দগদগে আগুনে ওস্তাদ-সার্গেদের পিটাপিটি মুখর কামার পল্লী

প্রকাশিত

আসাদুল ইসলাম সবুজ, লালমনিরহাট- বাপ-দাদার আমল থেকে কামারী কাজ করি। সারা বছর এই একটা দিনের (ঈদুল আযহার ঈদ) এর জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষায় থাকি। কারণ, ঈদুল আযহার ঈদে মাংস কাটতে লোহার তৈরি কামারী সরঞ্জাম বিক্রি হয় বেশি। তাই দগদগে আগুনে গরম লোহা ওস্তাদ-সার্গেদের পিটাপিটিতে মুখর হয়ে উঠেছে লালমনিরহাটের বনগ্রামের কামার পল্লী। ঈদ কে সামনে রেখে পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর এসব কথা বলেছেন, কামার শ্রমিক তারা বাবু (৪৫)। তার বাড়ি লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের বনগ্রামে কামার পল্লীতে।
ওই এলাকার শুধু তারা বাবু নয়, আবু তাহের (৫০) ও আঃ রসুল (৬৫) সহ প্রায় ৮/১০টি পরিবার পশু জবাই সরঞ্জাম প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জানা গেছে, মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম ঈদুল আযহা। আর মাত্র ২ দিন পরেই কুরবানির ঈদ। এই ঈদের অন্যতম কাজ হচ্ছে পশু কুরবানি করা। দগদগে কলার আগুনে গরম লোহা ওস্তাদ-সার্গেদের পিটাপিটিতে মুখর কামারী সরঞ্জাম তৈরিতে আধুনিকতার কোন ছোঁয়া লাগেনি। পুরানো সেকালের বাপ-দাদার আমলে নিয়মেই চলছে আগুনে পুড়ে লোহা হতে ধারালো সামগ্রী তৈরির কাজ।
বিগত মাস গুলো কামার শ্রমিকরা অলস সময় পার করলেও এই মুহুর্ত্বে তারা খুবেই ব্যস্থ। দগদগে কলার আগুনে গরম লোহা ওস্তাদ-সার্গেদের পিটাপিটিতে মুখর হয়ে উঠেছে লালমনিরহাটের বনগ্রামের কামার পল্লী। প্রস্তুত করছেন, দা-বঁটি, চাপাতি, চামড়া ছাড়ানোর ছুরি, চাপাতি, পস্টিক ম্যাট, চাটাই। এছাড়াও দা, কাস্তে, হাঁসুয়া, পাসুন, বাঁশিলা, কুড়ালও তৈরিসহ এখন যুক্ত হয়েছে, স্টিলের ছুরি চাকুও।
তবে দ্রব্য মূল্যের দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় কামারী সরঞ্জামের দাম অনেকটাই বেড়েছে এবং বেচাকেনাও হচ্ছে। লোহার তৈরি ছোট ছুরি ৬০ থেকে ২০০ টাকা, গরু জবাই ছুরি ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং বিভিন্ন সাইজের লোহার তৈরি সরঞ্জাম আকার ভেদ দরে পাওয়া যাচ্ছে।
শুক্রবার (৯ আগষ্ট) বিকালে লালমনিরহাটের নয়ারহাটে ছুরি ও চাপাতি দোকানদার আবু তাহের বলেন, আমি দেখেছি, আমার বাপ-দাদারাও এই কামারী কাজ করেছেন। তাই আমিও এই কামারী কাজ করছি। সরকারী ভাবে আমার বাপ-দাদারাও কোন সুবিধা পায়নি, আমিও পাইনি।
আমাদের কুলাঘাট ইউনিয়নের বনগ্রাম কামার পল্লীর কামারীরা কোন দিন কোন সরকারী সুবিধা পায়নি। তাই সারা বছর বেচাকেনা কম থাকে। কোনো রকম পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন যায়। বর্তমান অনেকে এপেশা ছেড়ে দিয়েছে। শুধুমাত্র কুরবানির ঈদের সময়ের জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকি।
নয়ারহাটে কামারী সামগ্রী তৈরি শ্রমিক আঃ রসুল বলেন, সারা বছর গ্রামের মানুষের বাড়ির কাজের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বেচাকেনা করি। তা দিয়ে কোনো রকম দিন যায়। কুরবানির ঈদের আগে এক সপ্তাহ ভালো বেচা কেনা হয়। ওই সময় দামও ভালো পাওয়া যায়। তাই কুরবানির ঈদের সময়ের জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকি, আমরা বনগ্রাম কামার পল্লীর প্রায় ৮/১০টি পরিবার।
কামারী সামগ্রী ক্রেতা আঃ জব্বার মিয়া বলেন, নয়ারহাটে পশু কিনেছি এবং তা জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার কাজটি এর ফাঁকে সেরে ফেললাম। তবে অন্য বছরের চেয়ে এবার ছুরি, চাকুর দাম একটু বেশি বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে।