ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৪

প্রকাশিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক-ঢাকা:

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও জাভা দ্বীপাঞ্চলে ছয় দশমিক আট মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে চারজনের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা।

শনিবার (৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়।

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ আগস্ট) রাতে রিখটার স্কেলে ছয় দশমিক আট মাত্রার শক্তিশালী এ ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। সাগরের তলদেশে সংঘটিত হওয়া এ ভূমিকম্পে চারজনের প্রাণহানি হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকশ’ ঘরবাড়ি।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সুমাত্রার তেলুক বেতুং শহর থেকে ২২৭ কিলোমিটার দূরবর্তী ভারত মহাসাগরে।

ভূমিকম্পের পরপরই সুনামি সতর্কতা জারি করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। যা পরবর্তী দুই ঘণ্টা পর্যন্ত ছিল। এসময় উপকূলবর্তী মানুষদের উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

 

দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার মুখপাত্র আগুস উইবোয়ো জানান, ভূমিকম্পের পর ছোটাছুটি শুরু করেন উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। এসময় চারজন নিহত ও আরও চারজন আহত হয়। এছাড়া ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২০০টিরও বেশি ভবন।
উইবোয়ো জানান, উপকূলীয় এলাকা থেকে উঁচু স্থান ও লামপুং প্রদেশের রাজ্যপালের কার্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া প্রায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ ইতোমধ্যে নিজেদের বাড়িঘরে ফিরেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ভূমিকম্পের প্রভাব পড়ে দেশটির রাজধানী জাকার্তাতেও। সে সময় জাকার্তা শহরের বাসিন্দাদের স্থানীয় উঁচু ভবনগুলো থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।

ইন্দোনেশিয়ার ভূপ্রকৃতিবিদ্যা সংস্থার বরাতে উইবোয়ো বলেন, এ অঞ্চলে ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ২০ মিটার উচ্চতার সুনামি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে কবে, কখন সেটি আঘাত হানবে তা কারো পক্ষেই বলা সম্ভব নয়। এজন্য উপকূলবর্তীসহ সব এলাকার মানুষকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

রিং অব ফায়ারে অবস্থান করায় প্রায়ই ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

২০০৪ সালে ৯.৫ মাত্রার এক ভূমিকম্পে সৃষ্ট সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ার এক লাখ ২৬ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ওই সুনামিতে ভারত মহাসাগরের উপকূলীয় অঞ্চলেরও প্রায় এক লাখ মানুষ প্রাণ হারায়।

সবশেষ ২০১৮ সালেই ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের পালু শহরে হওয়া এক সুনামিতে অন্তত চারশ’ ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটে।