ঠাকুরগাঁওয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত; ডেঙ্গুতে আতংকিত না হয়ে সচেতনতা অবলম্বন করার আহ্বান

প্রকাশিত

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি-
ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নির্ধারণী সভা করা হয়েছে ও সকলকে ডেঙ্গুতে আতংকিত না হয়ে সচেতনতা অবলম্বন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রবিবার (০৪ আগস্ট) সকাল ১১ টাই ঠাকুরগাঁয়ের জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম এর সভাপতিত্বে সাড়া দেশের ন্যায় ঠাকুরগাঁওয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নির্ধারণী ও সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে নির্ধারণী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ আ.লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেন।
এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান খোকন, আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহা: সাদেক কুরাইশী, সদর উপজেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন, উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডাঃ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল-আসাদ মোঃ মাহফুজুল ইসলাম, জেলা সহকারী কমিশনার ও অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট, শীলাব্রত কর্মকার, অমিত কুমার সাহা, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, জেলার বিভিন্ন পৌরসভার মেয়র, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তারা সহ স্থানীয় ও দলীয় নেতাকর্মীরা ।
এসময় জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সকরকারের পক্ষথেকে সকলকে, ড্রেন, নালা, খাল, জলাশয়, মজাপুকুর হতে কচুরিপানা, আবাসস্থল, অফিস, বাজারের চারপাশ, খাল নর্দমার স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় রাখা, পরিত্যক্ত নারিকেলের খোসা, প্লাস্টিক, টিনের কৌটা, টায়ার, ঘরের ভিতরের টব ইত্যাদিতে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা বংশ বিস্তার করে তাই এ সমস্ত জায়গায় পানি জমতে না দেওয়া, দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারী ব্যবহার করা, জ্বর-মাথা ব্যাথা অনুভূত হলে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ এবং পরামর্শ অনুযায়ী ঔষুধ সেবন করার আহ্বান করেন এবং জেলার সকল উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনয়ন পরিষদের, চেয়ারম্যান, মেয়র, কাউন্সিলর, ওয়ার্ড মেম্বারদের নিজ নিজ এলাকা ও ওয়ার্ড পরিচ্ছন্ন করা এবং মশা নিধনের ঔষধ প্রয়োগ করা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য আহ্বান করেন।
এছাড়াও জেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে শিক্ষকদের ও মসজিদের ইমামদের মসজিদে সচেতনতামূলক আলোচনা করার অনুরোধ করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, ডেঙ্গুতে আতংকিত হওয়ার কিছুই নেই। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করাসহ মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তাই এতে আতংকিত হবার কিছুই নেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকলকে বেশি বেশি সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে ।
এসময় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের তথ্যমতে জানান, এপর্যন্ত হাসপাতালে মোট ৩৩ জন রোগী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ জন রোগী ঠাকুরগাঁও থেকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। আর ২১ জন রোগী ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে আক্রান্ত হয়ে এসেছে। ৩৩ জন রোগীর মধ্যে ১০ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে ও ১ জন রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে রংপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়। বাকি ২২ জন রোগী ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছে।
রোগীদের সুচিকিৎসার জন্য জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষথেকে সকল ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।