মনোহরদীতে খাবার অযোগ্য ভিজিএফ চাল,অবরুদ্ধ খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা

প্রকাশিত

মাহবুবুর রহমান, প্রতিনিধি মনোহরদী (নরসিংদী) –
নরসিংদীর মনোহরদী পৌরসভায় পবিত্র ঈদুর আজহা উপলক্ষে ভিজিএফ কার্ডধারী দরিদ্র মানুষের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য খাদ্য গুদাম থেকে পোঁকায় ধরা ও পাথরযুক্ত, নি¤œমানের এবং খাবার অযোগ্য চাল সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকালে এই চাল বিতরনের সময় ভিজিএফ কার্ডধারীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মনোহরদী পৌর মেয়র মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ সুজন খাদ্য গুদাম থেকে পাঠানো ৪৬.২১৫ মেট্রিক টন চাল ফেরৎ দিয়েছেন। খবর পেয়ে খাদ্য পরিদর্শক ও খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলী আজহার মনোহরদী পৌরসভায় আসেন। এসময় চাল নিতে আসা কার্ডধারীরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকার পর পুনরায় গুদাম থেকে ভালোমানের চাল এনে কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
এদিকে উপজেলার শুকুন্দী, চন্দনবাড়ী, একদুয়ারিয়া, লেবুতলা, দৌলতপুর, কাচিকাটা, গোতাশিয়াসহ ১২টি ইউনিয়নেও এমন পোঁকায় ধরা চাল খাদ্য গুদাম থেকে সরবরাহ করা হয়। বাধ্য হয়ে এসব চাল নেয়ার সময় কার্ডধারীরা নি¤œমানের চাল সরবরাহে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারের বরাদ্ধ দেয়া বিনামূল্যের ভিজিএফ চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। ঈদের আগেই এসব চাল বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে। প্রত্যেক কার্ডধারীরা বিনা মূলে ১৫ কেজি চাল পাবেন। সে অনুযায়ী মনোহরদী পৌরসভার তিন হাজার ৮১ জন ভিজিএফ কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণের জন্য পাওয়া বরাদ্দের অংশ হিসেবে এই চাল পৌরসভায় পাঠানো হয়েছিলো।
জানা যায়, মনোহরদী পৌরসভা ও ১২ টি ইউনিয়নে ২৮৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়। মঙ্গলবার ১২ ইউনিয়ন ও মনোহরদী পৌরসভায় চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। মনোহরদী পৌরসভায় চাল বিতরণের সময় কার্ডধারীরা চালে পোকা ও পাথর দেখতে পেয়ে তা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে পৌর মেয়র মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ সুজন পোকা ও পাথরযুক্ত নিন্মমানের চাল দেখতে পেয়ে চাল বিতরণ কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখেন।
মনোহরদী পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ সুজন জানান, ‘মনোহরদী পৌর এলাকার ভিজিএফ কার্ডধারীদের মাঝে ঈদুল আহজার আগে কার্ডপ্রতি ১৫ কেজি করে চাল বিতরণ করার কথা। সে অনুযায়ী উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে চাল পাঠানোর পর বস্তা খোলা হলে চালে প্রচুর পোঁকা পাওয়া যায় এবং তা অতি নিম্নমান ও খাবার অনুপযোগী। এসব চাল পৌরবাসীর মাঝে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করলে তারা প্রতিবাদ করেন। পরে এসব চাল ফেরৎ পাঠালে গুদাম কর্তৃপক্ষ ভালেমানের চাল সরবরাহ করেন।’
জানা যায়, চাল ক্রয় অভিযান চলাকালে অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কম দামে পোঁকায় ধরা চাল সংগ্রহ করে খাদ্য গুদামে রাখা হয়। নীতিমালা লঙ্ঘন করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আকবর হোসেন মিয়া ও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো. আলী আজহার যোগসাজসে অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উৎকোচ নিয়ে ওই চাল কিনেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
চালের মানের বিষয়ে উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ও খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলী আজহারকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘এই চাল প্রায় এক বছর আগে গুদামে ঢুকানো হয়েছে। তবে এসব চালে কোন দুর্গন্ধ নেই। তাছাড়া এসব চাল খাবার উপযোগী।’
আলী আজহার আরও বলেন, ‘মনোহরদী পৌরসভার বরাদ্দের মধ্যে সোমবার যে ৪৬.২১৫ মেট্রিক টন চাল পাঠানো হয়েছিলো তার মধ্যে কয়েকটি বস্তার চালে একটু সাদাটে ভাব ছিলো। দীর্ঘদিন খাদ্যগুদামে থাকার কারণে এই সমস্যা তৈরী হয়েছে। মেয়র মহোদয়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা এগুলো বদলে অন্য চাল দিয়েছি।’
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আকবর হোসেন মিয়ার কার্যালয়ে গিয়ে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহিন আফজাল বলেন, ‘পোঁকায় ধরা ভিজিএফ চাল বিতরণের বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এমনটি ঘটে থাকে তাহলে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’