আজব দুনিয়ার “গুজব” কাহীনি !

প্রকাশিত

তুহিন সারোয়ার-

গুজব তৈরি হয় কোন ঠান্ডা মাথার মস্তিষ্ক থেকে ! সেই ঠান্ডা মাথার মস্তিষ্ক গভীর ভাবে প্ল্যান করে গুজব তৈরি করে তার উদ্যেশ্য বাস্তবায়ন এর জন্য। ভাবছেন এই সামান্য গুজব !  এটা ছড়িয়ে লাভ কি ?  লাভ আছে, অনেক শক্তিশালী অস্ত্রের থেকেও বেশি কাজে দেয় গুজব।  অনেক সময় একটি যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এই গুজব। প্রতিপক্ষের সৈন্যরা বুক কাপানো গুজব শুনে যুদ্ধের আগেই অর্ধেক হেরে যায়। বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সব থেকে দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার নাম মোসাদ (MOSSAD)। বিশ্বের এক নম্বর দুর্ধর্ষ এই গোয়েন্দা সংস্থার একটি অন্যতম কাজ কি জানেন? সেটি হলো  প্রতিপক্ষ শিবিরে গুজব ছড়ানো। শুধু মোসাদ নয়,ভারতের আরেক দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার “র” (রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং)সহ  বিশ্বের সব সক্ষম গোয়েন্দা সংস্থায় এটা করে থাকে। এখন ভাবছেন গুজব তো মিথ্যা আজ না হক কাল সত্য তো প্রকাশ পাবেই,  ফলে গুজবে তো এত সমস্যা দেখিনা!! মনে রাখবেন বেশিরভাগ গুজব তৈরি করা হয় কোন উদ্দ্যেশ নিয়ে।  হ্য, কোন ঠান্ডা মাথার মস্তিষ্ক,  গভীর ভাবে প্ল্যান করে গুজব তৈরি করে তার উদ্যেশ্য বাস্তবায়ন এর জন্য।  এটা একটি পাড়া থেকে শুরু করে পুরো পৃথিবীকে কেন্দ্র করেও হতে পারে। গুজব এর যে উদ্দেশ্য তা বাস্তবায়িত হতে হয়তো অই সামান্য সময় ই যথেষ্ট যে সময়টুকুকে আপনি গুরুত্বই দিচ্ছেন না।

মনে আছে ?

 

 

ফরাসি বিপ্লবের উৎসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল গুজব।  একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেও গুজবের উপস্থিতি লক্ষণীয়।  পাক বাহিনীর মধ্যে ভীতি সঞ্চার ও সাধারণ মানুষের মনোবল বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।  মুক্তিবাহিনী কর্তৃক পাকবাহিনীর পর্যদস্তু হওয়ার নানা গুজবে সয়লাব ছিল একাত্তরের  বাংলা।  এমনকি স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের চরমপত্র থেকেও পরিবেশিত হয়েছে বীররসাত্মক নানা কল্পিত আখ্যান।  গুজবের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল ভারতের প্রথম জাতীয়তাবাদী আন্দোলন- সিপাহী বিদ্রোহ।  ব্রিটিশ সরকার এনফিল্ড নামক এক ধরনের রাইফেলের ব্যবহার শুরু করে।  এই রাইফেলের কার্তুজ পশুর চর্বি দ্বারা আবৃত থাকতো।  তখন গুজব ছড়িয়ে পড়ে কার্তুজে গরু ও শূকরের চর্বি মাখানো আছে।  দাঁত দিয়ে কেটে বন্দুকে ভরতে হতো কার্তুজ।  মুসলমান সৈনিকেরা শূকরের চর্বি এবং হিন্দু সৈনিকেরা গরুর চর্বি মুখে নেওয়ার গুজবে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।  এর ধারাবাহিকতায় সংগঠিত হয় ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ।

যেমন ইরাকে দেখুন,  গুজব ছড়ান হল ইরাকে গনবিদ্ধংসী অস্ত্র আছে, আক্রমন চালানো হল, সাদ্দাম হোসেন কে ফাসি দেয়া হল,  এখন বলা হচ্ছে তেমন কোন অস্ত্র ছিলনা।  তাহলে কি হল বিষয়টা,  হ্য সত্য তো প্রকাশ পেলই কিন্তু মাঝখান দিয়ে একটি দেশ ধংস হয়ে গেল। শেষ কথা, প্রতিটা গুজবেরই একটি উদ্দ্যেশ্য আছে।  কোন ঠান্ডা মাথা আপনাকে নিয়ে খেলছে।  ইতিহাসের অন্য ঘটনার মত আবারো দেশটাকে রসাতলে পাঠাবেন নাকি নিজের যুক্তিবুদ্ধি কাজে লাগিয়ে দেশটাকে বাঁচাবেন?  সিদ্ধান্ত আপনার।

গুজবে কান দেবেন না। গুজব ছড়াবেনও না। ভুয়া খবর, ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করা আইনের চোখে অপরাধ।