ঈদের দিন গোশতের জন্য টাউনে যাইমু-সুনামগঞ্জের হতদরিদ্র হাওড়রে নারীরা

প্রকাশিত

রুজেল আহমদ,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি-
সুনামগঞ্জ হতদরিদ্র হাওড়রে নারীরা ঈদের দিন সকালে গোসল করে নামাজ পড়ে গোশতের জন্য বটি দা, ভুজাইলয়া (চাপাতি) টাউন যাইমু। মাইনসের গরু কাটইট্টা(কেটে) দিলে কিছু গোশতো দেয় এগুলো লইয়া (নিয়ে) বিকালে বাড়িত আইমু (আসবো) রাইতে (রাতে) হগলে (সবাই) লইয়া (নিয়ে) খাইমু। সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের দামপাড়া গ্রামের দিনমজুর দিলোয়ার হোসেন ঈদের গোশত বিষয়ে কথা বলেন। পাশেই দাঁড়ানো ঈদের কোরবানি নিয়ে আশরাফ আলী বলেন দামপাড়া গ্রামের লন্ডন প্রবাসী একটি গরু কোরবানি দেয় এজন্য গ্রামের সবাই গোশত পায় না। তাই মাংসের জন্য তারা সকাল হতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। বিকেলে মাংস নিয়ে বাড়ি আসেন রাতে খাবার খান। ৫ সন্তানের জননী আলতাবুন্নেচ্ছা বলেন, আশপাশের কয়েক গেরাম ঘুইরা সিন্নির মতো মাংস মিলে এগুলো দিয়ে একবেলার তরকারি হয় না তাই গ্রামের গরীব মানুষ শহরে আসেন মাংস পাওয়ার আশায়। একই গ্রামের আব্দুল হান্নান বলেন , গ্রামের বেশির ভাগ লোক দিনমজুর, কৃষিকাজ বালিপাথর উত্তোলন করে সংসার চালায়। তাই কোরবানি দেয়ার সামর্থ নেই। ধনীরা কোরবানি দিলে তারা মাংস পান না দিলে পান না। গৃহিনী রহিমা খাতুন বলেন, তার ৭ জন ছেলে মেয়ে । ছেলেরা কেউ পড়ালেখা করেনি। সবাই নদীতে বালি লোড আনলোডের কাজ করেন। পরপর দুই বার বন্যায় তার বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই এবার তিনি ঈদের আগের দিন বাজার থেকে পোল্ট্রি মুরগির কিনে আনবেন ঈদের দিন রান্না করে সবাইকে নিয়ে নিজ হাতে খাওয়াবেন। একই গ্রামের সুকেশ দাস বলেন, গ্রামের হিন্দু মুসলমান সম্প্রতির মধ্যে বসবাস করেন। বেশির ভাগ লোক দিনমজুর তাই কোরবানি দিতে পারে না। এক টুকরো মাংসের জন্য ঈদের দিন শহরে চলে আসেন। গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যার ফুল মিয়া বলেন গৌরারং ইউনিয়নে ৫৬ টি ছোট বড়ো গ্রাম রয়েছে। এসব গ্রামে ২৯ হাজার ভোটার রয়েছেন। লোকসংখ্যা ৪৫ হাজার। ইউনিয়নের বেশির ভাগ মানুৃষ শ্রমজীবি। ঈদ উপলক্ষ্যে ইউনিয়নের ৩ হাজার ২১০জনকে ১৫ কেজি করে বিশেষ ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে। ঈদের পর দিন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইসলামিক রিলিফ ও আরেকটি সংস্থার উদ্যোগে ১১ টি গরু জবাই করে ২৮১ জন দরিদ্র মানুষের মধ্যে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হবে।