দেখার কেউ নেই-নওগাঁ ধামুইরহাট কাগজকুটা গ্রামের ভুমিহীন আদিবাসীদের মানবেতর জীবন

প্রকাশিত

হাবিবঃ নওগাঁ জেলার ধামুইরহাট উপজেলার আলামপুর ইউ,পির চৌঘাট মৌজার কাগজকুটা গ্রামের ভুমিহীন আদিবাসীরা মানবেতর যাপন করছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৩৬ টি পরিবার নিয়ে এই ভুমিহীন আদিবাসী পাড়া গঠিত। জন সংখ্যা সর্বমোট ১৪২ জন। প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস পূর্বে উক্ত ইউনিয়নের রাজনৈতিক এক নেতা ভুমি দখলদার মোঃ মোশারফ হোসেন (মিষ্টার) সহ তার পালিত সন্ত্রাসীদের লাগিয়ে রাতের আঁধারে পেট্রোল দিয়ে পুরো পাড়ায় আগুন লাগিয়ে দিয়ে, ভুমিহীন আদিবাসী মহিলা পুরুষ ছোট,বড়,শিশু,বৃদ্ধ সবাইকে মারপিট করে ঐ পাড়া থেকে বের করে দিয়ে দখলে নেওয়ার জোর চেষ্ঠা চালায়। ঐ দিনে সকালে একজন বাদী হয়ে ধামুইরহাট থানায় মামলা করতে গেলে, ওসি জাকিরুল মামলা না নিয়ে বাড়ীতে ফিরে যেতে বলে। পরবর্তীতে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম,প্রিন্ট মিডিয়া,ইলেট্রিক মিডিয়া,অনলাইনে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ফোন করে ডেকে নিয়ে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহন করে। এবং প্রধান আসামীকে ফোন করে থানায় ডেকে নিয়ে গ্রেফতার করে জেল-হাজতে প্রেরন করে। নওগাঁ জেলা প্রশাসক জনাব,মিজানুর রহমান সাহেব সেখানে গিয়ে প্রতিটি পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল ও ৫ হাজার করে টাকা দেন। এবং আশ্বাস দিয়ে ছিলেন,সরকার থেকে তাদের ঘর আবারও বানিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান সাহেব বদলি হয়ে যান এবং প্রবল বর্ষাও শুরু হয়ে যায়। এই প্রচন্ড বর্ষার ফলে তাদের কষ্ট বানানো ঘর- বাড়ী গুলোর ভিতর পানি ডুকে একদম বসবাসের অযোগ্য হয়ে যায়। ঘরের মধ্য পানি কাদা হওয়ায় মাচা বানিয়ে রাত হলে গাদাগাদি করে থাকে। বাড়ীর গুলোর বারান্দা পর্যুন্ত পানিতে উঠে গেছে। মশার উপদ্রপও বেড়ে গিয়েছে। একদিন কাজ না করলে তাদের খাবার জোটে না। বাড়ীর কাজ করবে না অন্য লোকের কাজ করে নিজে সহ পরিবার বাঁচাবে। সেখানে খাবার পানির জন্য একটি টিউবওয়েল পর্যুন্ত নেই। এদিকে সেই মোশারফ হোসেন মিষ্টারের মারপিটে এখনো দু,জন মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে টাকার অভাবে ঔষধ কিনতে পারছে না। ভুমিহীন আদিবাসীরা অভিযোগ করে বলে, এলাকার কোন চেয়ারম্যান, মেম্বারও খোঁজ-খবর নেয় না বা দেখতেও আসে না। চেয়ারম্যানের কাছে একাধিকবার ফোন দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে ভুমিহীন আদিবাসীরা আরো জানায়, মোশারফ হোসেন মিষ্টার গত ১০/৭/২০১৯ ইং রোজ বুধবার দৈনিক করোতোয়া পত্রিকায় মিথ্যা, বানোয়াট,মনগড়া ও আমাদের এখান থেকে উৎখাত করার হীন-মানুষিকতায় ধামুইরহাটে বিত্তশালীরা ভুমিহীন সেজে খাস বা আমার জমি দখল নামে এক খবর ছাপিয়েছে। আমরা অশিক্ষিত, মুর্খ মানুষ আজ থেকে কয়েক দিন আগে জানতে পেরেছি। আমারা সকল ভুমিহীন আদিবাসীরা ঐ খবরের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। তারা বলে, আমরা দিন আনি, দিন খাই। আমাদের এই কোন রকম মাথা গোঁজার ঠাঁই এর উপর ঐ ভুমি দস্যু মোশারফ হোসেন মিষ্টারের নজর পড়েছে। এদিকে ভুমিহীন আদিবাসীদের ৫টি মৌলিক চাহিদার মধ্য থাকা,খাওয়া,শিক্ষা, চিকিৎসা এই ৪টি খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে।