বড়াইগ্রামের নগর ইউনিয়নে দুস্থদের চাল আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশিত

নাটোর প্রতিনিধি-
নাটোরের বড়াইগ্রামের নগর ইউনিয়নে ওজনে কম দিয়ে দুস্থদের চাল আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে সরকার ঘোষিত দুস্থ ও গরীব পরিবারে পরিবারপ্রতি ১৫ কেজি চাল বিনামূল্যে বিতরণ কর্মসূচী শুরু হয়। সোমবার নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এই কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে নগর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চাল বিতরণ করা হয়। কিন্তু সেখানে ১৫ কেজি চালের পরিবর্তে দেয়া হয়েছে ১২ থেকে সবোর্চ্চ ১৩ কেজি ২০০ গ্রাম চাল। নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন চাল নিতে আসা দুস্থ ও গরীব মানুষেরা।
ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চাল নিয়ে দুপুর ২টার দিকে ফেরার পথে ধানাইদহ বাজারে শুকদেব কুন্ডুর মিল ঘরে ডিজিটাল পরিমাপ যন্ত্রে গৃহিত ও কথিত ১৫ কেজি চাল মাপতে আসে গোলাম মোস্তফা, মলিনা বেগম, সামসুন্নাহার, জানু বেগম, রবিউল করিম, আনিসুর, সবেদা বেগম, কমেলা বেগম, সামেলা বেগম, সুরমা বেগম, ভাসান মোল্লা, জাহেদা খাতুন, শহিদুল, সিরাজুল, রাজ্জাক, রিপন সহ অনেকে। তাদের বাড়ি ওই ইউনিয়নের বাঘাট, মেরিগাছা, মহানন্দগাছা ও কুমারখালী গ্রামে। চাল পরিমাপ করে দেখতে পায় কেউ পেয়েছে ১২ কেজি, কেউ ১২ কেজি ৪০০ গ্রাম, কেউবা ১২ কেজি ৭২০ গ্রাম আবার কেউবা ১৩ কেজি ২০০ গ্রাম চাল। চাল মেপে অনেকে মন খারাপ করে বাড়ির পথে রওনা দেয় আবার কেউ কেউ প্রতিবাদ করতে ছুটে যায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে। কিন্তু কোন কিছুতেই লাভ হয় না তাদের। যারা চাল মেপে দিচ্ছিলো তারা জানায়, বস্তায় চাল কম এসেছে। আবার কেউবা জানায় চাল এভাবে মেপে দিতে দিতে ঘাটতি দেখা দেয় এবং সে ঘাটতি পূরণ করতে চাল কম দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান নিলুফার ইয়াসমিন ডালু জানান, আলম মেম্বার এই কাজটি করেছে। তবে কেন করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার পারভেজ জানান, এখন পর্যন্ত সুবিধাভোগী কেউ এ বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে আসেনি। তবে যেহেতু এখন শুনলাম, বিষয়টি আমি গুরুত্ব সহকারে দেখবো।