সংস্কারের অভাবে বিলুপ্ত হতে চলেছে অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের বাড়ী

প্রকাশিত

এ.এম উবায়েদ, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি-

সংস্কারের অভাবে বিলুপ্ত হতে চলেছে সাহিত্যিক-ছড়াকার সুকুমার রায় ও উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর স্মৃতি বিজরিত কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া জমিদার বাড়ি বা সত্যজিৎ রায়ের বাড়ী।

কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলা থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে মসুয়া গ্রামে অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়ি রয়েছে। এক সময় এই বাড়িটিকে পূর্ব বাংলার জোড়াসাঁকো বলে অভিহিত করা হতো। এই বাড়িতেই প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী ও সুকুমার রায় চৌধুরী জন্মেছেন। সত্যজিৎ রায় কোনোদিন পৈতৃক বাড়িতে না
আসলেও পারিবারিক ঐতিহ্য তাকে গভীর ভাবে প্রভাবিত করেছে তাই বাংলাদেশের সঙ্গে ছিল তাঁর হৃদয়ের টান।

বাড়ির ভেতরে রয়েছে কারুকার্যময় প্রাচীন দালান, বাগানবাড়ি, হাতির পুকুর, খেলার মাঠ। বাড়ির পেছনে রয়েছে ছোট একটি পুকুর আর মূল ফটকের বাইরে রয়েছে শান বাধানো একটি পুকুর ঘাট। সত্যজিৎ রায়ের পিতামহের স্মৃতিমাখা এই বাড়িটি বর্তমানে সরকারের রাজস্ব বিভাগের তত্ত্বাবধায়নে আছে। এই বাড়ির চারপাশকে চিহ্নিত করা হয়েছে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে। জীর্ণশীর্ণ বাড়ির দরবার ঘর বর্তমানে মসূয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০১২ সালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে একটি রেস্ট হাউজ নির্মাণসহ সীমানা প্রাচীর ও রাস্থাঘাট সংস্কার করা হয় যা প্রয়োজনের অনুযায়ী যৎসামান্য বর্তমানে সমগ্র বাড়ীটি সংস্কার করে পর্যটনের কেন্দ্র গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবী।

 

 

ইতোমধ্যে জমিদার বাড়ির সরকারী মালিকানাধীন বিপুল পরিমাণ জমি বেদখল হয়ে গেছে। এলাকাবাসীর দাবী বাড়িটির সংস্কার করে এখানে একটি পর্যটন এলাকা গড়ে তোলা। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে বাঙালি সংস্কৃতিকে বিশ্বের মানচিত্রে যারা পরিচিত করে তুলেছিলেন, কটিয়াদি উপজেলার মসূয়া গ্রামের রায় পরিবার হচ্ছে তাদের মধ্যে অন্যতম। রায় পরিবারের উজ্জল নক্ষত্র তিন পুরুষেরা। বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে পরিচিত তাদেরই একজন বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক ও মুদ্রণ শিল্পী উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী।

তারই অগ্রজ প্রখ্যাত ছড়াকার তৎকালীন সন্দেশ পত্রিকার স¤পাদক সুকুমার রায় ও চলচিত্রে অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্রকার সত্যজিত রায়। এদের বংধরেরা কেউ বর্তমানে এ দেশে না থাকলেও রয়েছে তাদের পৈত্রিক ভিটা জরার্জীণ দালানকোটা। সুষ্ঠু রক্ষনাবেক্ষন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে আজ হারাতে বসেছে রাজবাড়ির সম্মৃদ্ধি আর ইতিহাস-ঐতিহ্য। এখানে ঘুরতে আসা বিভিন্ন শ্রেনী পেশার পর্যটক আগ্রহরে সাথে আসলেও বাড়ীটির দুরবস্থা দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যান।

শৈল্পিক সৌন্দর্য্যরে দালানকোটা ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ছে। পাশের সুপেয় পানীর কুয়াটিও ধ্বংসের পথে। বাড়ীর সাইনর্বোডটিও অস্পষ্ট। বাড়িটির ভিতরেও আগাছা আর ঝোপঝারে পরিপূর্ণ। দ্বিতলার সিড়িটিতে যেন তাদের পায়ের ¯র্পশের ছাপ এখোনো লেগে আছে। দালানের পশ্চিম পাশের উপড়ের দিকে একটি বটবৃক্ষই প্রমাণ করে দালানটি কত অবহেলার, এর ভেতর থেকে ভাংগা দিয়ে পুরো পৃথিবী দেখা যায়, জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে পড়েছে দ্বিতল প্রাসাদটি ।

এখানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- কালের বিবর্তে অনাদর অবহেলায় পড়ে থেকে সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আজ হারাতে বসেছে জমিদারবাড়ির সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য, স্থাবর অস্থাবর স¤পদ ও স¤পত্তি । একসময় প্রায় দুই একর আয়তন ছিল জমিদারবাড়িটি। বর্তমানে বিশাল পুকুর এবং মূলবাড়িটি সরকারের মালিকানাধীন থাকলেও প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে রাজবাড়ির বেশিরভাগ জমি। স্থানীয় অধিবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায় বেহাত হয়ে যাওয়া এই জমিগুলো উদ্ধার করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে দেশ বিদেশী পর্যটক যেমন আসবে তেমনি সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি