঞাপনে সুস্পষ্টভাবে আদেশ দেওয়া হয়েছে। উক্ত আদেশের পরে সৃজিত অতিরিক্ত শ্রেণী শাখা খোলা হলে শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে। কিন্তু এম.পিও হবেনা পরর্বতী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত।