১৪ বছর পর লালমনিরহাট জেলা যুবলীগের সম্মেলন শনিবার,পদপ্রত্যাশী সভাপতি ২ জন ও সাধারণ সম্পাদক ৩ জন

প্রকাশিত

আসাদুল ইসলাম সবুজ, লালমনিরহাট :- দফায় দফায় নির্ধারিত তারিখ পরিবর্তিত হয়ে প্রায় ১৪ বছর পর লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর)। সর্বশেষ ২০০৫ সালের সম্মেলনের মাধ্যমে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট্য কমিটি গঠনের পর ১৪ বছর কেটে যায়। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে দফায় দফায় সম্মেলনের নির্ধারিত তারিখ আসার ঠিক আগ মুহূর্তে সম্মেলন স্থগিত করা হয়। তবে এবার সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সম্মেলনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। এ ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন লালমনিরহাট-১ আসনের সাংসদ ও জেলা আ’লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপি। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীগের সাধারণ এ্যাড মতিয়ার রহমান, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য সফুরা বেগম রুমী এমপি, জেলা আ’লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সিরাজুল হক, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা স্বপনসহ অনেকেই।
এদিকে দীর্ঘদিন পরে জেলা যুবলীগের সম্মেলন ঘিরে যুবলীগের লারমনিরহাট জেলা সদর উপজেলা, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও লালমনিরহাট পৌরসভা মিলে ৬টি ইউনিটের ২২১ জন ভোটার নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। দেখা গেছে প্রাণচাঞ্চল্য, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ছেয়ে গেছে পোস্টার, ডিজিটাল ব্যানারে ও তোরণ।
জেলা যুবলীগের নেতাকর্মীরা জানান, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পর সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ ১৪ বছর। নির্ধারিত তারিখের আগমুহূর্তেই ওই সম্মেলন স্থগিত করা হয়। এতে সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশী প্রার্থীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েন। অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর ) এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এদিকে সংগঠনের প্রধান দু’টি পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ৫ জন প্রার্থীর জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি পদে দুইজন প্রার্থী নাম শোনা যাচ্ছে এরা হলেন- বর্তমান জেলা আওয়ামী যুবলীগের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি মোড়ল হুমায়ন কবির ও সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম।
জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন প্রার্থী নাম শোনা যাচ্ছে এরা হলেন- জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল খালেক বাবু, সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আঃ মোতালেব খন্দকার ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আলী হাসান নয়ন।
সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই এসব প্রার্থী ৬টি ইউনিটের নেতাকর্মীদের সমর্থন পেতে জোর প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা যুবলীগের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি ও জেলা যুবলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী মোড়ল হুমায়ন কবির বলেন, এবার নির্ধারিত তারিখেই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা নেতাদের উপস্থিতিতে আশা করছি শনিবার (৭ জুলাই) সফলভাবে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদে থাকার পর আমি যুবলীগকে সুসংগঠিত করার আদর্শিক চেতনা এবং বিকাশের ব্যাপারে উদ্যোগী হই। এছাড়াও নেতাকর্মীরা সুখে-দুঃখে ও আশা-আকাঙ্খা পুরনের অনেকদিন ধরে কাজ করেছি, তাই তারা আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করবে বলে আমি আশাবাদী।
সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা যুবলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে উপজেলা যুবলীগকে নিয়ে কাজ করছি। দলীয় নেতাকর্মীর সাথে আছি এবং আগামীতে থাকবো বলেই জেলা যুবলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী হয়েছি। ইতিমধ্যে জেলা জুড়ে দলীয় নেতাকর্মীর ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আশা করছি আমি সভাপতি নির্বাচিত হবো।
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আব্দুল খালেক বাবু বলেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে সৎ, নিষ্টাবান, নির্ভীক, পরিশ্রমী, জবাবদিহিতামুলক লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগ গঠন করেছিলাম। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাজনীতিতে আমি বিশ্বাসী। ত্যাগী ও সংগ্রামী নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম ও আগামীতে থাকবো। আমি আশা করি জেলা যুবলীগ শতভাগ সৎ, নিষ্টাবান ও নির্ভীক, যোগ্য, সর্ম্পূন ব্যাক্তিকে তারা তাদের সম্পাদক নির্বাচিত করবে।
সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আঃ মোতালেব খন্দকার বলেন, আমি দীঘ ৭ বছর ধরে যুবলীগের সঙ্গে জড়িত। তাছাড়াও উপজেলা যুবলীগের সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছিলাম। দলীয় নেতাকর্মীরা আমাকে ভালভাবে জানেন। এবার জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হয়েছি। আশা করছি, ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে আমি সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হবো।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আলী হাসান নয়ন বলেন, সেই স্কুল জীবনের রাজনীতি থেকে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীঘদিন সততা ও নিষ্টার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, লালমনিরহাট জেলা শাখাসহ আ’লীগের সকল অঙ্গ সংগঠনের সব কর্মসুচীতে অংশ গ্রহন করছি। দলীয় স্বার্থে কোন দিন পদ দাবী করি নাই। এবার জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হয়েছি। আশা করছি, আমি সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হবো।